ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

শিক্ষাদিক্ষা

ঢাবিতে অনুমোদনহীন আবৃত্তি সংসদের কার্যক্রম, লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি!

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ মে, ২০১৯, ২:১৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তি সংগঠন খুলে শিক্ষার্থীদেরকে সনদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে লাখ টাকা আদায়ের ফন্দি করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে । এই সংগঠনের নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ’। সংগঠনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়নি। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে তারা একটি কক্ষ জোবর দখল করায় কর্তৃপক্ষ সেটি সিলগালা করে দিয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়্। সংগঠনটির আহ্বায়ক হন স্যার এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তানজীন আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক হন আরিফুল হাসান আরিফ। সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখরকে, আর মডারেট করা হয় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ আজমকে।

গত ১৮ এপ্রিল আবৃত্তি সংসদের সদস্য আহ্বানের জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ এপ্রিল মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রদান করা হয়। এই পরীক্ষায় ২৩৮জনকে সংসদের জন্য চূড়ান্ত মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে ৫৯জন অনুশীলন পর্বের জন্য আর কর্মশালার পর্বের জন্য ১৭৯জন।

২ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কর্মশালা পর্বের সকলকে ৫০০টাকা ফি নির্ধারণ করা হয় এবং মে মাসের ১০ তারিখ বা ঈদের পূর্বে কর্মশালা শুরুর পূর্বেই দিতে বলা হয়। এছাড়া অনুশীলন পর্বের সদস্যদের ২০০টাকা করে ফি ধার্য করা হয়।

সে হিসেবে কর্মশালা পর্বের সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজা টাকা ফি আদায় এবং অনুশীলন পর্বের সদস্যদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৮০০টাকা এবং সিদ্ধান্ত হয়। উল্লেখ্য, এর আগে অন্তত ৫০০জনের কাছে তারা আবৃত্তি সংসদের ফরম বিক্রি করে। ফরম বিক্রি বাবদ তারা ২৫০০ টাকা নিয়েছে। যদিও ফরম বিক্রি বাবদ টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে আবৃত্তি সংসদের একজন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে আবৃত্তি সংসদ অথচ সেখানে টাকা দিয়ে কোর্স করতে হবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায়ে বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের আহ্বায়ক তানজীন আল আমিন বলেন, আমরা ১৪টি ক্লাস নিব। শিক্ষকদের বেতন দিতে হবে। তার নিজের পকেট থেকে আবৃত্তি সংসদের জন্য ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

৪০ হাজার টাকা কোথায় পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মা বাইক কেনা টাকা দিয়েছিল। সে বাইক আমি কিনিনি।

আবৃত্তি সংসদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম বিক্রির বিষয়ে সংগঠনটির মডারেটর ড.মোহাম্মদ আজম বলেন, ওরা তো ফরম ফ্রি বিক্রি করেছে। অন্যদিকে , কর্মশালার ফি নির্ধারণে তার সঙ্গে এখনও আলাপ হয়নি বলে জানান তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন