বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৬ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ যিলহজ ১৪৪৫ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

সওয়াব লাভের উপায়

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহমান | প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২৩, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০২ এএম, ৩ মার্চ, ২০২৩

সঠিক পদ্ধতি ও সহিহ নিয়তে করা মুমিনের কোনো নেক আমলই বৃথা যায় না। আল্লাহ তায়ালার কাছে এর বিনিময় সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু মৃত্যুর পর যেহেতু কোনো আমল করা সম্ভব নয় তাই সওয়াব ‘কামাই করা’ও অসম্ভব। তবে এমন কিছু আমল আছে, যা জীবদ্দশায় করে গেলে মৃত্যুর পরও সওয়াব ও উপকারিতার ধারা অব্যাহত থাকে ।

যথা : সদকায়ে জারিয়া, সদকামাত্রই উপকারী ও বিরাট সওয়াবের কাজ। এর বহু প্রকার ও ধরন রয়েছে। কিছু সদকা আছে অস্থায়ী। যেমন কাউকে খাদ্যদ্রব্য দান করা। আর কিছু সদকা আছে স্থায়ী। যেমন মসজিদ নির্মাণ করা। এই প্রকার সদকাকে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বলা হয়। সদকায়ে জারিয়া করলে মৃত্যুর পরও দানকারীর ‘সওয়াব-সঞ্চয়’ সমৃদ্ধ হতে থাকবে। এর স্রোতধারা তার ‘পুণ্যতরি’কে চলমান রাখবে।

এখানে সদকায়ে জারিয়ার কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি : ১. মসজিদ নির্মাণ। ২. মকতব-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা। ৩. দ্বীনি পাঠাগার ও দ্বীনি কিতাবের ব্যবস্থা করা। ৪. ঈদগাহ বানানো। ৫. কবরস্থান করা। ৬. যে কোনো দ্বীনি কাজের জন্য জমি ওয়াফ্ক করা। ৭. এতীম ও অসহায় লোকদের বাসস্থান ও উপার্জনের ব্যবস্থা করা। ৮. রাস্তা ও পুল নির্মাণ করা। ৯. পানির ব্যবস্থা করা। ১০. ফলদার বৃক্ষ রোপণ করা। ১১. সরাইখানা তৈরি করা। ১২. সীমান্ত পাহারা দেওয়া ইত্যাদি

উপকারী ইলম : উপকারী ইলম অর্জনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এর উপকারিতা হাসিল করতে পারে প্রথমত ব্যক্তি নিজেই। সেই সাথে যদি এর প্রচার-প্রসার করা হয়, মানুষকে শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া হয়, যা দ্বারা তারা যুগ-যুগ ধরে উপকৃত হতে থাকবে, কল্যাণ ও শান্তির পথে এগুতে থাকবে এবং যার ধারাবাহিকতা ব্যক্তির মৃত্যুর পরও চলমান থাকবে, তবে তা আরো বেশি মহিমময়। যতদিন এই ইলম দুনিয়াতে আলো ছড়াতে থাকবে ততদিন তার সওয়াবের ভুবনও আলোকিত হতে থাকবে।

নেক সন্তান : সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তায়ালার এক মহা মূল্যবান নিয়ামত। এ শুধু পার্থিব অবলম্বনই নয়; আখেরাতের সম্বলও বটে। নিজের দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর করার পক্ষে বড় সহায়ক। সততা-যোগ্যতা ও তাকওয়া-তহারাতের ওপর তাকে প্রতিষ্ঠিত করলে মা-বাবা দুনিয়া-আখেরাত সবখানে উপকৃত হবেন এবং মৃত্যুর পরও এই বৃক্ষের সুফল ভোগ করতে থাকবেন।

উপরোক্ত তিনটি বিষয় হাদিসে এভাবে ব্যক্ত হয়েছে : মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার তিনটি আমল ছাড়া সমস্ত আমল তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমল তিনটি হচ্ছে- সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম, যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দুয়া করে। (সহিহ মুসলিম : ৪৩১০)।

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘মানুষ যা কিছু রেখে যায় তার মধ্যে তিনটি জিনিস উত্তম- নেক সন্তান, যে তার জন্য দুয়া করে। এমন সদকা যা অব্যাহত থাকে। এর সওয়াব সে লাভ করে। এবং এমন ইলম, যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়’। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৯৩)।

এ তিনটি কাজ পৃথক পৃথকভাবেও বর্ণিত হয়েছে। উপকারী ইলম সম্পর্কে ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’র একটি বর্ণনা এ রকম : যে কাউকে ইলম শিক্ষা দেয়, সে এ অনুযায়ী আমলকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে। আমলকারীর সওয়াব থেকে কমানো হবে না। অন্য এক হাদিসে এসেছে : উত্তম সদকা হলো নিজে ইলম শিক্ষা করা এবং অপর মুসলিম ভাইকে তা শিক্ষা দেওয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৩)।

নেক সন্তান সম্বন্ধে এক হাদিসের ইরশাদ : আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে নেককারের মর্যাদা উঁচু করলে সে জিজ্ঞেস করবে, হে আমার প্রতিপালক! এটা আমার জন্য কোথা থেকে এলো? তিনি বলবেন, তোমার জন্য তোমার সন্তানের ইস্তিগফারের কারণে। (মুসনাদে আহমাদ : ১০৬১০)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন