ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ইসলামী জীবন

ইসলামী কর্মতৎপরতা

প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

পীর সাহেব চরমোনাই
ভবিষ্যতে যেন কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে এবং ইসলামী সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে আঘাত করতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। এক বিবৃতিতে বিরানব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদে সারাদেশে যারা আন্দোলন করেছেন বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম, ইসলামী নেতৃবৃন্দ, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক সর্বোপরি ঈমানদার জনতা এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরসহ দেশবাসীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হলে এভাবেই সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করে দিতে হবে। বিরানব্বই ভাগ মুসলমানের সেন্টিমেন্টকে বুঝে যে ঐতিহাসিক রায় দেয়া হয়েছে তাতে দেশ এক ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষা পেল এবং ইসলামের বিজয় সুচিত হলো।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চ্যালেঞ্জ করে ২৮ বছর আগের একটি রিট আজ হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যাওয়ায় এবং সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল থাকায় শুকরিয়া আদায় করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশের ধর্মপ্রাণ জনতার বিজয় হয়েছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে, সবার প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটছে। তিনি বলেন, সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এদেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ স্ব স্ব অধিকার নিয়ে শান্তিতে অবস্থান করছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ইসলামী আন্দোলন ঢাকা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৪৫ বছর পর এসে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা না থাকা নিয়ে রিট হয়, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়া হবে এ জন্য এদেশের ধর্মপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধারা ’৭১ সালে যুদ্ধ করেনি। স্বাধীনতর ৪৫ বছরেও দেশবাসী স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি। বর্তমান সময়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর কদমতলী থানা শাখার মেরাজনগর ৯নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে টোকিও গার্ডেনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্র্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। আলহাজ মাওলানা মনিরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ দায়িত্বশীল পরিচিতি সভা ও স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কদমতলী থানা সেক্রেটারি মাওলানা ক্বারী বাছির উদ্দিন মাহমুদ, আলহাজ ঈসমাইল হোসেন, ইসলামী নির্মাণ শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, আলহাজ ইমাম হোসেন পাটোয়ারী, মাস্টার আবদুল জলিল, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ইউনুছ আলী খান নেতৃবৃন্দ।
ছাত্র ও শ্রমিক সমাবেশ
আমিরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, সমাজ ও মানবতা যখন পাপাচার ও গোনাহের অন্ধকারে ডুবে যায় তখনই যুগে যুগে নবী-রাসূলদের পাঠিয়ে আল্লাহ মানুষদের হেদায়াত ও আলোর পথ দেখিয়েছেন। শেষ যুগে মহানবী বিশ্বনবী আকায়ে নামদার হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর আর কোনো নবী আগমন করবেন না। আজকে মহানবী (সা.)-এর অবর্তমানে তাঁর পবিত্র দায়িত্ব ও উত্তরসূরির ভূমিকা রাখছেন হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম। সোনার ও বিশুদ্ধচারী মানুষ হিসেবে তৈরি হতে হলে হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ের কেরামের সান্নিধ্য লাভ করে মহান আল্লাহ তায়ালার প্রকৃত সন্ধান এবং রাসূলের জীবনাদর্শের অনুসরণ করতে হবে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্মুরি মাঠে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের উদ্বোধনী বয়ানে আমীরুর মুজাহিদীন হযরত মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই উপরোক্ত কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও মানুষের স্বভাববান্ধব জীবনব্যবস্থা। ইসলামে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ বিশ্বমানবতার চারিত্রিক, অবকাঠামো ও প্রাযুক্তিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইসলাম রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবেও ন্যায়-ইনসাফ ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন