ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী জীবন

আল্লাহ্র অস্তিত্ব : আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শন তত্ত¡

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

পাঁচ

তবে যীশুর (হযরত ঈসা (আ) প্রাচরিত ধর্ম যে এক তৌহিদবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তা পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে যেমন জানা যায় তেননি অধুনা ‘বার্ণাবাসে’র বার্ণাবাসের “ইঞ্জিল সম্পর্কে জানার জন্য দেখুন, সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী, সীরাতে সরওয়ারে আলম (দ্বিতীয় খন্ড), অনুবাদ-আব্বাস আলী খান (সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী রিসার্চ একাডেমী, ঢাকা-১৯৮৮), পৃ.১৭৯-১৮৫”। ইঞ্জিল আবিস্কার হওয়ার পর তা আরও সু-প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত গ্রন্থে হযরত ঈসা (আ)- এর আসল স্বরূপ, তাঁর প্রকৃত শিক্ষা তথা তাওহীদের শিক্ষা, শিরক খন্ডন ইত্যাদি বিষয়ে আর চার ইঞ্জিল অপেক্ষা অনেক বেশী স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের যৎকিঞ্চিত উদ্ধৃতি নিæে তুলে ধরা হলো।
“কিন্তুু আল্লাহ্ যখন আমকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাবেন তখন শয়তান আবার এমন বিদ্রোহ করবে যে, দুরাচার লোকেরা আমাকে খোদা ও খোদার ছেলে বলে মানবে। সে কারণে আমার কথা ও শিক্ষাগুলোকে এতদূর বিকৃত করে দেওয়া হবে যে, ত্রিশ জন মুমিন অবশিষ্ট থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে... (অধ্যায়-১৬) “ইধৎহধনধং, ঞযব এড়ংঢ়বষ ড়ভ ইধৎহধনধং, অুনবাদক, খড়হংফধষব এবং খধঁৎৎধধম (ক্লারেগুন প্রেস, অক্সফোর্ড, লন্ডন-১৯৭০), অধ্যায়-১৬”।
“[শিষ্যদেরকে হযরত ঈসা (আ) বললেন,] আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের বলছি যে, মুসার কিতাব থেকে সত্যকে যদি মুছে ফেলা না হতো তাহলে আল্লাহ্ আমাদের পিতা দাউদকে আর একখানা কিতাব দিতেন না। আর যদি দাউদের কিতাবকে বৃকত করা না হতো তাহলে আল্লাহ্ আমাকে ইঞ্জিল দিতেন না। কেননা আমাদের খোদা পরিবর্তনশীল নন। তাই সবাইকে তিনি একই কথা বলেছেন। সুতরাং যখন আল্লাহ্র রাসূল আসবেন তখন খোদা বিমুখ লোকের দ্বারা কলুষিত আমার কিতাবকে তিনি কলুষমুক্ত করবেন।” (অধ্যায়-১২৪১) “প্রাগুক্ত, অধ্যায় ১২৪”।
উপরের আলোচনা হতে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, খ্রীষ্টান ধর্ম ছিল মূলত একত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। যা পরবর্তীকালে অনেকটা শিরকবাদের দিকে ঝুঁড়ে পড়ে। কুরআনের পরই বার্ণাবাসের ইঞ্জিল সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইয়াহুদী ধর্মে আল্লাহ্র ধারণা ঃ বর্তমান বিশ্বে একত্ববাদী বলে পরিচিত আর একটি ধর্ম হলো ইয়াহুদী ধর্ম। যদিও ইয়াহুদী ধর্মের ---
প্রবর্তক হিসেবে হযরত মুসা (আ)-কে গণ্য করা হয়ে থাকে, কিন্তুু ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আল্লাহ্র প্রেরিত নবীদের মধ্যে কেউই ইয়াহুদী ছিলেন না। নামের ভিত্তিতে এ ধর্মের উৎপত্তি বহু পরবর্তী যুগের । মনে করা হয়ে থাকে যে, ইয়াকুক (আ)-এর চুতুর্থ পুত্র ইয়াহুদার প্রতি এ ধর্ম আরোপ করা হয়। “সাইয়েদ আবুল আ’ল মওদুদী, সীরাতে সরওয়ারে আলম (দ্বিতীয় খন্ড), পৃ. ১২৩”।
মূলত হযরত মুসা (আ) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী নবীগণ যে একত্ববাদের প্রচার করেন তা ছিল পুরা ইসলাম। হযরত মুসা (আ) ইসলামের যে মর্মবাণী এক ও লা-শরীক আল্লাহ্তে বিশ্বাস, সেদিকে তাঁর কওমকে আহ্বান করেন। বলা বাহুল্য, শুধু মুসা (আ) কেন আল্লাহ্ প্রেরিত সব নবী রসূলই আল্লাহ্র একত্ববাদের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন। আর এ কারণেই আল্লাহ্ তা’আলা মুসলমানদেরকে মুহাম্মদ (সা) এবং তাঁর আনীত আল-কুরআনের প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে অন্যান্য নবী-রসূল ও তাঁদের উপর অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনের নিæোক্ত বাণীটি প্রণিধানযোগ্য ঃ
“বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ্র উপরে এবং ঐ শিক্ষার উপরে যা আমাদের উপরে নাযিল করা হয়েছে এবং ঐ শিক্ষার উপরে এবং যা কিছু দেয়া হয়েছিল মুসা, ঈসা এবং অন্যান্য নবীগণের উপর তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে, তার ওপরও ঈমান এনেছি। ...” “ সূরা ২, আয়াত-১৩৬-১৩৭”। বর্তমান তাওরাত হযরত মুসা (আ)-এর আনিত দীন ইসলামের নয়। বরঞ্চ ঐ দীন ইসলামেরই বিকৃত রূপ-ইয়াহুদীবাদেরই বহিঃপ্রকাশ। “সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী, সীরাতে আলম (দ্বিতীয় খন্ড), পৃ. ১৩৫”।
“ড. মরিস বুকইলী বর্তমান তাওরাতের উপর ব্যাপক, গবেষণা চালিয়ে উক্ত গ্রন্থ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “তাওরাতের বিভিন্ন পুস্তক সন্দেহাতীতভাবে বিভিন্ন ঐতিহ্য ভিত্তিক কাহিনীর সমাহার। অবশ্য একথা মানতে হবে যে, লেখকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এ সব ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়ে গেছেন এবং এসব কাহিনীকে তাঁরা পাশাপাশি সাজিয়ে কখনো-সখনো তাঁদের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর জন্যে নানা গল্প-কথা টেনে এনেছেন।” ড. মরিস বুকাইলি, বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান, পৃ. ৩১”।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন