সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ০৭ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

সারা বাংলার খবর

৭২ এর সংবিধান আমাদেরকে আলো দেখায় এবং অসাম্প্রদায়িক চলার পথ তৈরী করার জন্য শক্তি যোগায়-নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

বিরল (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪:৪৮ পিএম

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম,পি বলেছেন, আওয়ামীলীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় একটি মানবিক সংগঠন। আর সেটা এবঙ্গের মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছিলো বলেই মাত্র ২৩ বছরে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অসম্প্রদায়িক দৃষ্টি ভঙ্গিতে সকল জাতি গোষ্ঠিকে তার পিছনে নিয়ে এসেছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মুক্তিকামি মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিলো। বঙ্গবন্ধু দেয়া বাংলাদেশের ৭২ এর সংবিধান আমাদেরকে আলো দেখায় এবং অসম্প্রদায়িক চলার পথ তৈরী করার জন্য শক্তি যোগায়। সেই পথ যাত্রা স্বাধীনতা বিরোধীরা ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা কান্ডের মাধ্যেমে থামিয়ে দিয়েছিলো। এরপর আবার এদেশে সেই ইংরেজ বা পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িকতার ভাব ধারা ফিরিয়ে আনা হয়েছিলো এবং ইংরেজদের কায়দায় বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিলো। ক্ষমতালোভীদের কাছে আমরা জাতির কোন কল্যাণ দেখিনাই। আমরা দেখেছি লুটপাট, সংঘাত, হানাহানি, মিথ্যাচার ,বিভক্তি ও শ্রেণী বৈষম্য। ফলে এদেশের উন্নয়সহ শিক্ষা স্বাস্থ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হয় নাই এবং দেশ এগিয়ে যাবার রুপকল্প কোনটাই হয় নাই। শুধু দেখেছি সংঘাত আর সংঘত। কিভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। কিভাবে একটি ধর্মের সাথে আর একটি ধর্মকে উস্কে দিয়ে একটি সংঘাত তৈরি করে নিজের চেয়ারকে ঠিক রাখা যায়, এদেশের মানুষ সেটাই দেখেছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সম্প্রীতির পথে হাটছে বলেই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামনে রেখে ২০১৪ সালে দারিদ্রতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছি। তার নেতৃত্বে এদেশ একটি উন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিনত হবে।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলা পরিষদের হলরুমে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিরল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনকে সুসংহত রাখতে এক সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।
তিনি বিলেন, ইংরেজরা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়েছিল। যে দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। ধর্মীয় বিভক্তি জায়েজ করার জন্যই তারা এই অপরাধ করেছিলো। সে সময় যারা রাজনীতিবীদ ছিলেন, তাদেরও অনেক ভুল ছিলো, সেই ভুলের খেসারত ভারত বর্ষকে দিতে হয়েছে এবং দুইটি ধর্মীয় দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে এই ভারত বর্ষ বিভক্ত হয়েছে। যার একটি ছিলো পাকিস্তান। সেই জায়গা থেকে শুরু করে এই পূর্ববঙ্গের মানুষ অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ ১৯৪৭ সালে যাত্রা শুরু করেছিলো। শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে এই বিভক্তি স্বাধীনতা আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা নয়। এই স্বাধীনতা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভ’মিকা রাখবেনা। আমাকে মানুষ হিসাবে দাড় করে রাখার মত সক্ষমতা শক্তি এই স্বাধীনতার নাই এবং এই স্বাধীনতার বিশ্ব সভ্যতার কাফেলায় অন্তভর্’ক্তি করার শক্তিনাই। সেই সময় তরুণ ছাত্রনেতা যুবনেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এইসব বিষয় উপলব্ধি করে বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন। আর এসবের বিরুদ্ধে দাড়ানোর কারণে পাকিস্তানি শাষকগোষ্ঠি মাত্র ১ বছরের মাথায় শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে তাদের কারাগারে নিয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় এই জনগোষ্ঠিকে সংগঠিত করার জন্য এবং সঠিক আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি তার বিচক্ষণতা দিয়ে প্রথমে তিনি শিক্ষিত জনগোষ্ঠি নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী তৈরী করেছিনে ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান ছাত্র লীগ। এর পরেই যারা অসম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলতে চায় এবং সাম্প্রদায়িক শাষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাড়াতে চায় তাদেরকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিলো মুসলিম আওয়ামীলীগ এবং ধিরে ধিরে ভাষার দাবী থেকে শুরু করে ১৯৫৫ সালে এসে মুসলিম আওয়ামীলীগ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি মানবিক ও অসম্প্রদায়িক দল। আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় থাকে তখন দেশের মানুষ নিরাপদে ও শান্তিতে থাকে।

সমাবেশে বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ আফছানা কাওছারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, বিরল পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব সবুজার সিদ্দিক সাগর, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রমাকান্ত রায় । অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিরল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মনছুর আলী, বিরল প্রেসক্লাবের সভাপতি এম, এ কুদ্দুস সরকার ও শ্রীময় ভ্রান্তে সুশীল প্রিয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিরল উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার শফিউল হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিরল উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, ৯৫টি দুর্গামন্ডব কমিটির নেতৃবৃন্দ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ উপজেলা শাখার আয়োজনে, বিরল উপজেলার ৯৫টি দুর্গামন্ডবে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারী অনুদানের অর্থ বিতরণ করেন প্রধান অতিথি নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
admin ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:৩১ পিএম says : 0
মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দু সম্প্রদায় আছে থাকবে চিরকাল
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন