ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মুহাররম ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

নতুন চ্যাম্পিয়ন আরামবাগ

| প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

জাহেদ খোকন : স্বাধীনতা কাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। গত আসরের শিরোপা জয়ী চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডকে পেছনে ফেলে এবার সেরার মুকুট পরলো মতিঝিলের দলটি। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ওয়ালটন স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে আরামবাগ ২-০ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুললো। বিজয়ী দলের হয়ে গোল দু’টি করেন যথাক্রমে ডিফেন্ডার আরিফ ও রকি।
প্রতিষ্ঠার পর ধাপে ধাপে উন্নতী হলেও ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিরোপা জেতার কোন রেকর্ড ছিল না আরামবাগের। তবে নিজেদের ৬০ বছরের ইতিহাসে তারা তিনবার ফেডারেশন কাপের রানার্সআপ ট্রফি ঘরে তুলেছে। এই রানার্সআপ ট্রফিই ছিল এতদিন আরামবাগের মধ্যমণি। এর আগে ১৯৯৭ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ঢাকা আবাহনীর কাছে ২-১ গোলে, ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে ৩-০ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঢাকা আবাহনীর কাছেই ১-০ গোলে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয় আরামবাগের। তবে এক বছর বাদে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিল দলটি। তবে ঘরোয়া আসরে ধারাবাহিক সাফলতা না পেলেও বিদেশের মাটিতে আরামবাগের সাফল্যের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরানো। সেই ১৯৮১ সালে নেপালের ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট আনফা কাপের দ্বিতীয় আসরে চীনের স্যানডং ক্লাবের বিপক্ষে ৫-১ গোলে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরে আরামবাগ। সেটাই ছিল বিদেশের মাটিতে ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম ট্রফি জয়। এবার আরেকটি কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সফলতা পেয়েছে আরামবাগ। স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে জিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ঘরে তুলতে পেরেছে তারা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম আবাহনী ঘরোয়া ফুটবলে গেল ক’মৌসুম বড় দলের আখ্যা নিয়ে স্বাধীনতা কাপের গেল আসরের শিরোপা জেতা ছাড়াও ২০১৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের রানার্সআপ হয়েছিল। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগের শুরুতেও মাঠে তাদের দাপট ছিল। কিন্তু শেষের দিকে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম ছিটকে পড়ে শিরোপা লড়াই থেকে। আর আমাবাগের কাছে হেরে স্বাধীনতা কাপেও হতাশার বৃত্তে আটকে থাকলো বন্দরনগরীর দলটি।
রথী-মহারথীদের হারিয়ে এবার যোগ্যতর দল হিসেবেই স্বাধীনতা কাপ শিরোপা জিতল আরামবাগ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তারা ছিল অপ্রতিরোধ্য। লিগের শীর্ষ চার দলকেই হারিয়েছে কোচ মারুফুল হকের শিষ্যরা। স্বাধীনতা কাপের গ্রæপ পর্বে লিগের তৃতীয় ও চতুর্থস্থান অর্জনকারী চট্টগ্রাম আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ড্র করে শেষ আটে জায়গা পায় আরামবাগ। কোয়ার্টার ফাইনালে লিগ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীকে বিধ্বস্ত করে শেষ চারে এসে হারায় রানার্সআপ শেখ জামালকে। ফলে ফাইনালে দুর্দান্ত আরামবাগকে রুখে দেয়ার কোন বাধাই আর কাজে আসেনি চট্টগ্রাম আবাহনীর। কাল ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে আরামবাগ। দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা মারুফুলের শিষ্যরা যেনো জয়ের প্রতিজ্ঞা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। যার ফল তারা পায় ম্যাচের ২০ মিনিটেই। এসময় ডান প্রান্ত থেকে শাহরিয়ার বাপ্পির ক্রসে বক্সে বল পেয়ে লাফিয়ে উঠে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন আরিফ (১-০)। ডিফেন্ডার হওয়া সত্বেও মাঝে মধ্যেই উপরে উঠে আসছিলেন আরিফ। তাকে আটকে দেয়া কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছিলো প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য। ৩৮ মিনিটে একটা সুযোগ এসেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর। কিন্তু মামুনুল ইসলামের কর্ণার দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন আরামবাগ গোলরক্ষক আজম খান। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে চট্টগ্রামের জালে আরো একবার বল ঠেলে দেয় মতিঝিলের দলটি। ৪৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে অধিনায়ক আবু সুফিয়ান সুফিলের বাড়িয়ে দেয়া বল বুঝে নিয়ে ফরোয়ার্ড জুয়েল ঠেলে দেন সামনের দিকে। সেই বল পেয়ে ডান পায়ের জোড়ালো শটে গোল করেন আরেক ডিফেন্ডার রকি (২-০)। পরে শত চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠ ছাড়ে আরামবাগ।
ম্যাচ শেষে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মোমিনুল হক সাঈদ খেলোয়াড়দের জন্য ১০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষনা করেন। ম্যান অব দ্য ফাইনাল ও টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন আরামবাগের আরিফ। তাকে ক্রেস্ট ছাড়াও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের পক্ষ থেকে দেয়া হয় একটি ফ্রিজ ও এলইডি টেলিভিশন। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও এলইডি টেলিভিশন পান আরামবাগের ফরোয়ার্ড মো: জুয়েল। টুর্নামেন্টের ফেয়ার প্লে ট্রফি পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। চ্যাম্পিয়ন আরামবাগকে ট্রফির সঙ্গে দেয়া হয় ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি। রানার্সআপ চট্টগ্রাম আবাহনী পায় ট্রফি ও ৩ লাখ টাকার প্রাইজমানি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন