রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০১ কার্তিক ১৪২৮, ০৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

শিক্ষা নগরী রাজশাহী ফিরেছে চিরচেনা রুপে

রেজাউল করিম রাজু | প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:২৫ পিএম

দেড় বছর পর চিরচেনা রুপে ফিরেছে শিক্ষা নগরী রাজশাহী। করোনার কারণে ছেড়েছিল এখানে পড়তে আসা লাখ খানেক শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী ছিল প্রাণচাঞ্চল্যের আধার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় ওরা ফিরেছিল নিজ ঘরে। দেড়টা বছর এক দু:সহ সময় অতিক্রম করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করাই ওরা আবার ফিরতে শুরু করেছে। ফাঁকা নগরী এখন মুখরিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা বিনোদনকেন্দ্র ফাষ্টফুডের দোকান থেকে নদী তীরের ফুচকা চটপটি ওয়ালাদের কাছে ভীড় বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের পেয়ে মেতেছে আনন্দে। কথার যেন খৈ ফুটছে। এমন চিত্রই দেখা গেল পদ্মা তীরের বিনোদন স্পটগুলো ঘুরে। ভীড় বেড়েছে বিভিন্ন বিপণী বিতানে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের পোষাকের দোকানে প্রচন্ড ভীড়। টেইলার্সগুলোতেও ভীড় বেড়েছে। কসমেটিক্স থেকে পার্লার সর্বত্রই এদের আনাগোনা।

প্রাণ ফিরে পেয়েছে নগরীর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক মহল্লাগুলো। খাঁ খাঁ করা মেসগুলো ফের ভরতে শুরু করেছে। অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রী থাকেন ছাত্রাবাস কিংবা ছাত্রীনিবাসে। এর পাশাপাশি সরকারী প্রতিষ্ঠানের হোষ্টেলেও থাকেন অল্প সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী। স্কুল কলেজ খুললেও এখনো খোলেনি আবাসিক হল। ফলে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে রাজশাহীর মেসগুলোকে।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই আবার মেস বন্ধ করে বাড়িভাড়া দিয়েছেন। ফলে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ছাত্র ছাত্রীদের মেসে সিট মিলছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কারণে ছাত্র ছাত্রীরা আসছেন শহরে। কিন্তু এসে মেস খুঁজতে গিয়ে প্রতিটি মেসেই দেখছেন সিট খালি নেই সাইনবোর্ড। এনিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই পড়েছেন ভোগান্তিতে। রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতির তথ্যমতে, রাজশাহীতে ছোট বড় বাড়ি, আবাসিক, অফিসিয়াল ও আন অফিসিয়াল মেস সুবিধা আছে প্রায় ৫ হাজার ভবনে। তবে বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে ওঠা মেসের সংখ্যা সাড়ে ৪শ।

এদিকে রাজশাহী কলেজ, নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজ, সিটি কলেজ, কলিজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ ও মহিলা কলেজে আবাসন সুবিধা আছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসন সুবিধা আছে ২হাজার ৫৪৮ জনের। এদের মধ্যে রাজশাহী নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজে অনার্স পড়–য়া শিক্ষার্থীদের কারো জন্য কোন সিট নেই। এখানে ৩টি হোস্টেল রয়েছে। ছেলেদের দুটি, মেয়েদের একটি। ছেলেদের দুটি হোস্টেল মিলে ৩০০ শিক্ষার্থী থাকেন এবং মেয়েদের হোস্টেলে ২০০ জন থাকেন। এছাড়া বাকি শিক্ষার্থীই বাইরে মেসে থাকেন। ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে ছাত্রদের জন্য রয়েছে ২টি হল ও মেয়েদের জন্য রয়েছে ২টি। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ১৬শ জনের। রাজশাহী সরকারী মহিলা কলেজে আবাসিক ছাত্রীদের জন্য দুটি ভবন বিশিষ্ট একটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। একটি তিনতলা এবং অন্যটি চারতলা বিশিষ্ট ভবনে সর্বমোট ৩৬০ জন ছাত্রী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রাজশাহী সাহেব বাজার, আলুপট্টি, উপশহর, হেঁতেমখা, কুমারপাড়া, কাদিরগঞ্জ, কলাবাগান, কাজলা, বিনোদপুর, তালাইমারি, মেহেরচন্ডি এলাকায় মেসের সংখ্যা সব থেকে বেশি। এরমধ্যে কাজলা, বিনোদপুর, তালাইমারি, মেহেরচন্ডি এলাকার মেসগুলোতে মূলত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি থাকেন। বাকি এলাকাগুলোর বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রীই নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। এসব এলাকার প্রায় সব মেসেই টাঙ্গানো আছে সিট খালি নেই।

রাজশাহীর সাহেব বাজার এলাকায় সিট খুজছিলেন সিহাব ইসলাম। তিনি বলেন, কলেজ খুলে গেছে। করোনার কারণে মেস ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। এখন এসে দেখি সিট নাই। দুদিন ধরে অনেক জায়গায় ঘুরেছি। আজ সকাল থেকে দুই ঘন্টা ধরে ঘুরছি। কোন সিট পাচ্ছিনা। কয়েকদিন ধরে এক বন্ধুর মেসে আছি। দেখি থাকার জন্য তো একটি সিটের দরকার।
রাজশাহীর সব থেকে বড় ছাত্রাবাস হিসেবে পরিচিত সাহেব বাজার মোল্লা ভবন। সেখানকার ম্যানেজার জুয়েল বলেন, করোনায় পুরো ফাঁকা হয়ে গিয়েছিলো মেস। মাসের পর মাস ফাঁকা পড়ে ছিলো পুরো ছাত্রাবাস। তবে স্কুল খোলার ঘোষণার পর থেকেই মেসে চাহিদা বেড়েছে। এখন কোন সিট ফাঁকা নেই। পুরো মেস ভর্তি।

এদিকে স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে আমর শুধুমাত্র এইচএসসির শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দিবো। রাজশাহী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, আমাদের হোস্টেল এখন বন্ধ আছে। তবে আমরা শুধুমাত্র এইচএসসির জন্য হল খুলে দিবো। যাদের ক্লাস শুরু হয়েছে তাদের জন্য আমরা এটি চালু করবো। আমরা ইতোমধ্যে নোটিশ দিয়ে দিয়েছি। যারা দ্বাদশ শ্রেণীতে আছে তারা করোনা টেস্ট করে নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসলে হলে উঠতে পারবে। এছাড়াও একাদশ শ্রেণীর জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। ২০ তারিখের মধ্যে আমরা এটি জমা দিতে বলেছি। আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বলেছি তোমাদের মেসে উঠতে হবেনা। তোমরা আবেদন করো।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলছে। আবার ভর্তিচ্ছুরাও রয়েছে। ফলে আবাসন সংকট প্রকটই হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাই মেস মালিকরা বেশ খুশি। অনেকের আয়ের পথই ছিল মেস ব্যবসা। তারা দারুন কষ্টে ছিল। খুশি এসব মেসে কাজ করা আয়া, বুয়া, টোকাইরা। ডিম, মাছ, মাংস, শাকসবজির ব্যবসায়ীরাও খুশি। বিনোদনকেন্দ্র ও ক্যাম্পাসে ফেরি করে বেড়ানো, বাদাম, পেয়ারা, ঝালমুড়ি ফেরিওয়ালারাও। নগরীর গনকপাড়া এলাকায় দেখা গেল বালিশ চাদর তোষকের বেচা বিক্রি ভাল। সব মিলিয়ে এখানকার অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে এখানে পড়তে আসা প্রায় লাখ দেড়েক শিক্ষার্থী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন