ঢাকা, শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

শান্তির খোঁজে মানবজনম : শান্তি কোথায় মেলে

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম | আপডেট : ১২:০৫ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

সুখ শান্তি সবাই চায়। তবে প্রকৃত শান্তি তারাই পায় যারা শান্তির ঠিকানা জানে। অধিকাংশ মানুষ শান্তির ছায়ার পেছনে ছুটে মরছে। সেই নির্বোধ মানুষের মতো যে একটি পাখি ধরবে বলে পাখির ছায়ার পেছনে ছুটছিল। তাকে একজন বুদ্ধিমান লোক বলেছিলেন, ছায়ার পেছনে না ছুটে মূল পাখিটাকে ধরো। অনেক মানুষই মূল শান্তি না চিনে শান্তির ছায়া ধরতে জীবনভর ছুটে বেড়ায়। মহান আল্লাহ বলেন, জেনে রাখো, অন্তরের শান্তি ও স্বস্তি রয়েছে আল্লাহর যিকিরের মধ্যে। বিস্তারিত অর্থে আল্লাহর হুকুম মানা ও তার নিষেধ থেকে বিরত থাকা শান্তির প্রধান পথ। মানুষের জীবনে শান্তি রয়েছে কেবল একটি পথেই। সেটি সুন্নতের পথ, শরীয়তের পথ। মানুষ যখন ঈমান, আমল ঠিক করে নেয় এবং পরস্পরের হক দিয়ে দেয়, কাউকে কষ্ট না দেওয়ার অঙ্গীকার করে তখনই ধূলির ধরা পরিণত হয় একধরনের জান্নাতে। জান্নাত তো এ জগতে দেখা বা কল্পনাও করা যাবে না। তবে পৃথিবীতে অপার্থিব আনন্দ আর সুখকে আমরা জান্নাতী সুখ বলে আখ্যা দিয়ে থাকি।

এক ব্যক্তি রাস্তায় সড়ক-বাতির আলোয় কী যেন খুঁজছিল। দুয়েকজন পথচারী এসে তাকে জিজ্ঞেস করলো, কী খুঁজছেন ভাই? আপনি কি কিছু হারিয়েছেন?
লোকটি জবাবে বলল, একটি দামি অলঙ্কার। তখন সবাই মিলে তন্ন তন্ন করে অনেক্ষণ ধরে খুঁজল। যখন কিছুতেই পাওয়া গেল না তখন একজন পথচারী প্রশ্ন করল, একটি জিনিস হারিয়ে গেল আমরা এতগুলো লোক এতক্ষণ ধরে খুঁজে মরছি। কিছুতেই পেলাম না। তাহলে জিনিসটি গেল কোথায়? অলঙ্কারের মালিককে সে প্রশ্ন করল, আপনার জিনিসটি ঠিক কোথায় হারিয়েছেন, বলুন তো।

মালিক জবাব দিল, হারিয়েছে আমার গ্রামে কিন্তু সেখানে আলো নেই। শহরে এসে দেখলাম এ জায়গাটি বেশ আলোকিত। ভাবলাম, এখানে খুঁজলে পাওয়া যাবে। তার জবাব শুনে সব পথচারী রেগে গেল। কেউ কেউ তাকে নির্বোধ বলে গাল দিয়ে চলে গেল। অনেকেই তার মাথা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করতে লাগল।
এখানে নিজ আচরণের জন্য আমরা এ লোকটিকে বোকা অথবা পাগল বলতে পারি কিন্তু পৃথিবীতে প্রায় সব মানুষই এ ধরনের ভুল পন্থা অবলম্বন করে আছে। তারা শান্তির মালিক আল্লাহকে অবলম্বন না করে অন্যত্র শান্তি খুঁজে মরছে। শরীয়ত ও সুন্নাহর পথ ত্যাগ করে যখন তারা সুখ-শান্তি হাতছাড়া করে ফেলেছে তখন অন্য জায়গায় তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষ তেতো ফলের গাছ লাগিয়ে মিষ্টি ফল আশা করছে। সন্তানদের দীনি শিক্ষা না দিয়ে মহব্বত ও আনুগত্য আশা করছে। ঈমান আমল ঠিক না করে দয়া, মায়া ও মানবতা আশা করছে। অঙ্গীকার ভঙ্গ করেও দীনদার হতে চাইছে। আমানতের খেয়ানত করেও ঈমানদার হতে চাইছে। হারাম উপার্জন করেও পরহেযগার হতে চাইছে। অন্যের সম্পদ গ্রাস করেও মুত্তাকী হতে চাইছে। এ যেন অগ্নিকুÐে ঝাঁপ দিয়ে নিরাপদ থাকার বৃথা আশা ।

আমার কাছে গত ৩০/৩৫ বছরে যত মাসআলা, সমস্যা বা জিজ্ঞাসা নিয়ে মানুষ এসেছে তার মধ্যে অসংখ্য ছিল বান্দার হক সম্পর্কে। আমি লক্ষ করেছি, যত মানুষ বান্দার হক নষ্ট করে তাদের চেয়ে আল্লাহর হক নষ্টকারী মানুষের পরিমাণ কম। যেসব লোক আমার পরামর্শ চেয়েছেন তাদের সংখ্যা বললাম। সমাজের বাকি মানুষের সংখ্যা এমন হতে পারে বা নাও হতে পারে।

একবার মক্কা শরীফে এক মজলিসে আমি হালাল জীবিকার ওপর বয়ান করলাম। পরদিন ঢাকার এক হজযাত্রী দেখা করতে এলেন। তিনি বললেন, আমি আমার মাকে নিয়ে হজ করতে এসেছি। গতকাল আপনার বয়ান শুনে আমার মা ও আমি দুজনই খুব অস্থির। কারণ, দেশে আমাদের প্রায় সকল সম্পত্তিই হারাম উপায়ে অর্জিত। হালাল উপার্জন দিয়ে আমরা অতি সাধারণ জীবনযাপন করতে পারতাম কি না সন্দেহ। তবে ঘুষের টাকায় আমার বাবা একাধিক বাড়ি করেছেন। দুর্নীতির দ্বারা অনেক সম্পদ জমা করে গেছেন। আমরা এখনো সুদমুক্ত নই। আমার আম্মা খুব পরহেযগার। আমি নিয়মিত নামায রোযা করি না। আমাকে দীনের পথে আনার জন্য মা খুবই চেষ্টা করছেন। আমি তাদের সমস্যা বুঝতে পেরে ঢাকার একজন আলেমের পরামর্শে চলার এবং সবকিছু সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
মশিউর ইসলাম ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
সমগ্র সৃষ্টিজগতের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান ইসলামের লক্ষ্য। কোরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ (সূরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত: ১০)।
Total Reply(0)
সত্য বলবো ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
নবী করিম (সা.) মুসলিম উম্মাহকে একটি মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এটা সেই তুলনার সঙ্গেও সাদৃশ্যমান, যেখানে উম্মাহকে একটি প্রাসাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: ‘প্রত্যেক মুসলমান একে অন্যের ভাই, কেউ কারও ক্ষতি করে না বা অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।’ (বুখারি)।
Total Reply(0)
মরিয়ম বিবি ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
আল-কোরআনে এক মুসলমানকে অন্য মুসলমানের বন্ধুরূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে এই বলে যে ‘মুমিন নর ও মুমিনা নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজে আদেশ করে, মন্দকাজে নিষেধ করে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত আদায় করে। সর্বোপরি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য করে; অচিরেই আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করবেন।
Total Reply(0)
সাকা চৌধুরী ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইসলামে কোনো বৈষম্য নেই। উঁচু-নীচ, বিশেষ-অবিশেষের নামে কোনো অসমতা ও শ্রেণীবিভেদও সমর্থন করে না। আর এ কারণেই ধর্ম হিসেবে একমাত্র ইসলাম মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পেরেছে।
Total Reply(0)
কাজী হাফিজ ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৭ এএম says : 0
ইসলাম চায় পৃথিবীতে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হোক। এ জন্য যুদ্ধের বিকল্প অনুসন্ধান করে। যেখানে দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখা যায়, তা দূর করতে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ উপায় খোঁজে; যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসা করতে চায়।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ মোশাররফ ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৭ এএম says : 0
ইসলাম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। ইসলাম কখনোই অনর্থক দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে সমর্থন করে না।
Total Reply(0)
মাওলানা মামুন ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:১৬ এএম says : 0
জাযাকুমুল্লাহ খায়ের, সময় উপযোগী চমৎকার একটি লেখা। আল্লাহ লেখক কে উত্তম বিনিময় দান করুন, তার ছায়া দীর্ঘায়িত করেন। এবং উক্ত লেখা অনুযায়ী নিজেদের আমল সংশোধন করার তৌফিক দান করেন। আমীন।
Total Reply(0)
মাওলানা মামুন ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:১৬ এএম says : 0
জাযাকুমুল্লাহ খায়ের, সময় উপযোগী চমৎকার একটি লেখা। আল্লাহ লেখক কে উত্তম বিনিময় দান করুন, তার ছায়া দীর্ঘায়িত করেন। এবং উক্ত লেখা অনুযায়ী নিজেদের আমল সংশোধন করার তৌফিক দান করেন। আমীন।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন