ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

পিএইচডি গবেষণায় ঢাবি শিক্ষকের চৌর্যবৃত্তি: ফেইসবুকে তোলপাড়

আবদুল মোমিন | প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ৭:২১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম লুৎফুল কবীরের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোশ্যালয় মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাবি শিক্ষকের এহেন কাণ্ডে সর্বত্র নিন্দা আর সমালোচনার ঝড় বইছে।

আবুল কালাম লুৎফুল কবীর বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে আছেন। তিনি ৯৮ শতাংশ হুবহু নকল পিএইচডি গবেষণা অভিসন্দর্ভের (থিসিস) মাধ্যমে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০১৪ সালের দিকে ‘টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড এইচআইভি কো-রিলেশন অ্যান্ড কো-ইনফেকশন ইন বাংলাদেশ: অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব দেয়ার ইমপ্যাক্টস অন পাবলিক হেলথ’ শীর্ষক ওই নিবন্ধের কাজ শুরু করেন আবুল কালাম লুৎফুল কবীর।

গবেষণায় ৯৮ শতাংশ হুবহু নকলের বিষয়টি নজরে আসার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে একজন গবেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া লুৎফুল কবীরের অভিসন্দর্ভে নিজের একটি গবেষণা থেকে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ও তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে একটি চিঠি দিয়েছেন সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাস নিলসন।

ফেইসবুকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা ও ঢাবি ছাত্র মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘‘এই যদি হয় জাতির বিবেকের অবস্থা, জাতি কেমন থাকতে পারে?’’

‘‘অনিয়মটাই দেশে নিয়মে পরিণত হয়েছে। ওনার সামনে আরো বড় কোনো পদে যাওয়ার ইচ্ছা আছে হয়তো তাই দ্রুত ডিগ্রির কাজ সেরে ফেলেছে’’ মন্তব্য জাকির হোসাইনের।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেছেন, ‘‘১০ টাকায় চা, সমুচা ও এককাপ চায়ের মতো এটাও একটা রেকর্ড।’’

হিমু অদ্রি লিখেছেন, ‘‘এই যদি হয় একটি দেশের সবথেকে বড় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের অবস্থা তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে কি করে।’’

শুদিপ্তা বড়ুয়া লিখেছেন, ‘‘এইটা তো পুরান কথা। যেই দেশে থিসিস লেখা হয় বাইরের জার্নাল, আর্টিকেল কপি করে সেইখানে সেরামানব উঠে আসবে কোথা থেকে? ডিগ্রির মূল উদ্দেশ্য সার্টিফিকেট বা উপাধি অর্জন না, বরং জ্ঞান অর্জন, ধারণ, এবং প্রয়োগ হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।’’

‘‘ঢাবির প্রাক্তন স্টুডেন্ট হিসেবে এই খবর আমাকে লজ্জিত করেছে। কেন এমন হচ্ছে? সমস্যাটা আসলে কোথায়?’’ পরিতাপের সাথে লিখেছেন আঞ্জুমান আরা রাজনী।

আহমেদ নাবিন লিখেছেন, ‘‘যেই দেশে কারিগরি ব্যক্তিরা রাজনীতি ছাড়া প্রমোশন পায় না সেই দেশে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় কেম্নে। আর গবেষণার জন্য বাজেট তো নাই-ই।’’

মুশফিক রহমানের মন্তব্য, ‘‘একটা জাতিকে ধ্বংস করার আওয়ামী প্রকল্প। যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমূলে দলীয়করণ করে নিজেদের দলীয়, অর্ধশিক্ষিত, অযোগ্য লোক দিয়ে ভর্তি করা হয় তখন তো এইসব জোচ্চড়িই হবে!এগুলোই একমাত্র সম্বল হবে!’’

‘‘ইতালির প্রখ্যাত নকলবিদ জন হারবাল গবেষনা করে বলে গেছেন ১০০% নকল করা কখনই সম্ভব না। নাম, রোল নং, রেজিঃ নং এগুলো তো অরিজিনাল দিতে হয়। তাই সর্বোচ্চ ৯৮% পর্যন্ত নকল করা যায়’’ লিখেছেন বশির আহমেদ মামুন।

হেফাজ উদ্দীন লিখেছেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যাপীঠ হিসেবে নেয়নি। নিয়েছে রাজনীতির আতুঁরঘর হিসেবে, নেতা তৈরির ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে। এটা হতে হবে শুধু বিদ্যাপীঠ এবং গবেষণাগার। জাতির ক্রান্তিলগ্নে তারা গবেষণাগার
থেকে ঠিকই রাস্তায় বের হবে। কিন্তু এটাকে বিদ্যাপীঠ হিসেবেই সবার চিন্তা করা উচিত। এখন এটা একটা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’’

তৌসিফ আহমেদ লিখেছেন, ‘‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সব বাদ দিয়ে বরং ১০ টাকায় সা, সপ, সিংগাড়া, সমুসা বা অন্যান্য আরো কি কি খাওয়ানো যায় তা নিয়ে গবেষণা করা উচিত। আর এটাও না হলে, দলবাজী করে উপরে উঠার ১০০১ টি উপায় নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে।’’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন