ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

করোনায় কাঁপছে পৃথিবী

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০২০, ১২:০৬ এএম

করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যে কী পরিমাণ ক্ষতি ও ধ্বংসের হুমকির মুখে তা এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে মানুষ টের পাবে। মানব সভ্যতার সকল স্পন্দন থেমে যাচ্ছে প্রায়। ভয়ে কাঁপছে গোটা মানববিশ্ব। কাঁদছে মানুষ। তারা বড়ই অসহায়।

চেষ্টা থেমে নেই, কিন্তু কিছু দৃশ্য বড়ই মর্মান্তিক। একজন ফ্রেঞ্চ ও একজন ইটালিয়ান তাদের বিদায়ী বার্তায় যে অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বিশ্ববাসীর জন্য কষ্টের পয়গাম বয়ে এনেছে। এশিয়ায় যেমন তেমন, ইউরোপে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। আমেরিকা দীর্ঘ সংকট মোকাবেলার আগাম বার্তা প্রচার করেছে। নেতৃবৃন্দ অনেকেই আক্রান্ত কিংবা আক্রমণের শঙ্কায়। তারা বিশেষ সুরক্ষা নিয়েছেন। বহু ধনকুবের বিনোদন কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ দ্বীপে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজস্ব বিমান নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তারা ছুটে বেড়াচ্ছেন। খুঁজছেন এমন জায়গা, যেখানে করোনা ভাইরাস পৌঁছেনি। কিন্তু নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। বহু প্রমোদতরী এ ভাইরাসের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও চিকিৎসাসেবায় আদর্শ মহানগরেও করোনার দাপট। তুলনামূলক অনুন্নত এলাকা বাদ দিয়ে এটি অভাবনীয় জায়গাতে পৌঁছে যাচ্ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এ ভাইরাস এ লেখা তৈরী করা পর্যন্ত প্রায় তিনশতবার নিজের জিন ও চরিত্র বদল করেছে। বারবার আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে সে আক্রমণ করছে।

এটি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি বা দুই শত্রæ দেশ পরস্পরকে ঘায়েল করার জন্য বানিয়েছে, এ ধরণের কথা বলাবলি হলেও বিষয়টি যে, মানবজাতির জন্য হুমকির এতে কারও সন্দেহ নেই। নিঃসন্দেহে মানুষের অক্ষমতা ও চরম দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এ ভাইরাসের আক্রমণে। কানাডার নেতা জাস্টিন ট্রুডো জাতির উদ্দেশে যে মানবিক ও কল্যাণমুখী ভাষণ দিয়েছেন, তা বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছে। কাতারের আমীর, ওমানের বাদশাহ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জাতির জন্য যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছেন সেসবও অনুসরণীয়।

এ পর্যায়ে এমন অপরিচিত রোগ যাকে দুনিয়ার মানুষ সর্বসম্মতিক্রমে মহামারী আখ্যা দিয়েছে, এতে আক্রান্ত হওয়ার আগে আল্লাহতায়ালার কাছে প্রত্যেকে নিজ নিজ অন্যায়, পাপ ও গুনাহ থেকে তওবা করা কর্তব্য। নবী করিম (সা.) বিশেষভাবে দোয়া করেছেন এবং উম্মতকে শিখিয়েছেন। ‘হে আল্লাহ আপনি আমাদের পানাহ দিন, শ্বেতী, মানসিক বিকার, কুষ্ঠ এবং সবধরণের মারাত্মক ব্যাধি থেকে।’ তিনি বলেছেন, কেউ যদি এই দোয়াটি করে, তাহলে সৃষ্টির কিছুই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ‘আল্লাহর নাম নিচ্ছি, যার নাম নিলে আসমান ও জমিনের কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। নিশ্চয় আল্লাহ সব শোনেন ও জানেন।’

এরপর সকাল সন্ধ্যা ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠসহ ‘সূরায়ে ফাতেহা’ ও ‘চার কুল’ বিশেষ করে ‘ফালাক ও নাস’ পড়ে নিলে বান্দাহ নিরাপদ হয়ে যায়। এ দোয়া সূরা পড়ে হাতে ফুক দিয়ে নিজের সারা শরীরে মাসেহ করা এবং নিজের শিশুদের দেহে ফুক দেয়া ইসলামী পদ্ধতিতে রয়েছে। এছাড়াও আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে ফজর পড়ে সারাদিন সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। যে এশা পড়ে সে সারা রাত আল্লাহর জিম্মায় থাকে। আল্লাহ আমাদের সব ধরণের আসমানী জমিনী বালা থেকে হেফাজত করুন। গোটা মানবজাতিকে ঈমান, তওবা ও উত্তম জিন্দেগী দান করুন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Imran Hossain ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
আল্লাহ মাপ করুক সবাইকে, তবে যে পরিস্থিতি তাতে এভাবে লকডাউন এবং সব কিছু বন্ধ থাকলে এমন এক সময় আসবে যে মানুষ এর খাবার কিছু থাকবে না এই পরিস্থিতি সম্মুখীন কি আমরা হতে যাচ্ছি, এমন সময় কি অপেক্ষা করছি যে মানুষের হাতে টাকা থাকবে কিন্তু খাবার কিছু থাকবে না?? মানুষে মানুষে হানা হানি, চুড়ি, খুন খারাপি এটাই কি অপেক্ষা করছে, আল্লাহ মাপ করো এই দুর্যোগ থেকে
Total Reply(0)
Mahabubur Rahman Faisal ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৪ এএম says : 0
করোনা নিয়ে খুব সংক্ষেপে অামার অভিমতঃ উন্নত বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। অামাদের যেহেতু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এ চলে গেছে, লকডাউন করা উচিত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর ছাড়া। নিরাপদ দূরত্ব রেখেই বাজার,ঔষধ, লোড এসব করা উচিত। ---- পুলিশ,বিজিবি, সেনা, RaB এর সমন্বিত বাহিনী নামানো। জরুরী স্বাস্থ্যসেবার নাম্বারে কল ফ্রি করে দেওয়া। ---- অামাদের সরঞ্জাম বাড়ানো। ঔষধ কোম্পানি গুলোর স্যানিটাইজার বেশি বেশি তৈরী। সর্বত্র জীবানুনাশক ছিটানো। শুধু মেইন রাস্তায় নয়, অলি এমনকি বাসা বাড়িতেও। ---- পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এভেইএবল করা। গরীব দের খাদ্য নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনী কে কাজে লাগানো। মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছানো । ---- পর্যাপ্ত icu, ccu সব সব মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বাড়ানো। সরকারের তহবিল ও বড় বড় কোম্পানিগুলোর সহাতায় হাসপাতাল নির্মান ও icy, ccu বাড়ানো ( সব জেলাতেই সম গুরুত্বে) সর্বত্র বেশি বেশি প্রচার । মনে রাখবেন এ দূর্যোগ সবাই একসাথে মোকাবিলা করলে সফল হতে পারব। কাউকে প্রিয়জন হারাতে হবেনা। সবাই একসাথে চেষ্টা করেন। সব রাষ্ট্র, মানুষ, সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অামাদের সফল করবে। মানবিক জায়গা থেকে চিন্তা করুন। অাল্লাহ সবাইকে বোঝার তওফিক দিন। অামীন
Total Reply(0)
Raquib Md Abdur ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৫ এএম says : 0
Exactly so. This is a right approach.
Total Reply(0)
Muhammad Bilal Husayn Quraysh ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৫ এএম says : 0
একদম সঠিক কথা বলেছেন। এর টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থা মনে হয়। খারাপ হয়ে যাবে আমাদের সরকার সেবা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে
Total Reply(0)
Md. Sohel Rana ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৬ এএম says : 0
মানুষের মৌলিক চাহিদা কি? সবাই জানি,খাদ্য,বস্র,আবাস্থল,শিক্ষা, চিকিৎসা,বিনোদন।সব বাদ দিলাম,সবাইকে কি ঘরে থাকার মত পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়েছে!যতক্ষন ক্ষুধাকে লকডাউন না করা হবে,ততক্ষন মানুষ বাহিরে বের হবেই। "ক্ষুধার রাজ্যে পূর্ণিমা চাঁদ যেন জলসান রুটি" "ভাত দে হারামজাদা,নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব"(ক্ষুধার জালায় বের হয়ে,করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিব)। আসুন আমরা " আয়নাবাজি বাদ দিয়ে,প্রকৃত কারণ খুজে বের করি।
Total Reply(0)
GM Jashim Uddin ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৬ এএম says : 0
কিন্তু আমার বাংলায় তো টেস্ট করার সরঞ্জাম নেই,চিকিৎসকের সেফটি ড্রেস নেই, কে রোগী আর আর কে রোগী না তা বোঝার উপায় নেই। আমাদের ভরসা একমাত্র আল্লাহ। তবে আমরা লক ডাউনে আছি
Total Reply(0)
Md Abu Tahar ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করতেছে। আমাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একমাত্র আল্লাহ তাআলা বিশ্বব্যাপী এ মহামারী থেকে রক্ষা করতে পারে।
Total Reply(0)
Sefaet Ullah ২৭ মার্চ, ২০২০, ১:০৭ এএম says : 0
রোগীকে খুঁজে বের করে আইসোলেশনে রাখতে হবে, পরীক্ষা করতে হবে ও চিকিৎসা করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরো সক্ষমতা বাড়াতে হবে, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে” –বলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক।-- এটাই এখন একান্ত জরুরী।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন