রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বস্তি ছেড়ে গ্রামে ফিরলে জমি-ঘর-খাবার মিলবে

সরকারি আবাসনে দিগন্তের উন্মোচন, ২৪৭৪ ফ্ল্যাটের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:০০ এএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ আরো আগেই সুন্দর ও উন্নত জীবন পেতো বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতার যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন পূরণ করাটাই একটা দায়িত্ব এবং সেটাই হচ্ছে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। জাতির পিতার দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন, মালিবাগ এবং মতিঝিলে ২ হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট সম্বলিত ৫টি আবাসন প্রকল্প এবং বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে নির্মিত ৩০০টি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া, অনুষ্ঠানে মাদারীপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্মিত সমন্বিত অফিস ভবনও উদ্বোধন করেন তিনি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মাঝে ফ্লাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন।

শেখ হাসিনা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই আগস্ট মাসে বস্তির মানুষগুলো যে থাকার একটা সুন্দর জায়গা পাবে এটিই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আমরা মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। কিন্তু আমি জানি জাতির পিতা বেঁচে থাকলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ১০ বছরের মধ্যেই দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেত। প্রত্যেকটি গ্রাম এবং ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উন্নত হতো। কাজেই সে কাজটাই আমরা এখন করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাড়ে তিন বছর একটা রাষ্ট্রের জন্য কম সময়। তখন তো একটা প্রদেশ ছিল, সেটা দেশে উন্নীত করা ও তা গড়ে তোলা, এটা তিনি করে গেছেন। কিছু বেইমান-মুনাফেকের জন্য তার ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হয়নি। আমাদের একটা লক্ষ্য আছে যে দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকের একটা ঠিকানা হবে এবং যারা বস্তিতে বসবাস করছেন তাদের জন্যও একটি সুষ্ঠু আবাসন ব্যবস্থা আমরা করে দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সবসময় একটি কথাই বলতেন, আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলাদেশের মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, তারা উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। এই বাংলাদেশের মানুষ রোগে-শোকে জর্জরিত শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের ভাগ্যোন্নয়ন করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর মূল লক্ষ্য। এজন্য ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংগ্রাম করেছেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি থেকে তিনি ধাপে ধাপে জাতিকে মুক্ত ও স্বাধীন করেছেন। আর এই আন্দোলন-সংগ্রামই তাকে জেলে নিয়েছে, নির্যাতন করেছে, হত্যা করতে চেয়েছে। জাতির পিতা প্রত্যেকটি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করেন। জেলা গভর্ণর নিয়োগ দেন, যাতে প্রত্যেকটি জায়গা পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু ’৭৫-এর পর এ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ফেলা হয়। সকলের জন্য সুষ্ঠু আবাসন নিশ্চিত করতে এবং এক ছাদের নিচে সরকারি সব সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে তার সরকারের উদ্যোগ।

তিনি বলেন, প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স করে দিয়েছি। যাতে এক জায়গা থেকে সব সেবা পাওয়া যায়। পরে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন করে দিয়েছি। এখন মাদারীপুরে জেলায় কমপ্লেক্স করে দিলাম। এক ছাদের নিচে সব সরকারি সেবা পাবে মানুষ। সব জেলা ও উপজেলায় কমপ্লেক্স করে দেব। অফিসারদের থাকার জন্য ও ফ্ল্যাট করে দেব। জাতির পিতা হত্যাকান্ডের সময় দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফেরায় তৎকালীন সামরিক জান্তার নানা প্রতিবন্ধকতার। তিনি বলেন, আমার আসার পথ সহজ ছিল না। তৎকালীন সামরিক শাসক যিনি ছিলেন, অনেক রকম বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমার দল ও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় ফিরে আসি।

আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে একরকম জোর করেই দেশে ফেরার স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমি দেখে ছিলাম হাজার হাজার মানুষ। যাবার সময় যে পরিবারের সদস্যরা ছিল তারা কেউ ছিল না। কিন্তু হাজারে হাজারে সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ পেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা ক্ষমতায় এবং একটাই চিন্তা, সেট হলো, একেবারে তৃণমূলে পড়ে থাকা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তাদের জীবনমান উন্নত করা এবং তাদের সুস্থ ও উন্নত জীবন দেয়া। যে মৌলিক চাহিদার কথা সংবিধানে বলা আছে তা পূরণ করা। যে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে তার কাজ তাদের জীবন মান উন্নত করাকেও কর্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের নিয়ে আমরা কাজ করাব, তাদের ভালো-মন্দও তো দেখতে হবে। কাজেই, আমি সরকার গঠন করে উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সকলকে ফ্ল্যাট করে দেব। সুন্দর পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেব, যাতে কর্মকর্তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারেন। এক সময় আজিমপুর সরকারি কলোনিতে গ্যাস না থাকায় তা দেয়ার এবং তিনতলা ভবনগুলো চারতলা করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার সরকার ঘরে ফেরা কর্মসূচি পুনরায় নতুন উদ্যোমে শুরু করতে যাচ্ছে, যাতে বস্তির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে না থেকে নিজ বাড়িতে থেকে দরিদ্র ভাসমান মানুষ কিছু করে খেতে পারেন। ঢাকা শহরে অনেক বস্তি, গ্রামের ঘর-বাড়ি ছেড়ে এই বস্তি জীবনের কারণ অনুসন্ধানে তিনি ৯৬ পরবর্তী সরকারে এসে বস্তিবাসী অনেক ছেলে-মেয়েকে গণভবনে ডেকে এনে তাদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং বস্তিবাসী যারা ফিরে যেতে চান তাদের জন্য ঘরে ফেরার কর্মসূচি নেন। একজন বস্তিবাসী নিজ গ্রামে ফিরলে তার ভিটেমাটি থাকলে সেখানে বিনে পয়সায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে দেয়া, তাকে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়া এবং ছয় মাসের খাবার বিনে পয়সায় দেয়া- সে কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এজন্য ১৮ হাজার পরিবার নিজ গ্রামে ফিরে গিয়েছে। তিনি বলেন, ৯৬ পরবর্তী সরকারে এসেই হরিজন ও দলিত শ্রেণীর জন্য ফ্ল¬্যাট নির্মাণ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের বস্তিবাসীদেরর জন্য ভাসানটেকে ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু করেন। যা পরবর্তী বিএনপি সরকার এসে লুটপাট করে খায়। ফলে ২০০৯ সালে সরকারে এসে আবার নতুন ভাবে সেই কাজ শুরু করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ৩০০ পরিবারকে ৩০০ ফ্ল্যাট দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ফ্ল্যাট দেব। তবে বস্তিতে যেমন ভাড়া দিয়ে থাকেন তেমনি ভাড়া দিয়ে থাকতে হবে। সেটা মাসিক, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক-যার যেমন সুুবিধা সেভাবে হতে পারে। আর কেউ গ্রামে যেতে চাইলে সে ব্যবস্থাও করবো। গ্রামে ঘরবাড়ি করে দেব। ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং ছয় মাসের খাবারও বিনামূল্যে পাবেন।

তিনি বলেন, পূর্বাচলে যাদের জমির মালিকানা ছিল, তাদের একটা করে প্লট করে দেয়ার কথা ছিল। সেটা কেউ করেনি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নামমাত্র মূল্যে তাদের প্লটগুলো দিয়েছে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকার গঠন করেন তখন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ৮ শতাংশেরও কম আবাসনের সুবিধা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের ফলে এ সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে যা দেশের আবাসন খাতে উন্নয়নের একটি বড় মাইলফলক।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো, দেলোয়ার হায়দারসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
নুরজাহান ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৩ এএম says : 0
Good idea
Total Reply(0)
Md Rafiqul Islam ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৪ এএম says : 0
শহরে ফ্লাট দিলে গ্রামে যাইবো কি করতে!
Total Reply(0)
Mahibbul Khan ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৪ এএম says : 0
একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
Total Reply(0)
Akash Ikbal Shadin ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৫ এএম says : 0
মানবতার অপর নাম শেখ হাসিনা। তিনিই পারেন। বাংলাদেশ তার হাতেই নিরাপদ
Total Reply(0)
শেবলু আহমদ ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৫ এএম says : 0
চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
Total Reply(0)
Sheikh Md Sirajul ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৫ এএম says : 0
১০০%সঠিক সিদ্ধান্ত। প্রয়োজনে সামান্য পরিমান জমিও ক্রয় করে দেওয়ার প্রস্তাব করছি।
Total Reply(0)
নীল কাব্য ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৬ এএম says : 0
শহরে জনসংখ্যা চাপ নিয়ন্ত্রন জন্য ভালো পরিকল্পনা , সবচেয়ে ভালো উদ্যোগ.... জয় বাংলা.
Total Reply(0)
Mohammed Siddiqui ৪ আগস্ট, ২০২১, ৫:১৫ এএম says : 0
Sheikh Hasina and Imran Khan are blessing for Bangladesh and Pakistan respectively.
Total Reply(0)
Rafiul karim ৪ আগস্ট, ২০২১, ৭:০৯ এএম says : 0
it will be the best idea for slums dwellers.
Total Reply(0)
Nasir ৪ আগস্ট, ২০২১, ৪:৩৪ পিএম says : 0
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায় ও চালের দাম কেজি প্রতি 40 টাকার নিচে নামিয়ে আনলে এবং ঐ ধারা অব্যাহত রাখলে মাননীয় শেখ হাসিনার উপর জনগণের ভালবাসা আরও বেড়ে যাবে এবং জনগণ চাবে মাননীয় শেখ হাসিনার ক্ষমতা আরও দীর্ঘায়িত হোক।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন