ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

লুটপাটের আয়োজন শত কোটি টাকা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোরবানির গরু সরবরাহ

বিশেষ সংবাদদাতা, কক্সবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ৭ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

আসন্ন কুরবানির ঈদে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫০ হাজার গরু দেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাজার থেকে চড়ামূল্যে এসব গরু সংগ্রহ করবে বিভিন্ন এনজিও ও রোহিঙ্গারা। এতে গরুর মূল্য বৃদ্ধি ও স্থানীয়দের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজার থেকে চড়ামূল্যে গরু কিনে এক কথায় স্থানীয়দের গলাকেটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫০ হাজার গরু সরবরাহের কথা বলে শত কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন থাকলেও স্থানীয়দের কোন ধরণের কুরবানি সহায়তা কর্মসূচি নেই বলে জানা গেছে।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি এত সহানুভুতি দেখানো হলেও স্থানীয় জনসাধারণ কুরবানিদাতাদের মাঝে এনজিও বা সরকারের কোন দপ্তর থেকে কুরবানিতে কোন ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে রোহিঙ্গাদের মাঝে এত প্রচুর সংখ্যক কুরবানির পশু সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে কেন কুরবানি সহায়তা দেয়া হবেনা ? এ জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মাঝেও কুরবানি সহায়তা দেয়ার জন্য।
খবর নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন কুরবানির ঈদে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫০ হাজার গরু সরবরাহের কথা বলে এনজিওগুলো শত কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন করেছে। গরু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, এসব গরুর প্রকৃত মূল্য বড়জোর ৫০/৬০ হাজার টাকা হলেও এগুলোর বাজারমূল্য দেখানো হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা।
ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলোতে কুরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর থেকেও প্রচুর গরু বাংলাদেশ নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের খামারিদের উৎপাদন করা পশু দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পুরণ হলেও ক্যাম্পে ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের সরবরাহ করার মত গরু স্থানীয় বাজারে নেই। এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য গরু সরবরাহ করে থাকে। তারা স্থানীয় বাজার থেকে গরু সংগ্রহ করতে গেলে কুরবানির পশু সংকট ও বেশি দামের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।
এদিকে মিয়ানমার থেকে আসা গরু এক্ষেত্রে সংকট নিরসনে সহায়ক হলেও গত সোমবার রাতে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে আরো বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণকে। অতীতে দেখা গেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজার হাজার গরু সরবরাহ করতে গিয়ে এভাবে কুরবানি পশুর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয় কুরবানিদাতারা। একইভাবে আসন্ন কুরবানি ঈদেও এ ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বেশকিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের গরু সরবরাহ করার জন্য ইতিমধ্যেই তাদের কাছে অর্ডার দিয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গরু সরবরাহের এ চাহিদা ৫০ হাজারেরও বেশি বলে তিনি জানিয়েছেন। তার মতে ব্যবসায়ীরা চড়াদামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পশু সরবরাহ করতে পারলেও ভোগান্তি হবে স্থানীয় কুরবানি দাতাদের।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ মুহ‚র্তে জেলা প্রশাসন মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়ার কাজটি ভালো হয়নি। এতে স্থানীয় বাজারে পশু সঙ্কট দেখা না দিলেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এতে ভোগান্তিও বাড়বে স্থানীয় কুরবানি দাতাদের।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
Shamsul Haq Shareq ৭ আগস্ট, ২০১৯, ১০:১৮ এএম says : 0
বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
Total Reply(0)
Showkat Bin Ashraf ৭ আগস্ট, ২০১৯, ১০:১৮ এএম says : 0
সালাম ভাই, আমার নামটা রোহিঙ্গার লিষ্টে দেন দয়া করে।
Total Reply(0)
মিরাজ আলী ৭ আগস্ট, ২০১৯, ১০:২০ এএম says : 0
মানুষ কতটা স্বার্থপর বর্বর অমানবিক হলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়ত জাতির নামে অর্থ লোপাটে মত্ত হতে পারে।
Total Reply(0)
মামুন ৭ আগস্ট, ২০১৯, ১০:২১ এএম says : 0
রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিছু এনজিও রমরমা ব্যবসায় মেতে উঠেছে। এসব এনজিওর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
Total Reply(0)
হৃদয় ৭ আগস্ট, ২০১৯, ১০:২১ এএম says : 0
হায়রে বাঙালি!!!
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন