ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে মন্ত্রপাঠ করানো অন্যায়

ইনকিলাবে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে হাইকোর্টের মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে মন্ত্রপাঠ করানো অন্যায়-বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, একটা এনজিও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাওয়ায় তাহলে সেটি অন্যায়। তবে আমরা কোনো ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগে শবে-বরাত নিয়েও আমরা হস্তক্ষেপ করিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বারের আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার ‘দৈনিক ইনকিলাব’ এ প্রকাশিত ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্রপাঠ’ শীর্ষক সংবাদটি তুলে ধরে আদালতের দৃষ্টিতে আনেন। আদালতের সামনে তিনি প্রকাশিত সংবাদের পুরোটা পাঠ করেন। আদালত মনযোগসহকারে রিপোর্টটি শোনেন। পরে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার আদালতে বলেন, এক ধর্মের রীতিনীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, একটি এনজিও স্কুলে খাবার বিতরণ করতেই পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ায় তাহলে সেটা অন্যায়। তবে আমরা কোনো ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগে শবে-বরাত নিয়েও আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। এখন যদি বিসমিল্লাহ বলে কেউ অন্য কোনো ধর্মের মানুষকে খাওয়ানো হয় সেটা কেমন হতো? আপনারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে তাদেরকে বলুন।
তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আমাদের আবার আপনাদের কাছে (আদালত) আসতে হবে।

প্রসঙ্গত: গতকাল বৃহস্পতিবার ‘দৈনিক ইনকিলাব’ এ ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরীর অন্তত: ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরণের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কৃষ্ণ কুমারী স্কুলে প্রসাদ বিতরণ করে ইসকন কর্মীরা। ওই স্কুলে তখন ৮০০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীরা জানান, ইসকনের কর্মীরা তাদের প্রসাদ গ্রহণ করার আগে মন্ত্রপাঠ করতে বলে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের অনেকে মন্ত্র পাঠে খাবার গ্রহণ করলেও মুসলিম এবং বৌদ্ধ মেয়েদের অনেকে তাতে বিরক্তি প্রকাশ করে। অনেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহমেদ হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, রথযাত্রা উপলক্ষে ইসকনের কর্মীরা স্কুলের ছাত্রীদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে। শিক্ষার্থীদের অনেকে ইসকন কর্মীদের শেখানো নিয়ম অনুযায়ী এ খাবার খেয়েছে। তবে অনেকে খাবার খায়নি।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Prince Mahamud Al-amin ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
oder kothin bicar kora houk
Total Reply(0)
Nira Sultana Moni ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫১ এএম says : 0
ফাজলামি এটা মুসলিম দেশ ভুলে গেছে?
Total Reply(0)
Mofazzol Hossain Itp ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫২ এএম says : 0
তো এই অন্যায় কার্যের ব্যাপারে অন্যায় বলেই দায়িত্ব শেষ!!!
Total Reply(0)
Ariful Haq ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫২ এএম says : 0
তাই নাকি ? মুসলিম দেশের সংবিধানে ‘ধর্মনিরপক্ষ ‘ লেখার সময় অন্যায় মনে হয়নি ? এখনও তো জয়শ্রীরাম বলানো বা দাড়ী মুন্ডন উৎসব শুরু হয়নি।
Total Reply(0)
Sneha Afrin Juma ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫৩ এএম says : 0
বাচ্চারা খায় কেন? ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় বাবা মা - নিষেধ করেছিলেন, কেউ কিছু দিলে খাবে না। স্যার, ম্যাডাম দের কাছ থেকেও না। এজন্যই, স্কুলে যে ম্যাগি নুডলস ফ্রীতে খেতে দিত - সেটা পরিহার করতাম। সুতরাং, শিক্ষার্থীদের বাবা মায়ের বাধ্য হওয়া দরকার।
Total Reply(0)
Avian Oronno ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১:৫৪ এএম says : 0
অবুঝ শিশুদের মুখ দিয়ে ভিন্ন ধর্মীয় শব্দ উচ্চারণ করানো জঘন্য কাজ এবং ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই না। বাচ্চারা স্বাভাবিক ভাবেই বিরানি পোলাও ইত্যাদি দেখলে লোভ সামলাতে না পেরে সাপোর্ট দিতে শুরু করবে যে কোনো কিছু কারন তারা এতসব জানেনা বা ওসব ধর্মীয় বিষয়ে অজ্ঞ। আর কদিন পর দেখা যাবে গো-মূত্র খাওয়াবে বিরানির সাথে একগ্লাস করে। অবিলম্বে এসমস্ত ছাগলামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
Total Reply(0)
মেহেদী ১৯ জুলাই, ২০১৯, ২:২৯ এএম says : 0
আমাদের সচেতন হতে হবে। যাতে কোন উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী এ রকম ঘৃণ্যিত ও অপরাধমূলক কাজ করতে না পারে তাজ্জন্য সকলের সজাগ দৃষ্টি চাই ! ধর্মে কোন জোর নাই, স্ব স্ব ধর্ম বিশ্বাসে রয়েছে মুক্তি ! ইসলাম পরম শান্তি ও সবচাইতে নিরাপদ ধর্ম !
Total Reply(0)
চাদনি পশর ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:১৫ পিএম says : 0
অপেক্ষা করুন আরো অনেক কিছু দেখবেন।
Total Reply(0)
চাদনি পশর ১৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:১৫ পিএম says : 0
অপেক্ষা করুন আরো অনেক কিছু দেখবেন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন