রোববার ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাবে রাশিয়ার ভেটো

ইউক্রেনে ‘অবৈধ’ গণভোট ও ৪ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্তির নিন্দা প্রস্তাব ভোটদানে বিরত চীন-ভারত, পক্ষে ১০ ভোট, বিপক্ষে ৫ :: ইউক্রেনকে সম্ভাব্য আলোচনায় পক্ষর্ভুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে না :: দ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ অক্টোবর, ২০২২, ১২:০০ এএম

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে রাশিয়া। এর ফলে ইউক্রেনে ‘অবৈধ’ গণভোট ও ৪ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্তির নিন্দা জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনীত এক প্রস্তাব পাস হয়নি। মস্কোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন এবং ভারত ইউক্রেনে ক্রেমলিনের সর্বশেষ কর্মকাণ্ডের নিন্দাকারী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার পরিবর্তে বিরত থাকা বেছে নিয়েছে।
জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন যাতে সদস্য দেশগুলোকে ইউক্রেনের কোনো পরিবর্তিত অবস্থা স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং রাশিয়াকে তার সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে।
এর আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংযুক্তিকরণ করা হয়, যখন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ অঞ্চলের চারটি অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার শাসন ঘোষণা করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আলবেনিয়ার সহ-স্পন্সর করা এ প্রস্তাবে ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত অংশে অনুষ্ঠিত ‘অবৈধ’ গণভোটের নিন্দা এবং সমস্ত রাষ্ট্রের জন্য ইউক্রেনের সীমানায় কোনো পরিবর্তন স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবটি রাশিয়াকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া একটি অভিযান শেষ করে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়। দশটি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, চীন, গ্যাবন, ভারত এবং ব্রাজিল বিরত থাকে।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া, যিনি রেজোলিউশনের বিরুদ্ধে একমাত্র ভোট ইঙ্গিত করার জন্য তার হাত তুলেছিলেন, যুক্তি দিয়েছিলেন যে, অঞ্চলগুলো, যেখানে মস্কো বলপ্রয়োগ করে অঞ্চল দখল করেছে এবং যেখানে এখনও লড়াই চলছে, তারা রাশিয়ার অংশ হতে বেছে নিয়েছে। নেবেনজিয়া বৈঠকে বলেন, ‘আজকের খসড়া রেজল্যুশন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে কোনও পিছু হটবে না’।
জাতিসংঘে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত সার্জি কিসলিয়্যাস বলেছেন যে, রেজোলিউশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একক হাত ‘আবার রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতার সাক্ষ্য দিয়েছে এবং জাতিসংঘের সনদ থেকে শুরু করে আমাদের সাধারণ প্রতিশ্রুতিতে বাস্তবতা অস্বীকার করার তার মরিয়া প্রচেষ্টা’।
যুক্তরাজ্যের দূত বারবারা উডওয়ার্ড বলেছেন যে, রাশিয়া ‘তার অবৈধ ক্রিয়াকলাপকে রক্ষা করার জন্য তার ভেটোর অপব্যবহার করেছে’ কিন্তু বলেছে যে, সংযুক্তির ‘কোনো আইনী প্রভাব নেই’। ‘এটি একটি ফ্যান্টাসি’ -তিনি যোগ করেছেন।
ইউক্রেনকে সম্ভাব্য আলোচনায় পক্ষর্ভুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে না : দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের (ডিপিআর) প্রধান ডেনিস পুশিলিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। পুশিলিনের মতে, কিয়েভের সাথে জড়িত সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে তার কোনো বিভ্রম নেই, কারণ ইউক্রেন ২০১৪ সালে একটি রাষ্ট্র হিসাবে তার পরিচয় হারিয়েছে।
দোনেৎস্ক নেতা উল্লেখ করেছেন, ‘এমনকি তারা [ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ] চাইলেও [আমার কোনো বিভ্রম নেই] যে, তাদের আলোচনায় বসতে দেওয়া হতো না। এ কারণেই আমি ইউক্রেনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার ব্যাপারে সন্দিহান: দুর্ভাগ্যবশত তারা স্বাধীন নয়’।
শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পরে আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি : দোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিটগুলোর সাথে সংঘর্ষে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০ জন কর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিপিআর পিপলস মিলিশিয়ার ডেপুটি চিফ এডুয়ার্ড বাসুরিন।
ডিপিআর পিপলস মিলিশিয়া তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘ডিপিআর সৈন্যরা এবং রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী একটি শত্রু ট্যাঙ্ক, দুটি মর্টার অবস্থান, দুটি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। শত্রুদের মোট ৪০ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছে’। বাসুরিনের মতে, খনি প্রকৌশলীরা এখনও ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রজাতন্ত্র জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা লেপেস্টক অ্যান্টি-পারসনেল মাইনগুলির সন্ধান এবং নিষ্ক্রিয় করছে।
দু’শ’র বেশি ইউক্রেনীয় অবস্থানে রুশ হানা : রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ গত শুক্রবার বলেছেন, গত দিনে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় রাশিয়ান বিমান, রকেট বাহিনী এবং কামান ২০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। তিনি বলেন, ‘কৌশলগত এবং সেনা বিমান চালনা, রকেট বাহিনী এবং আর্টিলারি ইউক্রেনীয় ২৬তম আর্টিলারি এবং ৫৯তম মোটর চালিত পদাতিক ব্রিগেডের ইউনিটগুলোকে দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের জাকোটনয়ে এবং নিকোলায়েভ শহরের বসতিগুলোর এলাকায় আঘাত করে। এবং খেরসন অঞ্চলের ওসোকোরোভকা এবং ডোনেস্ক পিপলস রিপাবলিকের ভ্রেমেভকার বসতিগুলির অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার ১২১তম ব্রিগেড দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের রেডকোডুবের বসতি এলাকায় ৬৬তম এবং ৯৩তম ইউক্রেনীয় যান্ত্রিক ব্রিগেড এবং ১৪৮টি এলাকায় তাদের ফায়ারিং পজিশন, জনবল এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে’।
মুখপাত্রের মতে, ধ্বংস হওয়া লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের মায়াকি, জাপোরোজিয়ে অঞ্চলের লেঝিনো, পাভলোগ্রাদ, নিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের কলমিয়েতসেভো এবং নিকোলেভ শহরের বসতি এলাকায় রকেট এবং আর্টিলারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের ছয়টি গুদাম। সেইসাথে রয়েছে দোনেৎস্ক গণপ্রজাতন্ত্রের রেডকোডুব গ্রামের এলাকায় ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ৯৩তম যান্ত্রিক ব্রিগেডের যানবাহন পরিবেশনকারী দুটি ফিল্ড রিফুয়েলিং স্টেশন।
ইউক্রেনীয় মিগ-২৯ ভূপাতিত : রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেছেন, রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সের ফাইটার এভিয়েশন নিকোলায়েভ অঞ্চলের পাভলোভকা জনবহুল এলাকার কাছাকাছি একটি ইউক্রেনীয় মিগ-২৯ ভূপাতিত করেছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ান এরোস্পেস ফোর্সের ফাইটার এভিয়েশন নিকোলায়েভ অঞ্চলের পাভলোভকা সম্প্রদায়ের আশেপাশে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২৯ ভূপাতিত করেছে’।
তিনি আরো বলেন, ‘নিকোলায়েভ-ক্রিভোই রগের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রতিপক্ষের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে রুশ সৈন্যরা ২৪ ঘণ্টায় ২৭০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সৈন্য, পাঁচটি ট্যাঙ্ক, ছয়টি পদাতিক যুদ্ধ যান, ২৩টি সাঁজোয়া যুদ্ধ যান এবং ১১টি গাড়িকে নির্মূল করেছে’।
মুখপাত্র বলেছেন, ‘মিত্র সৈন্যরা দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক (ডিপিআর)-এর ক্র্যাসনি লিমান থেকে প্রত্যাহার করেছে। এসময় রাশিয়ার বাহিনী দু’শ’রও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা সদস্যকে নির্মূল করেছে। তিনি বলেন, ‘ঘেরাওয়ের উদ্ভূত হুমকির কারণে মিত্র বাহিনীকে ক্রাসনি লিমান জনবহুল এলাকা থেকে আরো সুবিধাজনক অবস্থানে প্রত্যাহার করা হয়েছে’।
রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সময়ে ৭টি হিমারস মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম রকেট, দুটি মার্কিন তৈরি অ্যান্টি-রেডিয়েশন হার্ম মিসাইল এবং একটি তোচকা-ইউ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র নির্মূল করেছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
কোনাশেনকভ বলেছেন, ‘রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী কুপিয়ানস্কের আশেপাশে ইউক্রেনীয় সামরিক ব্রিগেডের একটি স্থাপনা কেন্দ্রে রকেট হামলা চালিয়ে ৫০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে নির্মূল করেছে’। একই সঙ্গে ১২টি বিশেষ সামরিক সরঞ্জাম নির্মূল করা হয়েছে।
রাশিয়ার মহাকাশ বাহিনী বিশেষ সামরিক অভিযানের কাঠামোর মধ্যে ইউক্রেনের তৈরি দুটি হিমারস মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম ধ্বংস করেছে এবং জাপোরোজিয়ের আশেপাশে ৬০ জন ইউক্রেনীয় সেনা সদস্যকে নির্মূল করেছে।
কোনাশেনকভ বলেছেন, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী জাপোরোজিয়ে অঞ্চলে একটি ইউক্রেনীয় বুক-এম ১ মিসাইল লঞ্চারের একটি লঞ্চ প্যাড নির্মূল করেছে।
ন্যাটো ভূখণ্ডের ‘প্রতিটি ইঞ্চি’ রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র -বাইডেন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ভূখণ্ডের ‘প্রতিটি ইঞ্চি’ রক্ষা করবে। শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাইডেন বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ইউক্রেনের কিছু অংশ দখল করার লক্ষণ হলো তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা পুতিনকে শুধু ভয়ই দেখাবে না।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যসহ সামরিক খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : ইউক্রেনের কিছু অংশ নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণার পর রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার সামরিকখাত, পার্লামেন্ট সদস্যসহ কোম্পানিকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংযোজন ঘোষণার পর ওয়াশিংটন এই ব্যবস্থা নেয়। পুতিন রুশ বাহিনীর দখলে থাকা ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ এলাকা নিজেদের মধ্যে সংযুক্তির ঘোষণা দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক করব, যেন তারা এই রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে নিন্দা জানায় এবং রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। আমরা ইউক্রেনকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ চালিয়ে যাব।
এর আগে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পুতিন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, ইউরোপ নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাইপলাইনগুলি উড়িয়ে দিচ্ছে।
রয়টার্স বলছে, শুক্রবার এক ভাষণে পুতিন পশ্চিমাদের নব্য-ঔপনিবেশিক বলে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ইউক্রেন বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করবে।
মার্কিন ট্রেজারি ও বাণিজ্য বিভাগের দিকনির্দেশনায় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, মস্কোকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা বস্তুগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোসহ রাশিয়ার বাইরে যে কেউ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। ট্রেজারি নিষেধাজ্ঞাগুলি সাধারণত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকাদের যে কোনো মার্কিন সম্পদ জব্দ করে।
ট্রেজারি বলেছে, তারা রাশিয়ার সামরিকখাতের ১৪ জন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ নেতা, শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য এবং পার্লামেন্টের ২৭৮ জন সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইউক্রেনকে সংযুক্ত অঞ্চল পুনরুদ্ধারে সমর্থন ন্যাটোর : শুক্রবার রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেমলিনের অভ্যন্তরে তার সংযুক্তি উদযাপনের জন্য একটি জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরে ন্যাটো ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভøাদিমির পুতিনের দাবিকৃত অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারে সমর্থন জানিয়েছে। ন্যাটো ৪টি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির নিন্দা জানিয়েছে এবং এ সামরিক জোট কিয়েভের বিরুদ্ধে মস্কোর যুদ্ধে তারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে এর ‘ভয়াবহ পরিণতির’ ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছে। ন্যাটো প্রধান জেনস স্টলেনবার্গ বলেন, ‘এ ভূমি দখল বেআইনি ও অবৈধ। ন্যাটোর মিত্ররা রাশিয়ার অংশ হিসেবে এ ভূখণ্ডের কোনোস্বীকৃতি দেবে না এবং তারা তা মেনেও নেবে না।’
অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ও জাতিসংঘ ইউক্রেনের ভূমি দখলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। স্টলেনবার্গ জোরদিয়ে বলেন, মস্কো অধিকৃত এসব অঞ্চল ‘মুক্ত করার তাদের প্রচেষ্টায়’ ন্যাটো ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। স্টলেনবার্গ বলেন, পুতিনের পরমাণু হামলার হুমকি দেওয়ার পর ন্যাটো এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন দেখতে পায়নি।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সমস্ত ‘আলোচনামূলক কথাবার্তা এবং বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’র পরিপ্রেক্ষিতে মি. পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার বিষয়ে বিবেচনা করবেন এমন একটি ‘ঝুঁকি’ রয়েছে। তবে তিনি যোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন ‘পরমাণু অস্ত্রের আসন্ন ব্যবহার’ সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেখেনি।
‘অবৈধ’ যুক্তির নিন্দা পশ্চিমাদের : ইউক্রেন, পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাতিসংঘ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের চারটি আংশিকভাবে দখলকৃত ইউক্রেনীয় প্রদেশের সংযুক্তি ঘোষণার নিন্দা করেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু যুদ্ধের একটি বড় বৃদ্ধিতে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিজিয়াকে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। মস্কো মঙ্গলবার দাবি করে যে, অঞ্চলগুলোর ভোটাররা রাশিয়ায় পাঁচ দিন ধরে গণভোট চালানোর পরে অত্যধিক সমর্থন দিয়েছে। কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা এসব ভোটকে ‘একটি জাল’ বলে অভিহিত করে এবং ক্রেমলিনকে সংযুক্তির সাথে এগিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
ইউক্রেন বলেছে যে, তার সৈন্যরা রাশিয়ার দখলে থাকা তার অঞ্চল মুক্ত করা চালিয়ে যাবে এবং পুতিনের সংযুক্তি ঘোষণার পরেও ‘কিছুই পরিবর্তন হবে না’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা টুইটারে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজিয়া এবং খেরসন অঞ্চলকে সংযুক্তির চেষ্টা করে পুতিন এমন সব অঞ্চল দখলের চেষ্টা করেছেন যা তিনি মাটিতে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না’।
টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের জন্য কিছুই পরিবর্তন হয়নি: আমরা আমাদের ভূমি এবং আমাদের জনগণকে মুক্ত করে আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার করব’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর পাশাপাশি ইউরোপিয়ান কাউন্সিল, ইউরোপীয় কমিশন, গ্রুপ অব সেভেন ছাড়াও পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ব্রিটেন, ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস, সুইডেনসহ আরো বেশ কিছু দেশ রাশিয়ার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
রাশিয়ার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন-তুরস্ক : ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ায় সংযুক্তিকরণের কঠোর সমালোচনা করেছে তুরস্ক। গতকাল তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। মন্ত্রণালয় বলছে, মস্কোর সিদ্ধান্ত ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতির গুরুতর লঙ্ঘন, এটি অগ্রহণযোগ্য।’
আঙ্কারা বলছে, মস্কোর এ পদক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করছে, যেভাবে ২০১৪ সালে রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলকেও তুরস্ক স্বীকৃতি দেয়নি। মস্কো কর্তৃক ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখলের ঘটনায় কিয়েভের পক্ষে জোরালো সমর্থনের কথাও জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তুরস্ক ২০১৪ সালে অবৈধ গণভোটে রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং সব সময় ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি জোরালো সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছে।’
ইউক্রেনকে ১২.৪ বিলিয়ন সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ১২.৪ বিলিয়ন ডলারসহ আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বরাদ্দ অনুমোদন করে একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। হোয়াইট হাউস একথা জানিয়েছে। উদ্যোগটি এর আগে মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদন করেছিল। সরকারের তহবিল অব্যাহত রাখার বিলটি স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাতের আগে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার কথা ছিল, অন্যথায় আংশিক সরকার বন্ধ হয়ে যেত। বিলটি মার্কিন নেতাকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য ইউক্রেনে মার্কিন স্টক থেকে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র স্থানান্তর অনুমোদনে সক্ষম করবে। সূত্র : আল-জাজিরা, তাস, বিবিসি ও রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
Md Foysal Hossain ২ অক্টোবর, ২০২২, ৬:৫৩ এএম says : 0
ইউক্রেনের অর্ধেক অর্ধেক দখল করে নিতে চায় রাশিয়া ওকে
Total Reply(0)
Md.Tareque Rahaman ২ অক্টোবর, ২০২২, ৬:৫৪ এএম says : 0
দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে, রুশপন্থী জনগোষ্ঠী বেশি। রাশিয়ার ভাষ্যমতে, ইউক্রেন এখানে আক্রমণ এবং আগ্রাসন চালানোর পরে তারা হামলা চালিয়েছে। গনভোটে এই অঞ্চল গুলো রাশিয়া পেয়ে যাবে বলে ধারণা।
Total Reply(0)
Md Kausar ২ অক্টোবর, ২০২২, ৬:৫৪ এএম says : 0
ইউক্রেনের চারটি রাজ্য এখন রাশিয়ার। সুতরাং নিজেদের ভুমি রক্ষায় পারমানবিক হামলাও চালাতে পারে রাশিয়া।
Total Reply(0)
Nazmul Hasan ২ অক্টোবর, ২০২২, ৬:৫৫ এএম says : 0
মিস্টার পুতিনের এ রকম পদক্ষেপে,ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতীতের চেয়ে আরো বেশি একতাবদ্ধ হবে।আমেরিকার গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে দেশগুলো দোটানায় ছিল, তারাও নিশ্চিত হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
Total Reply(0)
M Saiful Islam Saif ২ অক্টোবর, ২০২২, ৬:৫৫ এএম says : 0
যুদ্ধ করে আর কতদিন টিকবে তোমরা অপেক্ষা করো মহান রাব্বুল আলামিনের যুদ্ধের জন্য যখন উনি ক্ষেপে যাবে নিঃশেষ হয়ে যাবে পুরো বিশ্ব, তাই বিশ্ব মোড়লদের্ কাছে আহ্বান থাকবে আপনারা সাবধান
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন