শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

শেরপুরে বন্যহাতির তাণ্ডব, বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি,এক যুবক আহত

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০২২, ৩:৩২ পিএম

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির অব্যাহত তাণ্ডবে চলতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোববার গভীর রাতে বন্যহাতি সীমান্তবর্তী বারমারী, আন্ধারুপাড়া ও ডালুকোনা গ্রামে তাণ্ডব চালায়।
স্থানীয়রা জানান,রোববার রাত দুইটার দিকে ৩০-৪০টি বন্যহাতি খাবারের সন্ধানে আন্ধারুপাড়াও ডালুকোনা গ্রামে বোরো ফসলের মাঠে নেমে আসে।উঠতি বোরো ধানের ক্ষেত খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে।কৃষক লুইস সাংমার ৫০ শতাংশ, হাসমত আলীর ৫০ শতাংশ, জর্জ মারাকের ৭৫ শতাংশ,হালিমউদ্দীনের৫০ শতাংশ, হোসেন আলীর ৭৫ শতাংশ, লিটন মিয়ার ৫০ শতাংশ, জন মারাকের ৪০ শতাংশ, প্রশান্ত সাংমার ২৫ শতাংশ, অমিত সাংমার ২৫ শতাংশ, ইন্তাজ আলীর ২০ শতাংশ, চাঁন মিয়ার ১৫ শতাংশ ও শাহাব উদ্দিনের ১ একর জমির ধান ক্ষেত খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে। ধানের ক্ষেত খেয়ে তাণ্ডবে কৃষক হতাশায় পড়েছেন। কৃষকরা বন্যহাতির তাণ্ডব বন্ধসহ সরকারি সহযোগিতার দাবি জানান।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। 
বন বিভাগের মধুটিলা ইকোপার্ক রেঞ্জকর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, বন বিভাগের ফরমে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দে’য়া হবে।
বন্যহাতির আক্রমণে যুবক গুরুতর আহত
গরু খুঁজতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে হযরত আলী নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি উপজেলার দাওধারা কাটাবাড়ীর মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
শনিবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী দাওধারার গহীন অরণ্যে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে খাদ্যের সন্ধানে দাওধারা-কাটাবাড়ী বনবিভাগের সামাজিক বন ও লোকালয়ে হানা দিচ্ছে ২২-২৫টি বন্যহাতি। খেয়ে সাবাড় করছে বোরো ফসলের মাঠ, বিনষ্ট করলে গাছপালা। দুপুরে হযরত আলী বাড়ি থেকে গহীন অরণ্যে চরাতে দেওয়া গরুর খোঁজ নিতে যান। ঐ সময় তার ওপর আক্রমণ হালায় বন্যহাতির পাল।
হযরত আলীর মা জানান, বন্যহাতি তার ছেলেকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে এবং পা দিয়ে পিষে গুরুতর আহত করেছে। ঐ অরণ্যে গরু চড়াতে যাওয়া সৈয়দ আলী ও মোখলেছসহ অন্যরা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, ইতিমধ্যেই আহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী আহত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বন্যহাতি আক্রমণে যে কেউ যেকোনো ধরনের ক্ষতির শিকার হলে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps