ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩০ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

রাউজানে বিলুপ্তির পথে খেজুর রস

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

রাউজানে খেজুর রসের আগ্রহ থাকলেও আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় অনেকের স্বাদের রস ইচ্ছা থাকলেও প্রাপ্য হচ্ছে না। এক সময় মানুষের বাড়িতে, সড়কের দ্বারে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেত। শীতকাল আসলে গাছিরা সন্ধ্যায় গাছ কেটে হাঁড়ি বসিয়ে ভোর সকালে রস বিক্রি করত। এখন গাছ নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে দু’একটি খেজুর গাছ থাকলেও তাও সবল নয়। দুর্বল প্রকৃতির গাছগুলোতে আগের মতো রস পড়ে না।
বর্তমানে গাছিরা পরিবেশ দূষণকে দায়ি করে বলেন, আগে পরিবেশ ছিল ভালো, প্রতিটি ফল মূলের গাছে ছিল ফুলে ফলে ভরা। বিভিন্ন পরিবেশ দূষণের কবলে পড়ে ফল মূলের গাছে আগের মতো ফল ধরে না। আগে সকালে হাঁড়ি নামিয়ে রস নিয়ে যাওয়ার পরও গাছে ফোঁটায় ফোঁটায় অবিরত ঝড়তে থাকত দুপুর পর্যন্ত।
খেজুর রস সংগ্রহকারী হলদিয়া ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির ফজল কাদের বাবুল বলেন, ২০১৮ সালে ৪টি গাছ থেকে দৈনিক রস সংগ্রহ হতো প্রায় ২৪ কেজি। আর এ বছর এসে সংগ্রহ হচ্ছে ৫-৬ কেজি। তিনি আরও বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন দূষণে গাছের শক্তি ও ভিটামিন কমে গেছে। আমার ৪টি গাছের পাশে গর্ত করে প্রতিদিন পানি দিয়ে গাছগুলো সবল রাখার চেষ্টা করছি। তার মতে আগে প্রচুর খেজুর গাছ ছিল এলাকায়, কিন্তু পরিবেশ দূষণ ও গাছের মালিকরা গাছগুলো লাকড়ি হিসেবে বিক্রি করে দেয়ায় খেজুর গাছ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। ফজল কাদের বাবুল অগ্রহায়ণ মাস থেকে এ পর্যন্ত ৪টি গাছ হতে প্রায় ৫শ’ কেজি রস বিক্রি করেছেন ৭০ টাকা কেজিতে। এক সময় প্রতি কেজি খেজুর রস বিক্রি হতো ৮-১০ টাকায়। বর্তমান সে খেজুরের রস ৭০ টাকা। অনেক জায়গাতে ১০০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। আগামী বৈশাখ মাস পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা যাবে বলেও বাবুল জানান।
এদিকে জানি পাথর এলাকার মুহাম্মদ হারুন ৬টি, সালাম বৈদ্য ৩টি, আব্বাস ৬টি, আবদুল মালেক ২টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। তারা জানান, রসের চাহিদা অনেক, কিন্তু এরপরও চাহিদা মতো দেয়া যায় না, অনেকে রসের জন্য ঝগড়াও করেন। পালা করে করে রস দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। রসের পিঠার মজাই আলাদা বলে বছরে একবার প্রতিটি পরিবারে রস সংগ্রহ করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ডুই পিঠা (ভাপা পিঠা), গুরা পিঠা, চিতল পিঠা, পাটিসাপটা, হাতজারা পিঠা খেয়ে থাকেন। আবার অনেকেই আপনজনের বাসায়ও নিয়ে যান দৃষ্টি গোছরের জন্য খেজুর রস। সূযোগের অভাবে দুরন্ত কিশোররা আগের মতো পথের খেজুর গাছের ফোঁটা রস আর খেতে পারে না। খেজুর রস পানের আগ্রহ কোনো কালেই যেন বিলুপ্ত না হয় সেজন্য সরকারিভাবে খেজুর গাছ রোপনের দাবি সর্ব মহলের।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন