বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে আ.লীগ

ইয়াছিন রানা | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০১ এএম

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড হয়েছে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে। ১০ম ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এ পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ৩৬০ জন। তিন হাজার ৯৯২টি ইউপিতে শতাংশের হিসাবে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিনা ভোটে। এ নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনে না এসে নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্রহীনতা, বিনা ভোটে নির্বাচিত হবার প্রশ্ন তুলছে। বিএনপি দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আগেই প্রশ্ন তুলেছে কিন্তু এবারের ইউপি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশাল সংখ্যক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবার বিষয়টি ভাল ভাবে কাজে লাগিয়েছে দলটি। এ নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীনরা। তাই বেশ অস্বস্তি কাজ করছে সরকারের মাঝে।

নানাভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে হচ্ছে দেশের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোন ধরণের সমস্যা নেই। বিনা ভোটে নয়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন অনেকে এবং বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার রেকর্ড রয়েছে। উন্নত গণতন্ত্রের পক্ষে সরকারের শক্ত অবস্থানকেও স্পষ্ট করতে হচ্ছে।

এ নিয়ে ১৬ জানুয়ারি দেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিং করে গণতন্ত্রের পক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের জোরালো অবস্থান; বিনা ভোটে নয়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া, দেশের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ওই ব্রিফিং এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কূটনীতিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, কূটনীতিকরা নির্বাচন নিয়ে সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট।

তবে গণমাধ্যমের সামনে সরকারের মন্ত্রীরা কোন ধরণের সমস্যা নেই বলে প্রচার করলেও ভিতরে ভিতরে চলছে অস্বস্তি। এ ধরনের বিজয়কে গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয় উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের হাই-কমান্ডের নেতারা বলছেন, সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন দেশের সাথে লবিং বা অন্যান্য যোগাযোগের জন্য যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা ঠিকভাবে কাজ করছে না বিধায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে বুঝাতে হচ্ছে দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কোন সমস্যা নেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয় সামনে আসায় সরকারের লবিষ্ট ও কর্মকর্তাদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সরকারের উপরের মহলে।


সামনে দেড়শ’র মতো ইউপির তফসিল চলমান। ওই ধাপের ফলাফলের পর এ সংখ্যা আরও বাড়বে। বিনা ভোটে জয়ীরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। আর এটাই কিছুটা মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দলের জন্য।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমন্ডলীর কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, এবার ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্তিায় নির্বাচিতের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। এ ছাড়া বিএনপিসহ কিছু দলের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পাশাপাশি ভীতি সৃষ্টির কারণেও অনেকে ভোটবিমুখ হয়েছে। এটা কীভাবে বন্ধ করা যায় সেটা ভাবতে হবে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। অন্য যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদেরও আহ্বান জানাবো বিষয়টি চিন্তা করতে।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নবম ইউপি নির্বাচনে ২১২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন বিনা ভোটে। পাশাপশি সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য পদেও বিনা ভোটে জয়ের রেকর্ড হচ্ছে এবার। চেয়ারম্যানসহ তিনটি পদে মোট এক হাজার ৭১৫ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া।
গত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ ধাপে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। ইসি থেকে শনিবার ২১৯টি ইউপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এতে দেখা গেছে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন বিনা ভোটে জয়ী হয়েছেন।

এর আগে প্রথম ধাপে ৩৬৪ ইউপির মধ্যে ৭১ জন চেয়ারম্যান, দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৪টি ইউপিতে ৮১ জন চেয়ারম্যান, তৃতীয় ধাপে ১০০৮টি ইউপিতে ১০০ জন চেয়ারম্যান, চতুর্থ ধাপে ৮৩৬টি ইউপিতে ৪৮ জন চেয়ারম্যান, পঞ্চম ধাপে ৭০৭টি ইউপিতে ৪৮ জন চেয়ারম্যান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন গঠতন্ত্রের জন্য সুখকর নয় মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতে আমরা সংসদ নির্বাচনেও এ রকম জয়ের রেকর্ড দেখেছি। কোনও দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস হলে এবং জনগণ নির্বাচন বিমুখ হলে এমনটা হয়। এটা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিহীন নির্বাচন নতুন কিছু নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এটা দেখা যায়। তবে এটা ঠিক এবার ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্তিায় নির্বাচিতের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
বাশীরুদ্দীন আদনান ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৩৭ এএম says : 0
তাদের প্রায় সব জয়ই প্রশ্নবিদ্ধ
Total Reply(0)
Md Aslam ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৫৮ এএম says : 0
প্রশ্ন টা করে কে। রাজনৈতিক ভাবে সব মোকাবেলা করে আওয়ামীলীগ এখন একটা সফল দল
Total Reply(0)
Muhammed Murad ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৫৮ এএম says : 0
টাকা আর পাওয়ার থাকলে সব করা যায়
Total Reply(0)
Sujan Talukdar Joy ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৫৮ এএম says : 0
প্রতিদ্বন্দ্বী হলে ইউপি কেন সকল নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামিলীগ ফেল মারবে। আওয়ামিলীগ প্রশাসন ছারা পঙ্গু দলে পরিনত হয়েছে।
Total Reply(0)
Duniyar Musafir ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৫৯ এএম says : 0
সব বিনাভোটের অটোপাশ এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান, মেম্বার!
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন