শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভালোবাসার দিনে বই মেলা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ভালোবাসা দিবস নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আর আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও বইয়ের প্রতি ভালোবাসায় কোন সমালোচনা নেই। গতকাল (বৃহস্পতিবার) অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সে চিত্রই দেখা গেলো; আর সাথে ছিল মাত্র একদিন আগে আসা ফাল্গুনের ছোঁয়াও। ‘ভালোবাসা দিবস’কে স্মরণীয় করে রাখতে তেজহীন রোধের এবিকেলে প্রিয়জনের হাত ধরে বইমেলায় আসার চেয়ে আনন্দের কাজ আর কী হতে পারে! যেকোনো দিবস মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তারুণ্যের উপচে পড়া ভিড়। আর বিকেল ৩টায় যেয়ে সেই চাপ পড়ে বাঙালির প্রাণের মেলার গেটে। গেট খোলার আগেই মেলার সামনে দেখা গেল দর্শনাথী আর পাঠকদের দীর্ঘ লাইন। এদিন বইমেলায় আগত তরুণী পাঠকদের পোশাক ছিল শাড়ি; সেখানে চুলের খোপায় ফুলের মালার দৃষ্টি কাড়া সোন্দর্য্য। বই মেলার ১৪তম দিনটি ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই জমে উঠে। প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বইমেলার স্টলে স্টলে ঘুরে চলে কবিতার কিংবা উপন্যাসের বই উপহার দেয়ার সোন্দর্য্য। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা কেন, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসার উপহার হিসেবে বইতো নিশ্চয়ই সেরা।
মেলা প্রাঙ্গনে কথা হয় মো. সানাউল্লার সাথে। তিনি ঢাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ভালোবাসা দিবসে পরিবার নিয়ে এসেছেন বই মেলায়। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটাতে পরিবারের সাথে সময় কাটানো বড় আনন্দেন ব্যাপার, আর বই মেলায়ও আসব আসব বলে আসা হয়না। তাই পরিবার নিয়ে মেলায় চলে আসলাম।’ আর মেলাপ্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায় প্রিয়জন ও বন্ধুদের সাথে আসা দর্শনার্থীদের ঘোরাঘুরি ও সেলফি তোলার ধুম। ভালোবাসার দিনে একসাথে মেলায় আসা প্রেমীকযুগল মাহবুব মিঠু ও ইফরাত আরা বলেন, ভালোবাসা শুধুমাত্র একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে প্রিয় মানুষকে প্রিয় লেখকের বই উপহার দিয়ে এদিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আজ মেলায় এসেছি। আগের তুলনায় গত দুদিনে বিক্রিও বেড়েছে বলে জানা যায় বিক্রয়কর্মীদের সাথে কথা বলে। অনিন্দ্র প্রকাশনীর ম্যানেজার বজলুর রহমার বকুল বলেন, দিন যাওয়ার সাথে সাথে মেলায় বিক্রি বেড়েছে। শেষের দিনগুলোতে আশা করছি আরও বেশী বিক্রি হবে।
গতকাল মেলায় আজ নতুন বই আসে ১৪৭টি। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল বাংলাদেশে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানভাবনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রেজাউর রহমান, আবদুল কাইয়ুম এবং অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।
বজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। আমরা আশা করি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি সাধন করবে।
আজকের অনুষ্ঠানসূচি :
আজ শুক্রবার গ্রন্থমেলার ১৫তম দিনে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। সাপ্তহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ১০টায় মূলমঞ্চে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মোহাম্মদ সাদিক, জাহিদ হায়দার এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন