‍বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯ ফাল্গুন ১৪৩০, ১১ শাবান সানি ১৪৪৫ হিজরী

সাহিত্য

শ্বাসকষ্টে ইনহেলার এবং স্পেসারের ব্যবহার

ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল | প্রকাশের সময় : ৪ নভেম্বর, ২০২২, ১:২২ এএম

শ্বাসকষ্টের নানা সমস্যার জন্য শিশু এবং বয়স্ক অনেকেই ইনহেলার কিংবা স্পেসার ব্যবহার করে থাকেন। এইসব উপকরণে কিছু ওষুধ সরাসরি শ্বাসনালীর মাংসপেশির উপর কাজ করে আবার কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও কষ্ট উপশম করে। একই ধরণের ওষুধ, ধরুন সালবিউটামল মুখে খাওয়া যায় (সিরাপ বা ট্যাবলেট), নেবুলাইজারের মাধ্যমে নেওয়া যায়, আবার ইনহেলার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। কোনটি সবচেয়ে ভালো, এই প্রশ্ন সব রোগীর।

শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞগণ ইনহেলার জাতীয় ওষুধের অধিক কার্যকারিতা, তুলনামূলক কম মাত্রা, কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং সবচেয়ে ভালো ফলাফলের কথা বলে থাকেন। সারা পৃথিবীতে হাঁপানির চিকিৎসায় কিছু স্টেপ বা ধাপ অনুসরণ করা হয়। এইসব ধাপে ইনহেলার জাতীয় ওষুধ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনার ঘরে শ্বাসকষ্টের রোগী থাকে, আর তার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইনহেলারের কথা বলে থাকেন, তাহলে অমূলক ভয় দূর করে এর ব্যবহার শিখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

১। ওষুধের মেয়াদ যাচাই করে নিন। প্রথমবার (এবং অনেকদিন অব্যবহৃত থাকলে) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইনহেলারের মুখের ঢাকনাটির দুই পাশে আলতো চাপ দিয়ে খুলে, ভাল ভাবে ঝাঁকিয়ে, পরপর দু’বার বাতাসে ওষুধ বের করে নিশ্চিত হোন যন্ত্রটি কাজ করছে।

২। আঙুলের সাহায্যে ইনহেলারটি সোজা করে ধরুন। বৃদ্ধাঙ্গুল মাউথ পিসের নিচে থাকবে।
৩। জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন। তারপর মাউথ পিসটি মুখের ভিতরে প্রবেশ করান এবং ঠোঁট বন্ধ করুন। মাউথ পিসে যেন দাঁতের কামড় না পড়ে।

৪। এবার নিঃশ্বাস নিতে শুরু করুন, ইনহেলারের উপর তর্জনী দিয়ে চাপ দিন যাতে ওষুধ বের হয়ে আসে। নিঃশ্বাস টানতে থাকুন গভীরভাবে যেন একইসাথে ওষুধ ভিতরে প্রবেশ করে।

৫। শ্বাস ধরে রাখা অবস্থায় ইনহেলারটি মুখ থেকে বের করুন এবং কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস ধরে রাখুন। একাধিকবার ওষুধ নিতে হলে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে একই নিয়ম অনুসরণ করুন।
৬। পানি দিয়ে কুলি করে ফেলুন। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে পর কুলি না করলে ক্যান্ডিডা নামক ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। মুখে ঘা, গলার স্বর মোটা হয়ে যেতে পারে।

এখন আসি স্পেসারের কথায়। এটি প্লাস্টিকের তৈরি নল বা বোতলের মত একটি চেম্বার বা ফাঁপা জায়গা, যেটি ইনহেলার থেকে আগত ওষুধ ধরে রেখে শ্বাস গ্রহনের সময় ভিতরে টেনে নিতে সাহায্য করে। এটিতে একমুখী একটি ভাল্ব থাকে যা ওষুধ শুধুমাত্র শ্বাস নেওয়ার সময় খুলে যায়, আর শ্বাস ফেলার সময় বন্ধ হয়ে যায়।

১। ইনহেলারটি ঝাঁকিয়ে স্পেসারের ছিদ্রে লাগান। ইনহেলারে জোরে চাপ দিন। এতে ওষুধ স্পেসারে ঢুকে গেল।
২। জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন, স্পেসারের মাউথ পিসটি মুখের ভিতরে প্রবেশ করান এবং ধীরে ধীরে লম্বা নিঃশ্বাস নিতে শুরু করুন।

৩। স্পেসারের ভেতরে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ওষুধ ভাসমান অবস্থায় রক্ষিত থাকার কারণে একইসাথে শ্বাস নেওয়া ও ইনহেলারের ক্যানিস্টার চাপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বেশি শ্বাসকষ্টে সময় নিয়ে শ্বাস নিতে পারবেন।
৪। অন্তত ৫ বার স্পেসার থেকে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। প্রয়োজনে একইভাবে আবার ওষুধ নিন।
৫। পানি দিয়ে কুলি করে ফেলুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে এবং অতিরিক্ত শ্বাসকষ্টে শুধুমাত্র ইনহেলারের চেয়ে স্পেসার ব্যবহার করলে দ্বিগুণ ওষুধ ফুসফুসে প্রবেশ করে। ওষুধের কার্যকারিতা এবং রোগের উন্নতি বেড়ে যায়। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের জন্য মুখে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়না বললেই চলে।

সবশেষে এগুলোর পরিচ্ছন্নতা সম্বন্ধে জানা দরকার। সপ্তাহে অন্তত একবার ইনহেলার পরিস্কার করতে হবে। এজন্য প্লাস্টিকের খাপ থেকে ধাতব ক্যানিস্টার এবং মাউথ পিসের ঢাকনা খুলে ফেলুন। মৃদু গরম পানির ধারার নিচে অ্যাকচুয়েটর’টি ধরুন, ধুয়ে ফেলুন এবং শুকিয়ে ফেলুন। ধাতব ক্যানিস্টার এবং মাউথ পিসের ঢাকনা স্বস্থানে বসিয়ে দিন।

ডাঃ আহাদ আদনান
রেজিস্ট্রার (শিশু বিভাগ),
আইসিএমএইচ, মাতুয়াইল, ঢাকা।


ভুলে যাওয়া রোগ আলঝেইমার’স
আলঝেইমার’স ডিজিজ। অনেক সময় শুধু আলঝেইমার’স বলা হয়। রোগটিতে স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসুখটি আস্তে আস্তে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যেতে থাকে। আক্রান্ত রোগীর বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। উপসর্গগুলো কিন্তু একেকজনের একেকরকম হয়। অর্থাৎ এক রোগীর উপসর্গেও সঙ্গে অন্যজনের উপসর্গগুলো পরিপূর্ণভাবে মেলে না। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে যা প্রায় সবারই দেখা যায়। এসব উপসর্গ দেখে বোঝা যায় ব্যক্তিটি আলঝেইমার’স ডিজিজে আক্রান্ত।

আলঝেইমার’স ডিজিজ কেন হয় বিজ্ঞানীরা এখনও সবকিছু বের করতে পারেনি। তবে জীনের সম্পর্কের কথা তারা জানতে পেরেছেন। বিভিন্ন দায়ী জীনও তারা বের করেছেন। মাথায় আঘাত, হতাশা এবং উচ্চ রক্তচাপের সাথে চিকিৎসকরা রোগটির সম্পর্ক পেয়েছেন। তবে এমন কোন ওষুধ কেউ বের করতে পারেন নি যেটা এই রোগ হওয়া প্রতিরোধ করবে।

আলঝেইমার’স ডিজিজে আক্রান্ত রোগী খুব স¤প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা মনে রাখতে পারে না। রোগটির শেষ দিকে এমন হয় যে রোগী খাবার খেয়েছে কিনা সেটাও ভুলে যান। তারিখ মনে রাখতে পারেন না। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভুলে যান। আগে যে কাজটি করতে কম সময় লাগত, আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক সময় বেশি লাগে সেই কাজ করতে। রোগটিতে আক্রান্ত হলে পরিচিতজনদের নাম বা চেহারা তাদের মনে থাকে না। ফলে ভুল নামে ডাকতে থাকেন। দৈনন্দিন কাজ-কর্ম করতে তাদের বিভিন্ন সমস্যা হয়। পরিচিত জায়গা অনেক সময় রোগীর কাছে অপরিচিত মনে হতে থাকে। একটি জিনিস রাখার নির্দিষ্ট স্থানে অন্য একটি জিনিস রাখতে দেখা যায়। এরপর অনেকসময় রোগী বিভিন্ন জিনিস হারিয়ে ফেলে এবং পরে খুঁজে পায় না। চশমা , কলম,লাঠি এসব নিয়ে প্রায়ই সমস্যা হয়।

আলঝেইমার’সে আক্রান্ত অনেক রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হয়ে থাকে। আয়নাতে নিজের ছবি দেখেও অনেক সময় চিনতে পারেন না। ভেবে বসেন এটা অন্য কারো ছবি। পড়তে সমস্যা হয়। রঙ চিনতেও অনেক সময় সমস্যা হয়ে থাকে। রোগী একই বাক্যের পুনরাবৃত্তিও করে, একই কথা বারবার বলেন। অনেক সময় আলোচনা সঠিকভাবে চালাতে পারেন না। মানুষজনকে ভুল নামে ডাকতে থাকেন। পরিচিতজন কে ভুল নামে সম্বোধন করেন। আলঝেইমার’স ডিজিজে সিদ্ধান্ত নেয়া এবং বিচার বিবেচনা বুদ্ধি লোপ পেতে পারে। রোগী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারেন না। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেন। শখ, খেলাধুলা ইত্যাদি বিনোদনমুলক বিষয়গুলো থেকে বিমুখ হতে থাকেন আস্তে আস্তে।

বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই ব্রেইন ইমেজিং এবং আচরণ ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা হয়। যদিও ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ আছে তাই আরও কিছু পরীক্ষা করা হয় অন্য কোন অসুখ আছে কিনা তা জানার জন্যে।

কিছু ওষুধ আছে যেগুলো আলঝেইমার’স ডিজিজে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে আছে রিভাসটিগমিন, গ্যালানটামিন, ডনেপেজিল এবং মেমানটিন। এসব ওষুধ ব্যবহারে সবার যে খুব ভাল কাজ হয় তাও নয়। তবে চিকিৎসকরা প্রয়োজনে দিয়ে থাকেন। এসব চিকিৎসা প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ভাল কাজ করে। শেষ পর্যায়ে তেমন কোন কাজই করেনা। যেহেতু আলঝেইমার রোগটি একটি জটিল রোগ এবং এর কোনো নির্দিষ্ট কারণও ঠিকমতো উদ্ধার করা যায়নি তাই এর চিকিৎসা পদ্ধতিও জটিল। এমন কোনো ম্যাজিক ওষুধ নেই যার মাধ্যমে রোগটি ভাল হয়ে যাবে। চিকিৎসকরা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কিছু খাদ্যাভাস ও মানসিক ব্যায়ামের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এসবের মাধ্যমে রোগটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন