ঢাকা, শুক্রবার ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬, ১৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

রোজা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী

আফতাব চৌধুরী | প্রকাশের সময় : ২৫ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

হিজরি সনের নবম মাস রমজান, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত, মাগফেরাত, নেয়ামত, দোজখ থেকে পরিত্রাণ এবং বেহেশত লাভের পূণ্য অর্জনের মাস। এ মাসের পূণ্য অন্যান্য মাসের তুলনায় ৭০ থেকে ৭০০ গুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করা হয়। এ মাসে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় আল্লাহতায়ালার রহমতের সব ফটক, খুলে দেয়া হয় বেহেশতের সব দরজা আবার বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের সব প্রবেশপথ এবং সব শয়তানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।
রমজান মাসকে আমাদের দেশে রোজার মাসরূপে অভিহিত করা হয়। রমজ ধাতু থেকে রমজান শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ গরমের উত্তাপ, দগ্ধ করা, জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করা। অর্থাৎ রোজার সঠিক উপবাস এবং উপাসনা রোজাদারের পাপকে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে তাকে পুত পবিত্র করে তোলে। রোজা ফার্সি ও উর্দু শব্দ, যাকে আরবীতে সিয়াম বলে। উভয়ের অর্থ বিরত থাকা, উপবাস থাকা, সংযম থাকা। অর্থাৎ সুবহে সাদিক বা সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘন্টা পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্তরোজার নিয়ত করে সর্বপ্রকার পানাহার, সঙ্গম এবং যাবতীয় ইন্দ্রিয় তৃপ্তিকর কাজ থেকে বিরত থাকার নাম হচ্ছে রোজা। উম্মতে মোহাম্মদির মতো অন্যান্য নবীদের উম্মতদের প্রতি রোজা রাখার বিধান ছিল, যেমন পবিত্র ক্বোরআন ঘোষণা করে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যেভাবে পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা খোদাভীরুতা অবলম্বন কর।’ মহান আল্লাহ আরো ঘোষণা করেন, ‘যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে সিয়াম পালন করা তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর।’ মহান স্রষ্টা কর্তৃক অবতীর্ণ বিশ্বের চারটি প্রসিদ্ধ ধর্মগ্রন্থে রোজাকে চারটি নামে অলংকৃত করা হয়েছে।
হযরত মুসা (আ.) নবীর উপর অবতীর্ণ ‘তাওরাত’ কিতাবে রোজাকে ‘হাত্ব’ নামে ভূষিত করা হয়েছে যার অর্থ পাপ ধ্বংস করা। হযরত দাউদ (আ.) নবীর উপর অবতীর্ণ ‘জবুর’ কিতাবে রোজাকে ‘কুরবত’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যার অর্থ খোদাতায়ালার নৈকট্য লাভ। হযরত ঈসা (আ.) নবীর উপর অবতীর্ণ ‘ইঞ্জিল শরিফে’ সিয়ামকে ‘ত্বাব’ নামে অলংকৃত করা হয়েছে যার অর্থ পবিত্রতা লাভ। বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (দ.)-এর উপর অবতীর্ণ ক্বোরআন শরিফে রোজাকে ‘রমজান’ নামে ভূষিত করা হয়েছে যার অর্থ গোনাহসমূহকে জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করা।
তাছাড়া স্রষ্টার নৈকট্য লাভে হিন্দু ধর্মের ‘বেদ’ তথা ‘উপনিষদের’ বিধান অনুযায়ী হিন্দু ধর্মপ্রাণ ভাই-বোনেরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা, একাদশী এবং বিশেষ বিশেষ ব্রত পার্বণে ‘নিরম্বু’ উপবাস পালন করে থাকেন। ধর্মীয় উপবাসের কৃচ্ছ্র সাধনা বিবেকমান মানুষকে শুধু স্রষ্টার নৈকট্য লাভে উৎসাহিত করে তা নয় এবং রোজা দেহ-মনকে পুত-পবিত্র করে তোলা এবং স্বাস্থ্যরক্ষার উৎকৃষ্টতম ঔষধ। এ ব্যাপারে বিশ্বের খ্যাতনামা কয়েকজন চিকিৎসাবিজ্ঞানীর অভিমত তুলে ধরা হলো: ভারতের বোম্বে মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডা. ডি সি গুপ্ত বলেন, ‘ইসলামের রোজা দৈহিক এবং আত্মিক শক্তির আকর।’ গ্রেট ব্রিটেনের প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. এফ এম গ্রিমির মতে ইসলাম ধর্মের উপবাস দেহ এবং আত্মার প্রাণ। মানুষের সুস্থ স্বাস্থ্য গড়ে তোলায় রোজার ভূমিকা লক্ষণীয়। রোজা দেহের প্রধান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সক্রিয় করে তোলে। বিশ্ববিখ্যাত চিকিৎসক ডা. মাইকেল ও মেভিচ উভয়ের মতে, বিশেষ করে রোজা রক্ত চলাচল ব্যবস্থাকে ঠিক রাখে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, কুপ্রবৃত্তি দমন হয় এবং মন বিক্ষিপ্ত হয় না। প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. আর কেমফার্ডের মতে, রোজা পাকস্থলি পরিষ্কার করে এবং পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি করে। জার্মানির বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. লিওফার্ড বলেন, রোজা চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত এবং শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী।
সুতরাং নানা ভয়ানক রোগে আক্রান্ত বিশ্বাবাসীর জন্য বিজ্ঞানসম্মত রোজার মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিশেষ উপকার। প্রাণী জগতের প্রতি আমরা লক্ষ করলে দেখি মাছ, ব্যাঙ, সাপ, জোঁক ও অন্যান্য প্রাণী শীতকালে ‘হাইবারনেশন’ দিনযাপন করে। গ্রীষ্মের খাদ্যে তাদের দেহে যে অতিরিক্ত সঞ্চয় হয়, শীতকালে তা হজম হয়ে দেহকে বাঁচিয়ে রাখে। ফলে শীতকালে তাদের খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। মানুষের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন ১১ মাসের খাদ্যে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় খাদ্য দেহে সঞ্চিত হয়, যা দেহের জন্য ক্ষতিকারক এবং রোগ সৃষ্টির সহায়ক। দেহের ঐ অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খাদ্যকে শরীরের ভিতর ক্ষয় করে দেয়ার বিজ্ঞানসম্মত উপায় হচ্ছে রোজা। তাছাড়া রক্তের কণিকাগুলো ১২০ দিন অন্তর অন্তর দেহের অস্থি-মজ্জা এবং যকৃত থেকে উৎপত্তি লাভ করে। ফলে মানবদেহে রক্ত দূষিত হওয়া থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেহকে ব্লাড ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে এবং অতিরিক্ত চর্বি-মেদের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে হলে একান্তপ্রয়োজন রোজা রাখা। এজন্য পৃথিবী বিখ্যাত চিকিৎসক ইবনে সিনা শরীরের উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, চর্বি ও অন্যান্য ভয়ঙ্কর রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রোগীদের একাধারে ৩/৪ সপ্তাহ উপবাসব্রত পালনের পরামর্শ দিতেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিখ্যাত গবেষক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের মতে, রোজা ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধে উৎকৃষ্ট মহৌষধ। এ ব্যাপারে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ.) ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক জিনিসের একটি যাকাত (ময়লা পরিষ্কার) আছে এবং শরীরের যাকাত হচ্ছে রোজা।’
রোজার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে-আত্মসংযম এবং আত্মপরিশুদ্ধির দ্বারা একদিকে নিজেকে সর্বপ্রকার কুকর্ম, কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখে দেহ-মন পুত-পবিত্র করে তোলার প্রক্রিয়ায় স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা। অন্যদিকে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর নিজ পাড়া-প্রতিবেশী লোকজন অথবা জীব-জন্তুকে রেখে তাদের সার্বিক কল্যাণে এগিয়ে না এসে উপাসনার দ্বারা যে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা যায় না সে ব্যাপারে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব মানবজাতিকে বিবেকমান করে তোলা। বিশ্বের জরাজীর্ণ অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের দুঃখ নিবারণে শুধু বড় বড় কথা অথবা উপদেশ দিয়ে নয় বরং কর্মে, বাস্তবায়নে এবং বিবেককে জাগ্রত করতে হলে একমাত্র রোজা হচ্ছে তার সুদীর্ঘ এক মাসের প্র্যাকট্রিক্যাল ট্রেনিং। গরিবদের প্রকৃত দরদী হয়ে রোজার নিয়ম-কানুন মতো না চললে শুধু ধর্মীয় বেশভূষা ও উপবাসের দ্বারা স্রষ্টার নৈকট্য লাভের মহৎ লক্ষ্যে পৌঁছা যায় না। আসলে গাইডলাইন মেনে উন্নত প্রশিক্ষণের মধ্যে আছে রোজার সুফল। সঠিক খোদাভীরুতা মনে জাগ্রত হলে স্রষ্টার সৃষ্টজীবের প্রতি ভালবাসা জাগ্রত হয়। আবার ভালবাসা জাগ্রত হলে জীবের কল্যাণ ছাড়া অনিষ্ট করতে পারবে না। কিন্তু মানুষের ষড়রিপু পূণ্য কাজে বাধা দেয় বলে তাকে বছরে একবার এক মাসের রোজার প্র্যাকট্রিক্যাল ট্রেনিং দিতে হয়। যাতে মানুষ ধাপে ধাপে মানবিক মূল্যবোধে সমাজে আদর্শবান ব্যক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করে। পৃথিবীর কোনো কোনো ধর্মে বছরে একটানা একমাস রোজা রাখার নির্দেশ না থাকলেও প্রতিমাসের মধ্যভাগে তিনটি রোজা রাখার বিধান রয়েছে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই, পরিশ্রমী ও সুস্বাস্থ্যবান আদর্শ মানব সমাজ গড়ে তোলে স্রষ্টার উপাসনা এবং মানবসেবার মাধ্যমে বিশ্বে সত্যিকার শান্তিপ্রতিষ্ঠা করা। সকল ধর্মের মানুষ আদর্শবান এবং বিবেকমান হয়ে গেলে গোটা বিশ্বে বাস্তবিক শান্তিবিরাজ করবে, তাতে সন্দেহ নেই।
পৃথিবীর কোনো ধর্ম মানুষে মানুষে হিংসা, মারামারি, লুণ্ঠন, অপহরণ, অপকর্ম, উগ্রবাদিতা, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ও সন্ত্রাসী তান্ডবের প্রশ্রয় দেয়নি, বরং এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হবার শিক্ষা দিয়েছে। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিবিদ্যার চূড়ান্ত উন্নতির ফলে মানুষ মানুষকে মারার জন্য কি ধরনের মারাত্মক অস্ত্র প্রয়োগ করছে তা দেখে বিবেক ধরাশায়ী হয়ে যায়। বিজ্ঞান মানুষের জীবনের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে সুখ-স্বাচ্ছন্দ ভোগের আশাতীত আয়োজন করেছে ঠিক, কিন্তু প্রয়োজনে মানুষের শান্তির বিন্দুমাত্র খোরাক জোগানো বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভবপর নয়। ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে প্রেম-মৈত্রী, ঐক্য-সৌভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে বিশ্বে বাস্তব শান্তিপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ধর্মের কাজ। গোটা বিশ্বের মানুষ সঠিক ধর্মবিমুখ বলে বিশ্ব আজ অশান্তিতে ভরপুর। আজ অশান্তময় গোটা বিশ্বে শান্তি পেতে হলে চাই সকল ধর্মের লোককে নিজ নিজ ধর্মে স্রষ্টার নৈকট্য লাভে সঠিক ধর্মপ্রাণ হওয়া। একবিংশ শতাব্দীতে হচ্ছে আসল এবং নকলের চূড়ান্ত সংঘর্ষ। শুধু ধর্মে নয়, বরং প্রতিটি বিভাগে আজ অশান্তির মূল কারণ আসল এবং নকলের দ্ব›দ্ব। ধর্মকে এরূপ দ্ব›েদ্বর ভয়াবহ মন্দ থেকে উদ্ধার করতে এবং মানব সমাজের সকল প্রকার উগ্রবাদ দূর করে আত্মপরিশুদ্ধির দ্বারা আত্মসংযমী হবার সুশিক্ষা দিতে আল্লাহতায়ালা সব রসুল-নবীর উম্মতদের উপর রোজার বিধান জারি করেছেন।
রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ.) ঘোষণা করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রোজা আদায় করে সে নিজের পাপরাশি থেকে এমনভাবে বের হয়ে আসে, যেন সে আজ তাঁর মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হয়েছে।’ হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসুল (দ.) ঘোষণা করেন, রমজান মোবারকে একটি রোজা ছেড়ে দেয়া এত শক্ত যে, সারাটি জীবন রোজা রাখার পরও এর সমান হতে পারে না। হযরত সাহাল (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসুল (দ.) ঘোষণা করেন, ‘বেহেশতে একটি ফটকের নাম হলো রাইয়্যান। মহাপ্রলয়ের দিন এ ফটক দ্বারা একমাত্র রোজাদাররা প্রবেশ করবেন। অন্য কেউ এ ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোজাদারদের চিহ্নিত করে ডাকা হবে এবং তারা এদিকে অগ্রসর হবেন। রোজাদারগণ প্রবেশ করার পর তা বন্ধ করে দেয়া হবে’ (বোখারি শরিফ)। রমজান শরিফের শেষ দশদিন এতেকাফের মধ্যে দিয়ে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে উপাসনার দ্বারা পূণ্যের সুবর্ণ সুযোগ লাভে মুসলমানদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ঐ দশদিনের বেজোড় কোনো এক রাতে শবে-কদর অতিবাহিত হয়, যার উপাসনা হাজার মাসের এবাদতের চেয়ে উত্তম। ঐ রাত্রে আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাইল (আ.) সহ একদল ফেরেশতা যাবতীয় হুকুম, নিয়ামত ও বরকত নিয়ে ধরায় অবতরণ করেন। সূর্যাস্ত থেকে ফজর পর্যন্ত গোটা রাত শান্তিতে ভরপুর থাকে। এরূপ রহমত, বরকত, মাগফেরাত এবং নাজাতের মর্যাদাপূর্ণ রমজান মাসকে উপেক্ষা করে যারা রোজা ভঙ্গ করে তাদের জন্য রয়েছে পরকালে কঠোর শাস্তি। রোজা ভঙ্গকারীরা মহানবীর দ্বারা দোজখের ভয়ংকর শাস্তি থেকে উদ্ধার পাবার শেষ চেষ্টা চালাবে। কিন্তু নবীজি যখন শাস্তির কারণ জেনে নিবেন তখন বলবেন, ‘যারা রমজান শরিফের উপযুক্ত মর্যাদা দেয় না, তাদের জিম্মা আমি নেব না।’ পরজগতের কল্যাণে ইহকালের রোজার গুরুত্ব যে কত বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষ প্রতিদিন ২৪ হাজার বার শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। রোজ কতবার শ্বাস-প্রশ্বাসে আমরা স্রষ্টার নাম স্মরণ করি। কতবার ক্ষুধার্ত, বস্ত্রহীন, গৃহহীন, জরাজীর্ণ মানুষ, জীবে-প্রেম, প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্য পালন, পরলৌকিক জীবন এবং রোজার উপবাসের আসল রহস্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করি। আমরা কি মৃত্যুর কথা স্মরণ করি? তবে কেন আমরা স্রষ্টার আঠারো হাজার সৃষ্টি জগতের মধ্যে সেরা হয়ে স্রষ্টার মহৎ উদ্দেশ্যকে সফল করে তুলতে এবং নিজের ইহজগৎ ও পরজগতের কল্যাণে অসহায়দের সহায়তা দানে এগিয়ে আসব না। রাজা-বাদশাহ ও ধনীকে গোটা রমজানের একমাস প্রতিদিন কমপক্ষে তেরো ঘণ্টাব্যাপী দিনে উপোস থেকে উপলব্ধি করতে হবে যে, গরিবদের ক্ষুধা নিবারণে এগিয়ে আসা তাদের মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। গরিব মানুষদের প্রতি অন্যায়-অবিচার, তাদের ক্ষুধার আর্তনাদ এবং বিশ্বের শাসক গোষ্ঠির অনেকের ন্যায়পরায়ণতার পরিবর্তে জুলুম-অত্যাচার সমগ্র পৃথিবীতে অশান্তির দাবানল সৃষ্টি করেছে।
ন্যায় পরায়ণ রাজাদের শাসনকালে শান্তিবিরাজ করার ভুরি ভুরি প্রমাণ আমরা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই। রোজার মহৎ আদর্শের দ্বারা গোটা বিশ্বে শান্তিপ্রতিষ্ঠার জন্য বিবেকমান মানব সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। খোদাতায়ালা যেন আমাদের ইহজগৎ তথা পরজগতে শান্তিতে বাস করার তৌফিক দান করেন।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন