শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

গারো পাহাড়ি অঞ্চলে হাতির জন্য অভয়ারণ্য হচ্ছে

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৪৩ পিএম

গারো পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যহাতির তান্ডবের কয়েকটি সচিত্র প্রতিবেদন অতি সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে ছাপার পর অবশেষে টনক নড়েছে সরকারের। তাই শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে হাতির জন্য অভয়ারণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উল্লেখ্য গারো পাহাড়ি অঞ্চলে বিগত ২৭ বছর ধরে চলে আসছে হাতি ও মানুষের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে সরকারি হিসেবেই গত ২৭ বছরে ৫৮ জন মানুষ ও ৩২টি হাতি মারা গেছে। আহত হয়েছে ৫ শতাধিক মানুষ। পঙ্গু হয়েছে শতাধিক অসহায় মানুষ ও বন্যহাতির তান্ডবে বাড়িঘর ভাংচুর হয়েছে অনেক। হাতিও মরেছে ৩২ টি। কোটি কোটি টাকার ফসল গেছে হাতির পেটে, পাহাড়ি অঞ্চলের শত শত মানুষ পথে বসেছে। এ অবস্থার নিরসনে বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধ ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষার্থে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবেও অনেক প্রতিবাদ হচ্ছে। এই অঞ্চলে হাতি-মানুষের যুদ্ধ নিরসন করতে বা কমাতে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষা করতে বিভিন্ন সময়ে সরকারি বেসরকারিভাবে কোটি কোটি টাকায় নানা প্রকল্প গ্রহণ করেও কোনো কাজে আসেনি। ফলে দিনদিন বেড়েই চলছে হাতি ও মানুষের মৃত্যুর মিছিল। তাই হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকার বর্তমানে হাতির জন্য অভয়ারণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই অভয়ারণ্যের জন্য ইতোমধ্যে জরিপ কাজ ও শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়া সীমান্তের পাহাড় ও বনে হাতি-মানুষের সহাবস্থানের জন্য নানা পরিকল্পনার গ্রহণ করা হয়েছে। বন বিভাগ ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়িতে দফায় দফায় জণসচেতনামূলক সভা অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জ এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে জনসচেতনতা মূলক সভায় প্রধান বনসংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী হাতির জন্য সরকার পাহাড়ি অঞ্চলে অভয়ারণ্য করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। একই সভায় প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেছেন, গত ২১ নভেম্বর বন্যহাতি হত্যা বন্ধের জন্য উচ্চ আদালতে এক রিট আবেদন ও করা হয়েছে। রিটে সরকারের কাছে দ্রুত মানুষ ও হাতি হত্যা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সে জন্য মানুষ ও বন্যহাতি হত্যা বন্ধে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

এ সময় নালিতাবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা চেয়ারম্যনগণ, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. ফারুক আল মাসুদ, নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন,ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফায়েজুর রহমান, শ্রীবরদী উপজেলার ইউএনও, ওসি সহ সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ ওই সভায় বক্তব্য রাখেন। মধূটিলা রেঞ্জের রেঞ্জার আবদুল করিম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন