ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০১ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

ক্ষমতার দাপট ও অপব্যবহার এভাবে আর কতদিন চলবে

তৈমূর আলম খন্দকার | প্রকাশের সময় : ৩০ মার্চ, ২০২০, ১২:০২ এএম

‘কর্তা যা না বলে সভাসদ বলে তার বহু গুণ’ এমন একটি প্রবাদ সমাজে চালু আছে। প্রবাদটির যথেষ্ট বাস্তবতা রয়েছে। দেশে আইনের শাসন নাই, এ অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। চলছে ব্যক্তির শাসন এবং ব্যক্তিটি যাদের দ্বারা দেশব্যাপী শাসনকার্য পরিচালনা করেন তাদের ক্ষমতা এখন আকাশ ছোঁয়া, যা প্রয়োগে অনেক সময় তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সীমা লংঘন এখন চরম পর্যায়ে চলে গেছে। ক্ষমতা অপপ্রয়োগের সীমারেখা এখন পাবলিক পারসেপশনের ধার ধারে না। গণমানুষ ক্ষমতাধারীদের এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগকে সমর্থন করুক বা না করুক, এতে ক্ষমতাধারীদের কোনো আসে যায় না। কিন্তু ক্ষমতাধারীদের ক্ষমতার অপব্যবহারে যার একাউন্ট থেকে ‘গণআস্থা’ ডিডাক্ট হওয়ার কথা তার একাউন্ট থেকে তা সঠিকভাবেই ডিডাক্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে ব্যালেন্সশিট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যার নামে একাউন্ট তিনি টের পাচ্ছেন না, টের যদিও পেয়ে থাকেন, তবে বোধোদয় হচ্ছে বলে মনে হয় না। জনগণ গোপন কক্ষে স্বাধীনভাবে ব্যালটে সিল মারার যদি কোনদিন সুযোগ পায় তবেই ব্যালেন্সশিট চূড়ান্তভাবেই প্রকাশ পেয়ে যাবে, যা ইতোপূর্বে অনেক স্বৈরশাসকের বেলাতেই হয়েছে। জনগণ ব্যালেন্সশিট দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়।

বিরোধীদলের নেতাকর্মীর পক্ষে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত বা রায় প্রদান করলে দুদক তৎক্ষণাৎ সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেটা যে কোনো আদেশই হোক, শুধুমাত্র বিরোধীদলের পক্ষে গেলেই হলো। অতি সম্প্রতি দুদকের দায়েকৃত মামলায় সরকারি দলের সাবেক এম.পি এবং পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রীর জামিন না দেয়ায় জেলা জজকে বদলি করে একইদিনে ভারপ্রাপ্ত জজকে দিয়ে জামিন করানোর যে ঘটনা ঘটে সে সম্পর্কে আইন ও বিচার মন্ত্রী যে সাফাই দিয়েছেন তা শিশু বাচ্চাদের মন ভুলাতে পারে, কিন্তু কোনো বিবেকবান মানুষ তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না। দুদকের মামলায় স্বস্ত্রীক আওয়ামী লীগের সাবেক এম.পি’কে জামিন না দিয়ে পিরোজপুর জেলা জজ কি ভুলটি করেছে তা কিন্তু আইনমন্ত্রীর সাফাই গাওয়া পূর্ণ বক্তব্যে পাওয়া যায় না। দুদকের মামলায় বিএনপি নেতাদের অহরহ জামিন বাতিল হচ্ছে, মানহানীর মতো জামিনযোগ্য মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিনের জন্য হাইকোর্ট পর্যন্ত আসতে হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ নেতার জামিন হলেও দুদক এ জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে নাই। এখানেই দুদকের পক্ষপাতিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। সরকারি দলের জন্য আইনের প্রয়োগ হয় একভাবে এবং একই আইন বিরোধীদলের বিরুদ্ধে প্রয়োগ ভিন্নভাবে হলে, এটা কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? অন্যদিকে জেলা জজ যদি এম.পি মন্ত্রীদের ক্রীড়ানক বা গিনিপিগের মতো ব্যবহৃত হয় তবে বিচার বিভাগের মানসম্মান থাকে কোথায়? বিচার বিভাগের একজন অভিবাবক রয়েছেন, তিনিই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। এ ছাড়াও তাদের অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। বর্ণিত বিষয় নিয়ে অভিবাবক বা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার প্রতিবাদ করা হয় নাই। এটা কি তবে আসামী সরকারি দলের হওয়ার কারণেই?

সরকারি আমলাদের এখন একমাত্র কাজ হলো সরকার ও সরকার প্রধানের গুণকীর্তন করে আস্থা অর্জন করে নিজ মর্জিতে জনগণকে শাসন-শোষণ। স্বদেশি আন্দোলনের নায়ক নেতাজী সুভাস বোসকে রিমান্ডে নিয়ে ব্রিটিশ কর্মচারী ভারতীয় পুলিশ যে আচরণ করেছে, ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি কর্মচারী বাঙালি পুলিশ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি করে যে ভাষায় আইনী সাফাই গেয়েছে, সেই একইভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম করা বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের উপর বাংলাদেশি পুলিশ অনুরূপ আচরণ করছে। রাষ্ট্রের পরিবর্তন হয়েছে, সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের আচরণগত পরিবর্তন হয়নি। ফলে স্বাধীনতার সুফল আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাই খেয়ে ফেলছে।

ক্যাসিনো সমাচার, টাকার গোডাউন আবিষ্কার, হোটেল ওয়েস্টিন ক্যালেঙ্কারীর ঘটনা ধামাচাপা পড়তে না পড়তেই গাজীপুরের সরকারি দলের নারী নেত্রী কর্তৃক প্রকাশ্যে নারী পুলিশকে চড় মারার কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সরকার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠিন কঠিন আইন প্রণয়ন করলেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে এ আইন প্রযোজ্য নয় মানসিকতার কারণেই নারী নেত্রীর এ ক্ষমতার দাপট, যা দেখে দেখে পুলিশ অভ্যস্ত হলেও ভাগ্যদোষে প্রকাশ্যে রাজপথে হওয়ায় বিধিবামের কারণে নারী নেত্রীকে জেলে যেতে হয়েছে, নতুবা চড় খাওয়া সে নারী পুলিশকেই বদলীর আতঙ্কে থাকতে হতো। ইতোপূর্বেও সরকারি দল কর্তৃক অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ নাজেহাল এমনকি পিটুনী পর্যন্ত খেয়েছে, কিন্তু সে নেতাদের জেলে যেতে হয় নাই, যেমনি হয়েছে গাজীপুরের নারী নেত্রীর ক্ষেত্রে। হোটেল ওয়েস্টিনের এই ঘটনা এক দিনের নয়, বরং দীর্ঘ দিনের প্রাকটিস। ঘটনার নায়িকা নরসিংদীর ঐ মহিলা নেত্রী ও তার স্বামী যদি সরকারি দলের না হতো তবে নিশ্চয় ওই নারীর পক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে ক্ষমতার এতো দাপট দেখানো সম্ভব হতো না। এ ধরনের ঘটনার জন্য একজন ওই নারী যেমন দায়ী, তেমনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা একই দোষে দোষী হলেও অদ্যাবদি তাদের আইনের আওতায় আনা হয় নাই। একেই বলে আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে এনে মাদক মামলায় ১ বছরের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়েছে। এ সাজা প্রদানে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছেই, অধিকন্তু জেলা প্রশাসক ও আর ডিসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এমনিভাবে অর্থের বিনিময়ে পুলিশ অনেককেই মাদক ধরিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। দেশে মাদকের মহামারী চলছে, পুলিশ বিভাগের কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, মাদক বিষয়ে সরকারের মুখে জিরো টলারেন্সের কথা থাকলেও বাস্তবে রয়েছে এর ভিন্নতা। মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং দেশে মাদক উৎপাদন বন্ধ করতে না পারলে মাদকের মহামারী ঠেকানো যাবে না, অন্যদিকে মাদক ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির লোকের যেহেতু হাত রয়েছে সেহেতু মাদকের মহামারী ঠেকানো সম্ভবপর নয়। সরকারি আমলারা ক্ষমতায় অপব্যবহার কোনো পর্যন্ত যেতে পারে, এটাই এর অন্যতম উদাহরণ। মধ্যরাতে ৪০ জনের একটি বাহিনী একজন সাংবাদিককে ধরতে যাওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল এবং বিচারপতি সরদার মো. রশিদ জাহাঙ্গীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মহামান্য উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, এঘটনা শুধু কুড়িগ্রামের নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এ চিত্র বিরাজমান। ক্ষমতা অপব্যবহারের বø্যাঙ্কচেক থেকেই এ মানসিকতার উৎপত্তি, যার জন্য জনগণ হয়রান হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অধিকার বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

আমলাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বের অবহেলা চলছে একই গতিতে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত এক নারী ছাত্রী পেটের ব্যাথায় সরকারি হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করে। ছাত্রীটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল না। ছাত্রীটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহে অনেক চিৎকার করার পরও সরকারি বেতন ভুক্ত ডাক্তারা ছাত্রীটিকে ঔষধ দেয়া তো দূরের কথা, কাছেও যায় নাই। আমি মনে করি, বাংলাদেশ বলে এটা সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর অন্য যে কোনো রাষ্ট্র, হোক গণতান্ত্রিক বা রাজতান্ত্রিক, এ ধরনের দায়িত্ব অবহেলার জন্য জবাবদিহি করতে হতো। বাংলাদেশে এ ধরনের দায়িত্ব অবহেলা সম্ভব হওয়ার কারণে ডাক্তার সাবেহরাও এখন সক্রিয় রাজনীতি করে। শুধু তাই নয় পেশাজীবী সরকারি ডাক্তারদের প্রমোশন ও পোস্টিং হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। সরকারি দল না করলে ঢাকায় পোস্টিং সম্ভব হয়ে উঠে না এবং ভুক্তভোগীদের এটাও একটি অভিযোগ।

গত ২১ মার্চ চট্টগ্রামের মিরের সরাইতে সরকারি দলের এক মহিলা নেত্রী এক ব্যক্তিকে মসজিদের ভিতরে যেয়ে জুতাপেটা করেছে। কোন কারণে জুতা পেটা করলো তা সংশ্লিষ্ট সংবাদে জানা যায় নাই। হতে পারে সংশ্লিষ্ট কোনো জঘন্য বা নিন্দনীয় অপরাধ করেছে। তারপরও এটাই বিবেচ্য বিধেয় যে, একজন নারী কর্তৃক একজন পুরুষকে মসজিদের ভিতরে জুতাপেটা করার কাহিনী এটাই প্রথম। উক্ত মহিলা যদি সরকারি দলের নেত্রী না হতো তবে হয়তো ঘটনাটি মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করতো না। এখানেই ক্ষমতার দাপট বা অপপ্রয়োগ।

পুলিশ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। পুলিশের ক্ষমতা অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ২০১৩ সালে বিশেষ আইন করা হয়েছে। তারপর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা কমে নাই। প্রায় প্রায়ই পুলিশী নির্যাতনে মানুষ মারা যাচ্ছে। গত ২১ মার্চ মনিরুজ্জামান হাওলাদার নামে উত্তরখান থানায় পুলিশ হেফাজতে এক আসামীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, পুলিশ নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, মেধাবী ছাত্র রুবেল হত্যার মামলায় পুলিশের এসিসটেন্ট কমিশনার আকরাম ছাড়া পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর জন্য কোনো পুলিশের অদ্যাবদি বিচার হয় নাই। বরং একটি অত্যাচারী বাহিনী হিসাবে গড়ে উঠার জন্য সরকার থেকেই পুলিশকে উৎসাহিত করা হয়ে আসছে। সাধারণের উপর অত্যাচার নির্যাতন এবং ক্ষমতাসীনদের কুর্নিশ করার পুলিশী সংস্কৃতি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে যা ছিল, বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে তাই আছে, কোনো পরিবর্তন হয় নাই। বরং তারা রাজনৈতিক সরকারের প্রটেকশন বেশি পাচ্ছে।

সরকারি আমলাদের পক্ষপাতিত্বের কারণে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই সরকারের নির্বাচন কাহিনী এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য আমলাদের কর্মকান্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশিত হচ্ছে। গত ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পর রাষ্ট্র দফতরের ‘কান্ট্রি রিপোটার্স অন হিউম্যান রাইটস প্রাকটিসেস’ (Country Reporters on Humen Right Practices) শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের নির্বাচন অবাধ ও মুক্ত বলে বিবেচিত হয়নি। ব্যালট বাক্স ভরা, বিরোধীপ্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিরোধী দলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের হয়রানী, নির্বিচারে গ্রেফতার ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে’ এবং এগুলিও সম্ভব হয়েছে ক্ষমতা অপব্যবহারের মহামারীর কারণে।

সব সময়ে সরকারি দল মানেই ক্ষমতার অপব্যবহার, একটি স্বাধীন দেশে এটা চলতে দেয়া যায় না। করোনাভাইরাস, সড়ক দুর্ঘটনা, দুর্নীতির মহামারীর পাশাপাশি ক্ষমতা অপব্যবহারের মহামারীতে সরকারি দল ভিন্ন সকলেই নির্বিচারে আক্রান্ত। ক্ষমতা অপব্যবহারের মহামারী থেকে বাঁচার জন্য গণমানুষ কোন হাসপাতালে ভর্তি হবে?
লেখক: রাজনীতিক, কলামিস্ট ও আইনজীবী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
jack ali ৩০ মার্চ, ২০২০, ১২:৪২ পিএম says : 0
We liberated our country from Pakistan to live with human dignity/mutual respect/security/peace/no-crime.. But our government is billion times worse than barbarian pakistan.. May Allah [SWT] protect us from this government by infecting with corona.. Ameen
Total Reply(0)
MD. RUHUL ৩১ মার্চ, ২০২০, ৫:০৩ পিএম says : 0
only Islamic constitution,law and order implemented by group of Muslims(those who surrenders themselves towards the wish of Allah) can bring justice in the country.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন