ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ঈশ্বরগঞ্জে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি

রাষ্ট্রপতির বিয়াই বাড়ীতে হামলায় মামলায় এখনো অধরা সন্ত্রাসী জসীম

ময়মনসিংহ ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৫:৪০ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইয়ের ত্রাসের রাজত্ব চলছে উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নে। চাঁদাবাজি, ক্যাবল ব্যবসা ছিনতাই, জমি জবর দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট থেকে শুরু করে প্রকাশ্য দিবালোকে ত্রাস সৃষ্টি করে সবই করছেন নামধারী এ যুবলীগ নেতা। এনিয়ে ভুক্তভোগী মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আঠারবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের এস.আই মো: মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, জসীমের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ১৬টি মামলা রয়েছে। আমি দু’টি মামলা তদন্ত করছি। এলাকার মানুষ জসীম বাহিনীর কাছে জিম্মি। ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায় না। একটি মামলার প্রতিবেদনে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানায়, এক সময় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর ও জসীম নিন্মবিত্ত জীবন যাপন করলেও বর্তমানের চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তারা। ‘নৌকা প্রতিক’ দিয়ে গেইট নির্মান করে গড়েছেন বিলাস বহুল বাড়ী। তাদের রয়েছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী। তবে জসীমের বিরুদ্ধে ১৩/১৪টি মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে ধরছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জসীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাদী ছাত্রলীগ নেতা বায়েজিদ।
জানাযায়, মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিয়াই বাড়ীতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির ছোট পুত্র তুষারের শ্যালক বায়েজিদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছেন। বর্তমানে ওই মামলায় জসীম পলাতক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে বড় ভাই আলমগীর হোসেন ৪ নং আঠারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠে নামধারী যুবলীগ নেতা জসীম। তবে উপজেলা বা ইউনিয়ন যুবলীগে তার কোন পদ না থাকলেও যুবলীগ নেতা পরিচয়ে এলাকায় পোষ্টার সাটিয়েছেন বহু বার। ফলে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং ইউপি চেয়ারম্যান ভাইয়ের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বদরুল আলম লিটনের অনুমোদিত ক্যাবল ব্যবসা জবর দখল করে নেয় জসীম।
ভুক্তভোগী লিটন জানান, ৫লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় জসীম ত্রাস সৃষ্টি করে আমার লাইসেন্সধারী ক্যাবল ব্যবসা দখল করে নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ওই ক্যাবল ব্যবসা সিলগালা করে দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষতার দাপট দেখিয়ে এখনো ওই ক্যাবল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী জসীম।
ভুক্তভোগীরা জানায়, স্থানীয় তেলোয়ারী গ্রামের শহীদ মিয়ার কাছে জসীম ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় তার বাসার নির্মান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে জসীম। একই ভাবে বনগাও গ্রামের ফেরদৌস আরা বেগমের দুই শতক জমি জবর দখলে করে নিয়েছে জসীম।

তেলোয়ারী গ্রামের জোবায়েদ আকন্দ সানি জানান, সন্ত্রাসী জসীম আমার দশ শতক জায়গা জবর দখল করে পাঁচ তলা বাড়ী নির্মান করেছে। এবং স্থানীয় রেলক্রসিং মোড়ে আরো দশ শতক জায়গা জবর দখল করে গোডাউন নির্মান করছে। একই গ্রামের আ: রাজ্জাকের তিন শতক জমি এবং আ: রাজ্জাক মেম্বারের একটি দোকান ঘর দখল করে নতুন করে ঘর নির্মান করছে জসীম। এছাড়াও তেলোয়ারী গ্রামের হাদিছ মিয়ার একটি ঘর জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তেলোয়ারী গ্রামের এ্যাংরাজ আলীর পুত্র ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক জানান, খেলা-নাটক সহ বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে জোর পূর্বক এক লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসী জসীম।

ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, একই ভাবে তেলোয়ারী গ্রামের ছাইদুর রহমানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা, বিঞ্চুপুর গ্রামের ফজলু মিয়ার কাছ থেকে ২৫ হাজার, শ্রীফল তলা গ্রামের আবু তাহেরের কাছ থেকে ৪০ হাজার, মরিচপুর গ্রামের কামাল ভূইয়ার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, শ্রীফল তলা গ্রামের কালাম মিয়ার কাছ থেকে এক লাখ টাকা, তেলোয়ারী গ্রামের আ: রহমানের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা, রায়ের বাজার গ্রামের আ: আজিজ কুসুমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে এবং বাকী না দেওয়ায় রায়ের বাজার প্লাজার ব্যাবসায়ী আলমগীরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করে নিয়ে যায় নামধারী যুবলীগ নেতা জসীম।

আঠারবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান স্বপন জানান, জসীম যুবলীগের পদে নেই এবং কখনো ছিল না। তবে সে যুবলীগ পরিচয় ব্যবহার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, জবর দখলের সকল অভিযোগ সত্য। মূলত সে তার বড় ভাই ইউপি চেয়ারম্যনের ক্ষমতা ব্যবহার করে র্দীঘ দিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। তবে রাষ্ট্রপতির বিয়াই বাড়ীতে হামলা মামলায় বর্তমানে জসীম পলাতক।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে গত দুই দিন জসীমৈর বড় ভাই ৪ নং আঠারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ব্যবহৃত দুইটি নাম্বারে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এসব বিষয়ে জানতে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহাম্মেদ কবীর হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট থানার আঠারবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আ: মোতালেব চৌধুরী জানান, পুলিশ জসীমকে খোঁজছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন