শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮, ১৭ সফর ১৪৪৩ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

আজ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ জুলাই, ২০২১, ১২:০২ এএম

আজ প্রখ্যাত আবৃত্তিকার ও অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। তিনি ৭৬ বছরে পা রাখছেন। তবে জন্মদিনকে ঘিরে তার নিজের কোন বিশেষ আয়োজন নেই। তিনি জানান, ঘরোয়াভাবেই রাজধানীতে নিজ বাসায় জন্মদিন উদযাপিত হবে। তবে করোনা মহামারী বিবেচনায় তার জন্মদিনের হীরকজয়ন্তী আয়োজনটি অনলাইনে উক্ত দু’দিন বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদের ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার হবে। নিজের জন্মদিন প্রসঙ্গে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বেশ মজা করেই বলেন, ‘আমি তো আসলে সবসময় নিজেকে ৩৩ বছরের একজন মানুষ মনেকরি। আজ ৩৪-এ পা রাখবো। যাইহোক, আমি আমার বাবা কালিকানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও মা ¯েœহলতা দেবীর ভালোবাসার ফসল। আর মানুষের ভালোবাসাই আমাকে আজ এতোদূর নিয়ে এসেছে। একজন শিল্পী হিসেবে আমি এখনো অতৃপ্ত। আমার মাঝে অতৃপ্তি রয়ে গেছে, সেটা আবৃত্তিতেও এবং অভিনয়েও। আমি আজীবন একজন শিক্ষার্থী। জন্মদিনে সবার কাছে আশীর্বাদ চাই যেন সুস্থ থাকি ভালো থাকি।’ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় মূলত একজন আবৃত্তিশিল্পী। ১৯৬৯ সালে লেনিন জন্মশতবার্ষিকীতে কলকাতার রঞ্জি ইনডোর স্টেডিয়ামে তিনি নজরুল-তনয় কাজী সব্যসাচীর সঙ্গে দ্বৈত ও একক আবৃত্তি করেন। তিনি ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, স্কটল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালীন শুরু হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পাঠ স্থগিত রেখেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭০-এর দশকে ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে একাধিক একক আবৃত্তির অনুষ্ঠান করে জনপ্রিয়তা পান তিনি। আবৃত্তিকার হিসেবে তিনি শিল্পকলা পদক, গোলাম মুস্তফা পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক সম্মাননা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ১৯৭০-এর দশক থেকেই টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। আলমগীর কবিরের সান্নিধ্যে এসে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। আশির দশকের মাঝামাঝি মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি সূচনা-তে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তারেক মাসুদের মাটির ময়না, রানওয়ে, হুমায়ুন আহমেদের ঘেঁটুপুত্র কমলা, নয় নম্বর বিপদসংকেতসহ বেশ কয়েকটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান করেন। বাংলাদেশে বৃন্দ আবৃত্তির (কয়্যার) সূচনা করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, ফ্রান্স, বৃটেন, স্কটল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশে দর্শনীর বিনিময়ে ১৪ টি একক আবৃত্তির অনুষ্ঠান করেছেন। বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী এই মানুষটি বেশ কিছুদিন ধরে লেখালেখিও করছেন। ইতোমধ্যে তাঁর আপনি, তুমি, তুই, আমি এবং কবি ও তুমি- শিরোনামে ৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং পূর্বাহ্ণ, মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ন ও মহাকাব্যিক কল্পকথা- শিরোনামে ৪টি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন