রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১০ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব হ্রাস যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ধাক্কা

রাশিয়া সমর্থিত তুরস্ক-সিরিয়া চুক্তি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

তুরস্ক, রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সিরিয়াতে মার্কিন-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ শক্তিশালী করতে শুরু করেছে। ২০১১ সালের বিদ্রোহে আসাদের বিরোধী পক্ষ সমর্থনকারী তুরস্ক এখন সিরিয়ায় তার শাসনকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দিতে এবং কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। তুরস্কের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা বলেছেন যে, বিনিময়ে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান চান যে, ভবিষ্যতের যে কোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আসাদ যেনো যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘কুর্দি ওয়াইপিজিকে’ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কোনও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠনের সুযোগ না দেন, যা গোষ্ঠিটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন গত বছর সোচিতে এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে সিরিয়া-তুরস্ক সম্পর্ক মেরামতের প্রস্তাব করেন। এই গ্রীষ্মে নির্বাচনের প্রক্কালে এরদোগান এই চুক্তিতে আগ্রহী হয়েছেন, যা দেশে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে। এরদোগান পুতিনকে সিরিয় শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান করেছেন, যারা যুদ্ধ স্তিমিত হলে দেশে ফেরার সুযোগ লাভ করবে। জাতিসংঘের অনুমান অনুসারে, তিনি বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনসংখ্যা বা প্রায় ৩৫ লাখ লোককে আশ্রয় দিয়েছেন, যাদের সাহায্য করার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ হ্রাস করতে চান এরদোগান। ফলে, গত সপ্তাহে মস্কোতে সিরিয় ও তুর্কি কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার আসাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ধারণা দেন এরদোগান।

এদিকে, রাশিয়ার জন্য এই ধরনের একটি চুক্তি এটি দেখাতে সাহায্য করবে যে, এটি সিরিয়ায় মার্কিন প্রভাবকে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। তবে, বৃহস্পতিবার এরদোগান-আসাদের সম্ভাব্য বৈঠক সম্পর্কে নাখোশ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সম্ভাব্য বৈঠকের প্রতিবেদন দেখেছি, এটা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হোক, রাশিয়ার সঙ্গে জড়িত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হোক, আমরা সহজ হব না এবং আসাদ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অন্য দেশগুলোকে সমর্থন করব না।’
আসাদের প্রধান সামরিক মিত্র রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তুরস্কের সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যে এই পরিবর্তন সমর্থন করছে, যারা সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব হ্রাস করতে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে আসাদের অবস্থান উন্নত করতে সচেষ্ট। আসাদ ও পুতিনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বৈঠকের প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, ‘সমঝোতার উন্নয়ন অনুযায়ী আমরা নেতা হিসেবে একত্রিত হব।’ মস্কো ভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এলেনা সুপোনিনা এই বিষয়ে বলেন, ‘সিরিয়া কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে এবং আরব লীগ থেকে আলাদা রয়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়া সম্পর্ক সংশোধন রাশিয়ার জন্য একটি সাফল্য হবে। বিশেষ করে, দামেস্কের সাথে আঙ্কারার নতুন অংশীদারিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে ক্রেমলিনের ভূমিকাকে শক্তিশালী করবে এবং ওয়াশিংটনের উপর চাপ সৃষ্টি করবে সিরিয়া থেকে তার অবশিষ্ট দখলদারিত্ব সরিয়ে নিতে।’ তিনি বলেন, ‹যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে যে, সেখানে তার উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় এবং অযৌক্তিক।›

উত্তর সিরিয়া থেকে তুর্কি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওয়াইপিজিকে সরিয়ে নেয়ার জন্য তুরস্ক বারবার সতর্ক করলেও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছিল যে, এটি করলে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা এবং সেখানে উপস্থিত অন্যান্য উগ্রপন্থী যোদ্ধারা জেঁকে বসতে পারে। সিরিয়াতে সামরিক অভিযান এবং ব্যাপক মার্কিন রোষের ঝুঁকি ছাড়াই ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে বিজয় দাবি করতে আসাদের সাথে একটি রাজনৈতিক চুক্তি এরদোগানকে সহায়তা করবে। এবং রুশ ও তুর্কি সেনারা শীঘ্রই উত্তর সিরিয়ার সাথে সীমান্ত এলাকায় যৌথ টহল শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিরিয়া ভবিষ্যতেও সেখানে সমন্বিত টহল শুরু করতে পারবে।

তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ওয়াইপিজি এবং এর মিত্র যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত এবং সিরিয়ার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। আঙ্কারা ওয়াইপিজিকে একটি হুমকি হিসাবে দেখে। কারণ এটি একটি নিষিদ্ধ কুর্দি গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কযুক্ত, যা কয়েক দশক ধরে তুরস্কে স্বায়ত্বশাসিত কুর্দি অঞ্চল চাচ্ছে এবং দাঙ্গা সৃষ্টি করছে। আসাদের সরকারও সিরিয়াতে কুর্দিদের যেকোনো স্বায়ত্তশাসনের বিরুদ্ধে। অঞ্চলটিতে দশকব্যাপী সংঘাত এবং তাদের স্বার্থ কিভাবে একসূত্রে গাঁথা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি মাসে তুরস্ক, রাশিয়া ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিরিয়া কেন্দ্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার দামেস্কে আসাদের সাথে দেখা করেছেন এবং এই সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট গত বছর ধনী উপসাগরীয় রাষ্ট্রটি সফর করেন, যা বর্তমানে আসাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি কোনো আরব রাষ্ট্রে আসাদের প্রথম সফর ছিল। এটি ছিল পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী লক্ষণগুলির মধ্যে একটি যে, যেসব উপসাগরীয় নেতারা প্রাথমিকভাবে আসাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদ্রোহতে ঐক্যমত পোষণ করেছিলেন, তারা এখন দামেস্ককে আরব বিশে^ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তুত। সূত্র : র্স্টাস এন্ড স্ট্রাইপ্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
আলিফ ৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ৮:৪৩ এএম says : 0
আমরা খুশি হয়েছি
Total Reply(0)
Kma Hoque ৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ৮:৪৪ এএম says : 0
আমেরিকা অনেক রাষ্ট্রকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেছে। সে অভিশাপ এখন পড়েছে
Total Reply(0)
Karim ৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ৮:৪১ এএম says : 0
আমেরিকার একক আধিপত্য শেষ হওয়া দরকার
Total Reply(0)
Karim ৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ৮:৪২ এএম says : 0
আমেরিকা জোড় করে অন্যের উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায়। এজন্য তাদের একক আধিপত্য খুব শিগগিরিই শেষ হওয়া দরকার
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন