ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পুলিশ ও বুয়েট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করুন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইন ও সালিস কেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে পুলিশ ও বুয়েট প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পেটানো হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে হলে যায় পুলিশ। তবে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পুলিশকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে অভ্যর্থনাকক্ষে পুলিশকে বসিয়ে রাখেন। এরপর আববারকে উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই এক ঘণ্টা বসে থেকে ফিরে যায় পুলিশ। দ্বিতীয়বার যখন পুলিশ হলে যায়, তখন আবরার আর বেঁচে নেই। শেরেবাংলা হলের একাধিক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে বলেছেন, পুলিশ সময়মতো তৎপর হলে আবরারকে হয়তো বাঁচানো যেত। পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কামাল হোসেন শেরেবাংলা হলে পুলিশ গিয়ে ফিরে আসার কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পরে দীর্ঘসময় ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ভিসিকে আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা দাবী করেন, ৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহি না করা পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে। দাবির মুখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাইফুল ইসলাম ঐদিন তাঁর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। আমরা মনে করি, ভিসির এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্খিত এবং অপ্রত্যাশিত। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটের বিভিন্ন হলে বেশ কিছু কক্ষ ছাত্রলীগের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, বুয়েট প্রশাসনের ভূমিকা এক্ষেত্রে কি ছিলো সে বিষয়টিও এক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে এমন নৃসংশ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি এ ধরণের ঘটনা প্রতিরোধে, ঘটনা ঘটাকালে কিংবা ঘটনা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। আসক এ ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন দাবি করছে। পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুলিশ কেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলো তার ব্যাখ্যা গণমাধ্যমে উপস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন