মঙ্গলবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পাকিস্তানের মতো বিধ্বংসী বন্যা বিশ্বে আরো ঘন ঘন হবে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান সফরের সময়, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন যে, গত মাসে দেশটি তলিয়ে যাওয়া বন্যার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা বর্ণনা করার জন্য তার কাছে ‘কোন ভাষা নেই’। তবে সংখ্যা অন্তত দুর্যোগের মাত্রা পরিমাপ করতে পারে। এ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ এরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে; ১৭ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির তুলা ফসলের অর্ধেক ধুয়ে গেছে, এবং এই বছরের গম উৎপাদন অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকার অনুমান করেছে যে, বন্যার জন্য ৩ হাজার কোটি ডলার (জিডিপির ৯ শতাংশ) খরচ হবে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ধনী দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য আহŸান জানিয়েছেন। এটি শুধু পরোপকারের জন্যই নয়, তারা যুক্তি দেন যে, ওই দেশগুলোর কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। জলবায়ু মডেলারের একটি নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন প্রজেক্ট (ডবিøউডাবিøউএ) দ্বারা ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, গেøাবাল ওয়ার্মিং সম্ভবত ভারী বৃষ্টির মাধ্যমে বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷
বন্যা এবং বিস্তৃত জলবায়ুর প্রবণতার মধ্যে প্রথম যোগসূত্র হল সামগ্রিক তাপমাত্রা। এপ্রিল এবং মে মাসে একটি তাপপ্রবাহ পাকিস্তান এবং প্রতিবেশী ভারতকে অনেকাংশে ঝলসে দেয়। পূর্ববর্তী ডবিøউডাবিøউএ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, গেøাবাল ওয়ার্মিং প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় এই ধরনের তাপমাত্রা ৩০ গুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এবং যখন আবহাওয়া আরও গরম হয় তখন বাতাস আরও আর্দ্রতা গ্রহণ করে, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ায়। এই আগস্টে পাকিস্তানে মোট বৃষ্টিপাত গত ৩০ বছরের গড় থেকে তিনগুণ বেশি। এবং বিভিন্ন অনুকরণের উপর ভিত্তি করে, ডবিøউডাবিøউএ’র বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে, জলবায়ু ইতিমধ্যে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হওয়ার কারণে এই বছরের সবচেয়ে খারাপ বৃষ্টিপাত প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি তীব্র ছিল।
উত্তর পাকিস্তানের ৭,২০০টি হিমবাহও অতীতের তুলনায় দ্রæত গলছে, মূলত গ্রিনহাউস-গ্যাস নির্গমনের ফলে। অন্যান্য হিমালয়ের হিমবাহের সাথে, তাদের ‘তৃতীয় মেরু’ নাম দেয়া হয়েছে কারণ তারা মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম বরফের ভাÐার ধারণ করে। এই জুনে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ১৯৮০-২০১৮ সালে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী গড় হারের দ্বিগুণ। বায়ু দূষণের অন্যান্য রূপগুলিও হিমবাহের সঙ্কোচনের হারকে ত্বরান্বিত করছে। যখন কালো কণা বরফের উপর পড়তে থাকে, তারা এর পৃষ্ঠকে অন্ধকার করে, যার ফলে হিমবাহগুলি আরও বেশি সূর্যালোক শোষণ করে এবং আরও দ্রæত গলে যায়।
ফলস্বরূপ, স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে গবেষকরা অনুমান করেছেন যে ২০০০-১৯ সালে, উত্তর পাকিস্তানে বরফের শীট প্রতি বছর ৪.৬ গিগাটন (১ গিগাটন অলিম্পিকের প্রায় ১৮ লাখ সুইমিং পুলের পানির সমতুল্য) সঙ্কুচিত হয়েছে। ২০২২ সালে গলে যাওয়ার সঠিক পরিমাণ এখনও গণনা করা হয়নি। যাইহোক, গিলগিট-বাল্টিস্তানের উত্তরাঞ্চলের হিমবাহের হ্রদগুলি সাম্প্রতিক অতীতে প্রতি বছর মাত্র পাঁচ বা ছয়টি পর্বের তুলনায় এই বছর ১৬ বার পানির আকস্মিক বিস্ফোরণ-দ্রæত গলে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করেছে।
তৃতীয় মেরুর গলতে থাকা হিমবাহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান নদীগুলোর উৎস। তাদের গলে যাওয়া, বৃষ্টিপাতের বৃদ্ধির সাথে মিলিত, এই অঞ্চলের জলপথগুলিকে ফুলে উঠেছে। ১৯৮০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত, পাকিস্তানের বৃহত্তম নদী সিন্ধু নদীর উপরের অংশে প্রবাহ প্রতি দশকে ৩.৯ গিগাটন বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা ২১০০ সালের মধ্যে প্রাক-শিল্প যুগের থেকে সর্বাধিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। এই শতাব্দীতে হিমালয়ের এক-তৃতীয়াংশ বরফ বিলুপ্ত হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ অঞ্চলের দরিদ্র দেশগুলো। অথচ বিশ্বের শিল্প-উন্নত ধনী দেশগুলোই মূলত এর জন্য দায়ী। তারা কার্বন নির্গমন বন্ধ করার জন্য কোন সত্যিখারের পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যার কারণে মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোকে। সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন