শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

প্রবর্তক সংঘের ঘটনায় ইসকনের বক্তব্য : বাবু তিনকড়ির নেতৃত্বে মন্দির গেইটে হামলা হয়

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০২১, ৪:৩৯ পিএম

‘গত ১৪ মার্চ অতর্কিতভাবে বাবু তিনকড়ি চক্রবর্তী বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ২০ থেকে ২৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে মন্দিরের প্রধান নিরাপত্তা অফিস ভাংচুর করে এবং মন্দিরের ২ নং প্রবেশ গেইট তুলে ফেলে দেয়। আমরা আশা করেছিলাম দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে হামলাকারীরা অনুতপ্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করবে। কিন্তু, চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। তারা এরই মধ্যে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ইসকন কর্তৃপক্ষ ২১ মার্চ প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা (মামলা নং- সি আর ১৮১/২০২১) দায়ের করে। বুধবার দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে (২২-২৪ মার্চ) প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ইসকনের বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করা হয়।

নগরীর পাঁচলাইশ ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী সাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাতিœক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তক সংঘ তার গঠনতন্ত্রের মৌলিক নীতি ও উদ্দেশ্য সাধু সন্ন্যাসীদের দ্বারা সনাতন ধর্ম প্রচার ও প্রসারকে ধরে রাখার জন্য ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘকে (ইসকন) শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরটি দৈনন্দিন সেবাপূজা, উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীকালে বৃহৎ মন্দির নির্মাণ, সাধুনিবাস নির্মাণ, পাহাড় সংরক্ষণ ও ধর্মীয় প্রচারের জন্য অন্যান্য আনুষাঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবহারের জন্য মৌখিক ও লিখিত অনুমতি প্রদান করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ প্রবর্তক সংঘের নেতৃবৃন্দ ইসকনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে (রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী, অন্নকুট ইত্যাদি) যোগদান করেছেন এবং সভাপতিত্ব করেছেন। ইসকন ভক্তবৃন্দ সাধারণ সনাতনী সমাজের কাছ থেকে বহু কষ্ট করে অনুদান সংগ্রহ করে এবং প্রবর্তকের ভ‚মিতে তা খরচ করে সনাতন ধর্মের কল্যাণে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।

অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় এই বৃহৎ মন্দিরটি উদ্বোধনের ঠিক ২ মাস পূর্বে প্রবর্তক সংঘের কর্মকর্তাদের আচরণে আমরা ভিন্নতা লক্ষ্য করি। হঠাৎ করে তারা মন্দির দৈনন্দিন সেবা পূজা পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে এবং বিভিন্ন অযৌক্তিক প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিগত ১২ই মার্চ আমরা তাদেরকে আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা আলোচনায় না বসে ১৪ মার্চ বিকাল ৩.৩০ টার সময় অতর্কিতভাবে বাবু তিনকড়ি চক্রবর্তী বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ২০/২৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে মন্দিরের প্রধান নিরাপত্তা অফিস ভাংচুর করে এবং মন্দিরের ২ নং প্রবেশ গেইট তুলে ফেলে দেয়।

এসময় মন্দিরে অবস্থানকারী নিরীহ সাধু সন্ন্যাসীরা বাবু তিনকড়ি চক্রবর্তীকে নিরাপত্তা অফিস ভাংচুর না করার জন্য হাত জোর করে বিনীত অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি তাতে কোন রকম কর্ণপাত না করে সাধুদের বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মন্দির ও সাধুনিবাস উচ্ছেদ করার হুমকি প্রদান করেন। এ কার্যক্রমে উনাকে বাধা দেয়া হলে উনি সাধুদের নামে মিথ্যা মামলা করে জেল খাটানোর হুমকিও দেয়।

সকল সনাতনী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ সুশীল সমাজের কাছে আমাদের বিনম্র প্রার্থনা, প্রবর্তক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী শ্রীযুক্ত মতিলাল রায় মহোদয় কর্তৃক সনাতন ধর্ম প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ সংঘের সাথে ইসকনের মৌলিক উদ্দেশ্যের কোন পার্থক্য নেই। প্রবর্তক সংঘের মেমোরেন্ডামের ৩(ক), (খ),(গ),(ঘ),(ঙ) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, সনাতন ধর্মের শ্রæতি,স্মৃতি ও ন্যায় এ তিনটি প্রস্থানের উপর ভিত্তি করে সংঘের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে ভগবৎ চেতনা জাগ্রত করা এবং সর্বত্যাগী সাধু সন্ন্যাসীদের দ্বারা সনাতন ধর্মের প্রচার ও প্রসার করাই হল এ সংঘের মূল উদ্দেশ্য। সংঘের নীতি নিয়মের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে সংঘের পরিচালনা কমিটি গঠিত হবে সাধু সন্ন্যাসী ও আজীবন সদস্যদের সমন্বয়ে। অথচ তারা সাধু সন্ন্যাসীদের সংঘ পরিচালনার বাইরে রেখেই একতরফাভাবে এ সংঘ পরিচালনা করে আসছে। এটার একটাই উদ্দেশ্য -সর্বত্যাগী সাধুদের পরিচালনার বাইরে রাখলে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন অধিকতর সহজ হবে।
এতে বলা হয়, ইতিমধ্যে প্রবর্তক সংঘ এ ভূমির অমর্যাদা করে হিন্দুদের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে এ ভূমির বিভিন্ন অংশের মালিকানা ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন-বিগত ১৭ বছরে সনাতনীদের অর্থব্যয়ে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণে তারা সহযোগিতা করে আজকে কেন ইসকনকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে ? আমাদের আশংকা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি কোটি টাকা মূল্যে হস্তান্তর করে দেয়া ভ‚মির মত এ মন্দির ও মন্দির সংলগ্ন এলাকাও বরাদ্দ দিয়ে দিতে পারে।
যেখানে শেভরণ, বেলভিউ, প্রাইম ব্যাংক, চক্ষু হাসপাতাল, কয়েকটি গাড়ির ওয়ার্কশপ,ক বরস্থান, চায়ের দোকান, পেট্রোল পাম্পের, ফলের দোকানের মত স্থাপনা নির্মাণে জায়গা বরাদ্দ দিতে পারে, সেখানে ধর্মীয় কাজে এ ভ‚মি ব্যবহারে তাদের আপত্তি সাধারণ হিন্দু সমাজের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ।

১৪ই মার্চ ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর পর আমরা থানায় অভিযোগ করার জন্য গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আমাদের অভিযোগ গ্রহন না করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। বিশ^ব্যাপী একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা আশা করেছিলাম দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে হামলাকারীরা অনুতপ্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করবে। কিন্তু ,চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। তারা এরই মধ্যে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ইসকন কর্তৃপক্ষ ২১ মার্চ প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা (মামলা নং- সি আর ১৮১/২০২১) দায়ের করে। একই সাথে সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সনাতনী সম্প্রদায়কে নিয়ে আমরা নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছি।

বিগত ১৪ মার্চের এই ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে পরিবেশন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসকন কর্তৃপক্ষ।
বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের নীতিকে উপেক্ষা করে একপেশে সংবাদ পরিবেশন করায় ইসকনের সুনাম বিনষ্ট হয়েছে এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হেনেছে। ভবিষ্যতে আরো সর্তকভাবে সংবাদ পরিবেশন করে সাংবাদিকদের উপর আমাদের আস্থা ও বিশ^াস যাতে অটুট থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেন মন্দিরের অধক্ষ্য

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন