সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯, ০৯ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র বিপর্যয় নিয়ে যৌথ তদন্তের আহ্বান ওআইসি’র

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ মার্চ, ২০২২, ১২:৫৪ পিএম

পাকিস্তান বৃহস্পতিবার অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনকে সমস্ত ফ্রন্টে একটি ‘অসাধারণ সাফল্য’ বলে অভিহিত করে বলেছে যে, ৫৭-সদস্যের ইসলামী সংস্থা দীর্ঘস্থায়ী জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের জন্য দ্ব্যর্থহীন সমর্থন প্রকাশ করেছে।

‘স্বাধীনতার ৭৫ তম বার্ষিকীর সাথে মিল রেখে, পাকিস্তানের ইতিহাসে এবং ইসলামী বিশ্বে আমাদের নেতৃস্থানীয় ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এটি একটি যুগান্তকারী সম্মেলন। এটি পাকিস্তানের কূটনীতির জন্য একটি দুর্দান্ত ঘটনা ছিল,’ পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আসিম ইফতিখার একটি সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন।

তিনি বলেন, ওআইসি সম্মেলন মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতি। সম্মেলনের সাফল্য তুলে ধরে, মুখপাত্র বলেন, কাশ্মীর থেকে ফিলিস্তিন এবং ইসলামোফোবিয়া থেকে ইসলামিক দেশগুলোর মুখোমুখি অন্যান্য সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ১৪০ টি প্রস্তাব এ সম্মেলনে দ্বারা গৃহীত হয়েছে। তিনি বিশেষ করে ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের পাশাপাশি কাশ্মীর বিষয়ে ওআইসি কন্টাক্ট গ্রুপের দ্বারা পৃথকভাবে গৃহীত জোরালো প্রস্তাবের উল্লেখ করেন।

ওআইসি সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বুধবার দুই দিনের সম্মেলন শেষ হয়। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ সম্মেলনে গত ৯ মার্চ ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনায় যৌথ তদন্তের জন্য পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন করে একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। ভারত বলেছিল যে, তারা এটি ভুলবশত পাকিস্তানে নিক্ষেপ করেছে।

ভারত এখনও যৌথ তদন্তের জন্য পাকিস্তানের আহ্বানে সাড়া দেয়নি কারণ তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইসলামাবাদের উত্থাপিত নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেয়নি। পাকিস্তান দাবি করেছে যে, ওআইসিও কাশ্মীর নিয়ে নিছক রেজোলিউশনের বাইরে যেতে সম্মত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে বাস্তব পদক্ষেপের জন্য একটি কর্ম পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।

বিশেষ করে আগস্ট ২০১৯ সালে ভারত বিতর্কিত অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার পরে পাকিস্তান ওআইসি দেশগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি সমর্থন চাচ্ছে। কিন্তু আরব দেশগুলো সহ কিছু সদস্য তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে ভারতকে স্পষ্টভাবে নিন্দা করতে অনিচ্ছুক ছিল। তা সত্ত্বেও, সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন, তিনি কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপন করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলোর সাথে সঙ্গতি রেখে এর সমাধানকে সমর্থন করেছিলেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও তার বক্তৃতায় দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন, যা ভারতের কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নয়াদিল্লি দাবি করেছে যে, বেইজিং বা অন্য কোনও দেশের কাশ্মীর নিয়ে কোনও অবস্থান নেই। পাকিস্তান অবশ্য ভারতীয় বিরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্পষ্ট করেছে যে, কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধ যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন দ্বারা স্বীকৃত। সূত্র: ট্রিবিউন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন