ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ইসলামী বিশ্ব

আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে তুরস্ক

কৃষ্ণসাগরে ভ‚-রাজনৈতিক পরিবর্তন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের ভ‚-রাজনৈতিক অবস্থায় নতুন করে পরিবর্তন আনতে তুরস্ক এবং ইউক্রেন বেশকিছু সময় ধরে অত্যাধুনিত ড্রোন, মহাকাশ ইঞ্জিন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিসহ সামরিক ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে। দেশ দুইটির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হলো আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম (ইউএএস)। তুরস্কের তৈরি আসন্ন অত্যাধুনিক যুদ্ধ ড্রোন বাইরাক্তার আকিন্সির প্রোটোটাইপটির জন্য চালিকা শক্তি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ইউক্রেনের দেয়া ইভসেনকো-প্রগ্রেস এআই-৪৫০ টি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন।

আকিন্সির ড্রোন তুরস্কের জন্য একটি যুগান্তকারী অস্ত্র। এর উন্নত সেন্সর এবং অস্ত্র ব্যবস্থায় যথাক্রমে ইলেকট্রনিকভাবে স্ক্যান করা একটি সক্রিয় অ্যারে (এএসএ) রাডার এবং ক্রুজ মিসাইল মজুদ রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী শীঘ্রই দেশটির পূর্বাংশে রাশিয়া সমর্থিত সামরিক ইউনিটের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানে তুরস্কের তৈরি ইউএএসগুলির প্রয়োগ শুরু করতে পারে। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে এটি চতুর্থ ফ্রন্ট হিসাবে চিহ্নিত হবে যেখানে তুর্কি ড্রোনগুলি লিবিয়া, সিরিয়া এবং কারাবাখের পর এবার ইউক্রেনে রাশিয়ার উৎপাদিত অস্ত্রের মুখোমুখি হবে। আজারবাইজানের পদক্ষেপ অনুসরণ করে আধুনিক যুদ্ধড্রোনের ব্যবহার কিইভের সামরিক ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আঙ্কারা এবং কিইভের মধ্যে আরেকটি আকর্ষণীয় অস্ত্রের লেনদেন হলো, স¤প্রতি তুরস্কের কাছে বিক্রি করা ইউক্রেনের আধুনিকায়িত এস-১২৫ বা গোয়া-৩ সারফেস টু এয়ার মিসাইল-এসএএম সিস্টেম।

গত বছর তুর্কি প্রতিরক্ষা জায়ান্ট এসেলসন ইউক্রেনের অত্যাধুনিক সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি লাভজনক চুক্তি করে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি অস্ত্র সরবরাহের সুবিধার্থে কিইভে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। সিরিয়া অভিযানকালে বিপজ্জনক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) হুমকির মুখোমুখি হলে, তুরস্ক ২০১৮ সাল থেকে সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অ্যাসেল্সান (এবং রক্সটান) এখন তাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সাথে সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ-উৎপাদনের উপর নিবিড়ভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, সামুদ্রিক প্রতিরক্ষাতে তুরস্কের মিলজেম-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর সামর্থ্য বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়, তবে পাকিস্তানের পর ইউক্রেন এজাতীয় জাহাজের জন্য দ্বিতীয় রফতানি গন্তব্য হবে।

কিইভ এবং আঙ্কারার মধ্যে বর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কিছু উল্লেখযোগ্য ভ‚-রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। তুরস্ক একটি অনন্য কৌশলগত-সামরিক এজেন্ডা পরিচালনা করছে। তুর্কি প্রশাসন ইউক্রেনের সাথে একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং একই সময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা এস-৪০০ সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। সুতরাং, তুরস্ক একমাত্র উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (ন্যাটো) সদস্য যে রাশিয়ান ফেডারেশনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছে এবং রাশিয়ার অবৈধভাবে ক্রিমিয়া সংযুক্তির পর ইউক্রেনের সাথে গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

লাভজনক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং যৌথভাবে উৎপাদনের সুযোগের সদ্বব্যহারের বিষয়টি যখন আসে, তখন দক্ষিন কোরিয়া এবং ইসরায়েলের পাশাপাশি সর্বাগ্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তুরস্কের নামটি এখন চলে আসে। প্রকৃতপক্ষে, ন্যাটো এবং ন্যাটোর বাইরের এই কৌশলগত মিশ্র অংশীদারিত্বের ফলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং উৎপাদন লাভবান হয়েছে। সেইসাথে, কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াকে ঠেকানোর জন্য তুরস্ককে সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইউক্রেনও এমন আরেকটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যার এঅঞ্চলে বিশেষ সামরিক-রাজনৈতিক মূল্য রয়েছে। সূত্র : ইউরেশিয়া ডেইলি মনিটর।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (21)
মাজহারুল ইসলাম ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৪:৫৩ এএম says : 0
খুব ভালো খবর
Total Reply(0)
নাজিম ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২৩ এএম says : 0
তুরস্কের জন্য অনেক অনেক শুকামনা রইলো
Total Reply(0)
জসিম ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২৪ এএম says : 0
এরদোগানের মত নেতা থাকলে সেই দেশ এমনিতেই এগিয়ে যাবে
Total Reply(0)
নয়ন ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২৫ এএম says : 0
এগিয়ে যাও তোমাদের জয় আসবে ইনশাআললাহ
Total Reply(0)
জাবেদ ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২৬ এএম says : 1
তুরস্কে নেতৃত্বে আবার আমরা বিশ্ব সাশন করবো
Total Reply(0)
Rajib ২০ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৯ পিএম says : 0
এরদোগানের মত নেতা থাকলে সেই দেশ এমনিতেই এগিয়ে যাবে
Total Reply(0)
Rajib ২০ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৯ পিএম says : 1
এরদোগানের মত নেতা থাকলে সেই দেশ এমনিতেই এগিয়ে যাবে
Total Reply(0)
সাইদুর রহমান মানিক ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৩:১০ পিএম says : 0
তুরষ্ককে ঠেকাতে মরিয়া দেশগুলোর রাতের ঘুম দিন দিন কমে যাচ্ছে।
Total Reply(0)
সাইদুর রহমান মানিক ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৩:১০ পিএম says : 0
তুরষ্ককে ঠেকাতে মরিয়া দেশগুলোর রাতের ঘুম দিন দিন কমে যাচ্ছে।
Total Reply(0)
Provati Alo ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৪:১৬ পিএম says : 0
দোয়া করি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের জন্য আল্লাহ যেন ওনার নেক হায়াত দান করে, আর রিসিপ তায়েফ এরদোয়ান মুসলমানদের জন্য যা করে খুব ভালো করে, ওনার মতো আমাদের এদেশে একজন প্রেসিডেন্ট দরকার!!!
Total Reply(0)
Provati Alo ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৪:১৬ পিএম says : 0
দোয়া করি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের জন্য আল্লাহ যেন ওনার নেক হায়াত দান করে, আর রিসিপ তায়েফ এরদোয়ান মুসলমানদের জন্য যা করে খুব ভালো করে, ওনার মতো আমাদের এদেশে একজন প্রেসিডেন্ট দরকার!!!
Total Reply(0)
Yasharan ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৪:৫৩ পিএম says : 0
Turkey????????
Total Reply(0)
Yasharan ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৪:৫৩ পিএম says : 0
Turkey????????
Total Reply(0)
Jack Ali ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৫:১৬ পিএম says : 0
We Bangladeshi people have brain to develop so many things but after liberation not a single government don't know how to rule a country they only know how to fight against political party and come in power and loot our hard earned money tax payers money as such all the brainy people left our country.. If our country ruled by the Law of Allah then would be one of the best power full country in the world [Industrial and weaponry]
Total Reply(1)
TOM ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৪২ পিএম says : 0
FAKHRUDDIN AHMED WAS A GREAT LEADER OF BANGLADESH.
Md Eiamin Hossain ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৭:০০ পিএম says : 0
এগিয়ে যাও, মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা।শুভকামনা
Total Reply(0)
Md Eiamin Hossain ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৬:৫৯ পিএম says : 0
এগিয়ে যাও, মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা।শুভকামনা
Total Reply(0)
zahidbd ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৪৮ পিএম says : 0
মুসলমানেরাও সমান তালে এগিয়ে আসছি।
Total Reply(0)
shahadot ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৩৫ পিএম says : 0
তুরস্কের জন্য রিদয়ের গভীর থেকে অফুরন্ত ভালোবাসা রইলো,আমরা চাই আবার সেই অসমানিয়া সাম্রাজ্য ফিরে আসুক
Total Reply(0)
MD.BORATUZZAMAN ২১ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৫৪ এএম says : 0
We are support president receptawain Ardegoan
Total Reply(0)
এ, কে, এম জামসেদ ২৩ নভেম্বর, ২০২০, ৫:৫৬ পিএম says : 0
তুরস্কের শক্তি বাড়লে মুসলিম বিশ্বের উপকার হবে। ইসলায়েল, ভারত, ফ্রান্স ও মিয়ানমান মুসলিমদের সম্মান করবে।
Total Reply(0)
Zakiul Islam ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৫৬ পিএম says : 0
আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন। সারা মুসলিম দুনিয়া এবং মজলুম মানুষ আপনার মুখের দিকে চেয়ে আছে। মুসলিম দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন