ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ধর্ম দর্শন

কাদিয়ানী ‘আহমদিয়া’ মতবাদ

মাহফুজ আল মাদানী | প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

মহান রাব্বুল আলামীন সেই সত্তা যিনি, তাঁর বান্দাদের সঠিক পথের দিশা প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে প্রেরণ করেছেন অগণিত নবী-রাসুল। সেই নবী-রাসুলগণের সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যিনি ছিলেন সৃষ্টির সেরা। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে ছড়িয়ে দিয়েছেন আল্লাহর একত্ববাদ সমগ্র বিশ্বে। তাঁকে অনুকরণ করে মানুষ দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে স্থান গ্রহণ করেছে। আবার অনেকে তাঁর প্রসিদ্ধি সহ্য করতে না পেরে নবী দাবী করেছে বিভিন্ন যুগে। মুসায়লামা কাজ্জাব, আহমদ কাদিয়ানীসহ এসব অপবিত্র আত্মাও কম নয়। আজ এরকম একটি আত্মার কিছু কাহিনী তুলে ধরছি-
১৮৩৯ সালে পাঞ্জাবের কাদিয়ান গ্রামে জন্ম হয় গোলাম আহমদের। তার পিতা বিশ্বাসঘাতক মুরতাজা। কাদিয়ানী গোলাম আহমদ তার পরিচয় নিজে বর্ণনা করে বলে- আমার নাম গোলাম আহমদ। আমার পিতার নাম গোলাম মোরতাজা। আমার দাদার নাম আতা মুহাম্মদ -( কিতাবুল বারিয়া - ১৩৪পৃঃ)। সে বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে কখনও মুঘল বংশের, কখনও পারসী বংশদ্ভোত আবার কখনও “আমি ফাতেমী” রাসুল তনয়া সাইয়্যিদাতুত তাহেরা হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর বংশধর দাবী করেছে। কখনও সে চীন বংশীয় হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছে -( হাকীকাতুল ওহী / তুহফায়ে গলড়িয়া)। এমন বহুমূখী পরিচয় দিয়েছে গোলাম আহমদ। জন্ম সম্পর্কে তার বক্তব্য হল- আমি ১৯৩৯ বা ১৯৪০ সালে পাঞ্জাবে শিখ রাজত্বের শেষ দিকে জন্মগ্রহন করেছি -(কিতাবুল বারিয়া - ১৩৪পৃঃ)। তার মায়ের নাম চেরাগ বিবি।
গোলাম আহমদের বাল্যকাল সম্পর্কে নিজের বর্ণনা হল- যখন আমি বয়োঃপ্রাপ্ত হতে লাগলাম এবং যৌবনে পর্দাপন করলাম,তখন আমি কিছু ফার্সি, ছরফ, নাহু ও অন্যান্য শাস্ত্রের কিছু পাঠ্য বই পড়তে লাগলাম তবে, হাদীস, উসূল ও ফিকহ শাস্ত্রে আমার গভীর জ্ঞান অধ্যয়নের সুযোগ হয়নি। নাম মাত্র কিছু পড়াশুনা করেছি -(আত তাবলীগ ইলা মাশাইখিল হিন্দ)। সে শিয়ালকোটে একটি নৈশ বিদ্যালয়ে সামান্য ইংরেজী শিক্ষা লাভ করে।
গোলাম আহমদের রোগ বালাই খুব বেশী ছিল। কাদিয়ানী চিকিৎসক ডা. শাহনেওয়াজ এ প্রসঙ্গে লিখেছেন- আমাদের হুযুরের রোগসমূহ যথা: মাথাঘুরানো, মাথা ব্যাথা, স্বল্প নিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, হৃৎপিন্ডের দূর্বলতা, দাস্ত, বহুমূত্র, মুরাক ইত্যাদি ছিল -(রিভিউ - মে ১৯৩৭ইং)। এছাড়া তার ডান হাত ভাঙ্গা, যক্ষা, চোখের জ্যোতির স্বল্পতা, কম স্মরণশক্তি ও হিষ্ট্রিয়া ছিল।
কাদিয়ানী নিজেকে নবী দাবী করেছিল। যার ধারাবাহিকতা ছিল এরূপ ১৮৮৫ সালে তার প্রথম ঘোষণা ছিল, সে একজন ‘মুজাদ্দিদ’। ১৮৯১ সালে দাবী করল সে প্রতিশ্রুত ‘মাহদী’। আর ঠিক ঐ বছরই নিজেকে প্রতিশ্রিত ‘মাসীহ’ দাবী করল। সর্বশেষ ১৯০১ সালে ঘোষণা দিল সে স্বয়ংসম্পূর্ণ একজন ‘নবী’। আর সকল নবী-রাসুল হতে উত্তম। তার প্রতি ইলহাম হয় উল্লেখ করে কাদিয়ানী বলেছে- বিশ বছরের কম বয়সী একজন ইংরেজ যুবকের আকৃতিতে আমি এক ফেরেস্তাকে স্বপ্নে দেখেছি। সে একটি চেয়ারে বসা আর তার সামনে টেবিল। আমি তাকে (ফেরেস্তাকে) বললাম, তুমি অতি সুন্দর। সে উত্তর দিল হ্যাঁ, হ্যাঁ। তারপর ইংরেজী ভাষায় ইলহাম হল- I LOVE YOU, I WITH YOU, I SHALL HELP YOU. এরপর আমার শরীর প্রকম্পিত হল। অথচ ইতোপূর্বে কাদিয়ানী নিজেই বলেছে- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে যে ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবী করবে সে মুসায়লামাতুল কাজ্জাব এর ভাই, কাফের এবং খবীছ -(আঞ্জামে আথম - ২৮পৃঃ)। আরো বলেছে, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে নবুওয়াতের দাবী করবে তাকে আমরা অভিশাপ দেই -(তাবলীগে রিসালত)।
তার কিছু ইলহাম হল- “১১ ইনশাআল্লাহ” “উপযুক্ত ব্যক্তি”, “আক্ষেপ অত্যন্ত আক্ষেপ”, “চৌধুরী রুস্তম আলী” -(আল বুশরা ২য় খন্ড)। এগুলো এক একটা ইলহাম। তবে এগুলোর মমার্থ সে নিজেই জানে না। আরো ছিল “সফলকাম”, “ফজলুর রহমান দরজা খুলেছে”, তার কথিত ইলহাম -(আল বুশরা ২য় খন্ড)। আহমদ কাদিয়ানী বলেছে যে, আল্লাহ তায়ালা আমার উপর ইলহাম করেছেন, যে ব্যক্তি তোমার অনুস্মরণ করবে না, তোমার হাতে বায়’আত করবে না বরং তোমার বিরোধীতা করবে সে আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরোধী এবং দোযখে প্রবেশকারী -(মে‘ইয়ারুল আখইয়ার ৮ম পৃঃ)।
গোলাম ছিল এক অপবিত্র আত্মা। আর সেই গোলামের মতবাদও ছিল কলংকিত, নিকৃষ্ট। যা বুঝা যায় সুস্পষ্টভাবে তার মতবাদ পড়লে। তার মতবাদ অনুযায়ী মুসলমানরা কাফের। কোন মুসলীম মারা গেলে তাঁর জানাযা নামাজ পড়া যাবে না। তাদের সাথে বিবাহ শাদী ও কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও যোগদান করা যাবে না। মুসলমানদেরকে কাফের বলার কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছে- যে ব্যক্তি কোন রাসুলকে অস্বীকার করবে সে কাফের। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি গোলাম আহমদকে নবী ও রাসুল বলতে অস্বীকার করবে সে কাফের। কেননা, তারা রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্য করেছে। কারো উপর ঈমান আনে আবার কাউকে অস্বীকার করে -(আবুল ফজল পত্রিকা ২৬শে জুন ১৯২২)। (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন