ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

কাশ্মীরে রাতভর সংঘর্ষ : চলাচলে কড়াকড়ি, ৪ হাজার গ্রেফতার

জম্মুতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের র‌্যালি, বন্ধ মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় নগরী শ্রীনগরে সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর আবারও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাতভর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার পর ভারতীয় প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের পরদিন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিব বিভিআর সুব্রাহ্মণ্যম অবরুদ্ধ কাশ্মীর ধীরে ধীরে সচল হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এজন্য শনিবার শ্রীনগরের কয়েকটি অংশসহ কাশ্মীর উপত্যকার ১৭টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ল্যান্ডফোন সংযোগও সচল করা হয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টায় শ্রীনগরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর রোববার থেকে আবারও সেখানে নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। যদিও ভারতীয় প্রশাসনের দাবি, কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়নি। কিন্তু রোববার নগরীর বেশিরভাগ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয়দের কারফিউ জারি করার কথা বলেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। দুই জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, শ্রীনগরের ওল্ড সিটিতে শনিবার রাতে সংঘর্ষের পর ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা প্রায় সবাই ছররা গুলির আঘাতে আহত হয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারি প্রতিনিধি এবং দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যালয়ে টেলিফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এদিকে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের জম্মুতে বাইক র‌্যালি করেছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। দলটির যুব সংগঠন বজরং দল-ও এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এদিকে এ বিক্ষোভের জেরে উপত্যকায় নতুন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে রাজ্যটিকে ভেঙে দুই টুকরো করার ঘটনায় কয়েকদিন বেশ থমথমে ছিল উপত্যকা। গত ৫ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত চার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগকেই কাশ্মীরের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ সেখানকার কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণের আর কোনও জায়গা নেই। উপত্যকার রাস্তায় রাস্তায় নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য। নাগরিকদের সাধারণ চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে জম্মুর পরিস্থিতি শান্ত ছিল। ফলে সেখানে সরকারি বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। টেলিফোন থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে শুরু জম্মুর পাঁচ জেলার মানুষ। তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের র‌্যালিকে কেন্দ্র করে রবিবার ফের বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। বিভিন্ন স্থানে বন্ধ করে দেওয়া টেলিফোন সংযোগও। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, শ্রীনগরের দুই ডজনের বেশি জায়গায় জনতা পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করেছে। প্রশাসনের প্রধান সচিব রোহিত কনসাল জানান, শনিবার সকাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকার ৩৫টি থানা এলাকা থেকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং রাজ্য ভাগের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে প্রায় গোটা অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। চারশ’র বেশি নেতানেত্রীকে বন্দি করা হয়। সাংবাদিকদের প্রবেশেও বাধা দেয়া হয়। কাশ্মীর সঙ্কট পরমাণু যুদ্ধের কারণ হতে পারে : কাশ্মীর সঙ্কট থেকে দিল্লি-ইসলামাবাদ পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে বলে হুশিয়ার করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। অপরদিকে কাশ্মীরকে মুক্ত করার দাবিতে যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘কাশ্মীর পুড়ছে’, ‘কাশ্মীরকে মুক্ত কর’, ‘মোদি যুদ্ধ নয়, চা বানাও’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভকারীরা লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সমাবেশে বিজেপি সরকার কর্তৃক ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা। বিভিন্ন ধারার মানবাধিকার কর্মীরা শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। অধিকার কর্মীরা ভারতীয় আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং ‘কাশ্মীরের মুক্তি’ দাবি করেন। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিখ সমর্থকও খালিস্তানের ব্যানার নিয়ে তাদের সমর্থন জানান। বিবিসি, এনডিটিভি, রয়টার্স, এএফপি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন