ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ২০ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জেলখানায়-কোর্টরুম-স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

একনেকে ২১ প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০১৮, ১২:০২ এএম | আপডেট : ১২:২০ এএম, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

মামলার আসামিদের হাজিরার তারিখে জেলখানা থেকে আদালতে আনার ঝামেলা থেকে বাঁচতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটা জেলখানায় একটা করে কোর্টরুম রাখতে হবে। এতে করে মামলা পরিচালনা সুবিধা হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব অনুশাসন দেন। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভায় মোট ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার ২১ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
সভায় ৬২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনর্র্নিমাণ’ প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী এই অনুশাসন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটা জেলখানায় একটা করে কোর্টরুম রাখতে হবে। সরাসরি ব্যক্তিকে হাইকোর্টে না এনে যাতে ওখানে মামলা পরিচালনা করা যায়।
সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রতিটা জেলখানায় একটা করে কোর্টরুম রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ফিজিক্যালি সমস্যা থাকলে যাতে করে এখানে মামলা পরিচালনা করা যায়। তিনি আরও বলেন, জেলখানা শাস্তির স্থান না করে পুনর্বাসনের স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এখানে তাঁতসহ নানা ধরনের উৎপাদনমুখী কাজ করা হবে। এখান থেকে যে আয় হবে কয়েদিদের তা থেকে ভাগ করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলখানায় একটা টেলিফোন বুথ থাকবে। যাতে করে কয়েদিরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।
এছাড়া ‘এখন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালে অতিথি পাখি দেখতে গেলে দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়বে। সেই সঙ্গে সেখানকার সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের রাস্তা ও ব্রিজসহ যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। এজন্য ‘দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিব) ঋণ থেকে এক হাজার ২৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। প্রকল্পের আওতায় ২৫৭ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ১৫৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, এক হাজার ৭২২ মিটার ব্রীজ বা কালভার্ট নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হবে ঢাকা বিভাগের সাভার এবং সাভার পৌরসভা, ধামরাই পৌরসভা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কালিয়াকৈর পৌরসভা, নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঞ্চন,তারাব, সোনারগাঁও পৌরসভা এবং রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা, মানিকগঞ্জের মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর পৌরসভা এবং নরসিংদী পৌরসভা। এছাড়া খুলনা বিভাগের খুলনা সিটি করপোরেশন, চালনা পৌরসভা, যশোর জেলার যশোর, নওয়াপাড়া ও ঝিকরগাছা পৌরসভা এবং বাগের হাট জেলার মোংলা পৌরসভায়।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গত কয়েকবছর ধরে দেশে দ্রুত নগরায়ণ বাড়লেও এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় নগর অবকাঠামো উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। সে প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ, পরিবেশগত উন্নয়ন সাধন ও শহর অঞ্চলের অপরিকল্পিত বিস্তার রোধে এডিবির আর্থিক সহায়তায় ‘নগর অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটি ২০১১ সালের জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি চলবে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এই পর্যায়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগের নগর ও নগর সন্নিহিত এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় এডিবির সহায়তায় দ্বিতীয় নগর উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকার ড্রেনেজ ও রাস্তা নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সেবা সুবিধা বাড়বে। সেই সঙ্গে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রস্তাব ঘটবে। এছাড়া প্রকল্পটি জলাবদ্ধতা নিরসন, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধণে পরিবেশগত অবনতিরোধেও অবদান রাখবে।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযান সংগ্রহসহ আনুষাঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, খরচ চার হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন, খরচ ৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রাম, খরচ ১৩০ কোটি টাকা। সৌর বেস স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটক নেটওয়ার্ক কভারেজ শক্তিশালীকরণ, খরচ ৪০৬ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প : সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশ্বে সার্ভিস লেন নির্মাণ, খরচ তিন হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কেরানীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, খরচ ২৩৫ কোটি টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন, খরচ এক হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সাতটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, খরচ ১২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্টা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম, খরচ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংযোগ সড়ক ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ, খরচ ২৫০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এস্টাবলিস্টমেন্ট অব থ্রি হ্যান্ডলুম সার্ভিস সেন্টারস ইন ডিফারেন্ট লুম ইনটেনসিভ এরিয়া প্রকল্প, খরচ ৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নরসিংদী এর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ, খরচ ৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অবকাঠামো উন্নয়ন, খরচ ৬৯০ কোটি টাকা। গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ, খরচ ৫৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের চর-বাগাদী পাম্প হাউজ ও হাজিমারা রেগুলেটর পুনর্বাসন, খরচ ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, খরচ ৩২১ কোটি ২২ লাখ টাকা। মহিষ উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়), খরচ ১৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রম জরুরী সহায়তা, খরচ ৫৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Mohammed Shah Alam Khan ২৪ অক্টোবর, ২০১৮, ১১:৩৭ এএম says : 0
দেশের ও দশের মঙ্গলের জন্যেই এসব প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার প্রমাণ মিলে। এখন কথা হচ্ছে যারা কাজ পাবে তারা এটাকে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কিনা?? বিগত সময়ে আমরা দেখে আসছি সরকার সমর্থিত লোকজনরাই এসব প্রকল্প সম্পন্ন করার কাজ পেয়ে থাকেন এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় ক্ষেপণ করেন এবং পরবর্তীতে সময় নষ্ট হবার কারনে ব্যবহারিক জিনিষের মূল্য বৃদ্ধি দেখিয়ে কাজের মূল্য বৃদ্ধ করিয়ে নিয়ে প্রকৃত মূল্য থেকে কয়েক গুন বেশী অর্থ আমালদের সাথে জোগসাজসে আত্মসাত করে নেয়। আমরা মনেকরি জননেত্রী শেখ হাসিনার এদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সত্য বলা এবং সততার সাথে চলার ক্ষমতা দান করুন। আমিন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন