ঢাকা, শনিবার , ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

খুলনায় যানজটের নেপথ্যে ইজিবাইক অতুল-মাহেন্দ্রা

খুলনা ব্যুরো: | প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চাপে খুলনা এখন যানজটের নগরী। যত্রতত্র পার্কিং, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, সড়কে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ ও বেপরোয়া দখলবাজির কারণে যানজট বাড়ছে।

এদিকে মহানগরীর ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে অতুল-মাহেন্দ্রা। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে এসব যান চালাচ্ছে চালকরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ যান নিয়ে বর্তমানে শঙ্কিত জনসাধারণ। নগরীজুড়ে নিয়ন্ত্রণহীন আরো চলাচল করছে অসংখ্য ব্যাটারি চালিত রিকশা। অবৈধভাবে নগরীতে চলাচলরত তিন চাকার এসব রিকশা কোন ট্রাফিক আইনই মানছে না। এছাড়া ছোট আকৃতির তিন চাকার এ যান দ্রæত গতিতে চলার পর আর নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে না চালকরা। ফলে সহজে উল্টে যায়। এতে যেমন নগরীতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি প্রায়শই নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। নগরবাসীর অভিযোগ, অতুল-মাহেন্দ্রা, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার কারনে পরিবার নিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

জানা যায়, নগরীতে বর্তমানে ২০ হাজারের অধিক ইজিবাইক চলাচল করছে। যার বেশির ভাগ চালকের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। চালকরা যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। একই সঙ্গে একাধিক লেন দিয়ে ইজিবাইক চলাচল করায় যানজট লেগেই থাকে। পথচারি পারাপারে জেব্রাক্রসিং ও অত্যাধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা না থাকাও যানজটের জন্য দায়ি।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর খানজাহান আলী রোড, ফুল মার্কেট, শান্তিধাম মোড়, সাত রাস্তার মোড়, ফেরিঘাট, ময়লাপোতা, ডাকবাংলা মোড়, শিববাড়ি, পিকচার প্যালেস মোড়, সামছুর রহমান রোডগুলো থাকে ইজিবাইকের দখলে। যানজট ছড়িয়ে পড়েছে মূল সড়ক থেকে অলিগলিতেও। ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা বলেন, শহরের মধ্যে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় যানজট বাড়ছে। ট্রাফিক পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে নগরীর ইজিবাইক চলাচল ৫টি শ্রমিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে। এগুলো হচ্ছে মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি, রূপসা ইজিবাইক মালিক সমবায় সমিতি, একতা ইজিবাইক সমবায় সমিতি ও ইজিবাইক শ্রমিক লীগ। এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিদিন ইজিবাইক চালকের নিকট থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। জানা যায়, খুলনা মহানগরীতে চলাচলরত ইজিবাইকের কোনও অনুমতি নেই বিআরটিএ থেকে। তালুকদার আব্দুল খালেক এর আগে মেয়র থাকাকালে ৫ হাজারের মতো ইজিবাইক চলার অনুমোদন খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে দিলেও এখন চলছে ৩০ থেকে ৪০ হাজারের ওপরে। ইজিবাইক নিয়ন্ত্রনে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে কেএমপি ট্রাফিক বিভাগ। সারা শহরেই এখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে ইজিবাইক। ফলে যানজটের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে। বিআরটিএ বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে তারা এক রকম অসহায়।

এ বিষয়ে বিআরটিএ খুলনা অফিসের উপ-পরিচালক জিয়াউর রহমান হতাশার সঙ্গে বলেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক। তবে আমরা দাপ্তরিক নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি জানান, বিদ্যমান আইন ও বিধিমতে ব্যাটারি চালিত থ্রি হুইলার বিআরটিএ কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রদানের কোনও সুযোগ নেই। আবার স্থানীয় সরকার বা পৌরসভা কিংবা সিটি কর্পোরেশন শুধু নন মোটরাইজড বাহন চলাচলের অনুমতি দিয়ে থাকে। ব্যাটারিচালিত বাহন চলাচলের অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার পৌরসভার নেই। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা যানজটের বড় কারণ। ভোগান্তি থেকে উত্তরণ ঘটাতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে দ্রæত উদ্যোগ নিতে হবে। তবে যানজট নিরসনে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে প্রশাসন। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের বৈঠকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে একই রং ও গাড়ির ডান পাশ বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন