ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫ আশ্বিন ১৪২৭, ০২ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বেড়িবাঁধ-নদীর তীর বিলীন

১৯৩৮টি স্থানে ৪৯৫ কিলোমিটার ভেঙেছে ক্ষতি ১ হাজার ১৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ২২ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

গত অর্থ বছরে ২৯৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৬৭০টি স্থানে ১০৯ দশমিক ৯২ কিলোমিটারের বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বন্যা দেখা দেয়ার কারণে দেশের ৪৬ জেলায় ১ হাজার ৯৩৮টি স্থানে বেড়ি বাঁধ ও নদীর তীর ৪৯৫ দশমিক ০২৪ কিলোমিটার বিলীন হয়েছে। এতে করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ হাজার ১৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ.কে.এম. এনামুল হক শামীম ইনকিলাবকে বলেন, এবার বড় বন্যা চলছে। আমরা এখনো ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ি বাঁধ ও নদীর তীর এবং নদী ভাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। সার্ভে করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে। বন্যা শেষ হয়ে বাঁধ ও নদী ভাঙ্গনের কাজ শুরু করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডে সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। এর মধ্যে ৬৭০টি স্থানে ১০৯ দশমিক ০৯২ কিলোমিটারের কাজ চলামান থাকা অবস্থায় গত ২৪ জুন দেশে বন্যা শুরু হয়। বন্যা এখনো চলমান রয়েছে। এবারের বন্যার কারণে ১হাজার ৯৩৮টি স্থানে বেড়ি বাঁধ ও নদীরতীর ৪৯৫ দশমিক ০২৪ কিলোমিটার চলমান বন্যায় বিলিন গেছে।

বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হচ্ছে, রংপুর জেলায় ৮টি স্থানে ৩ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার, কুড়িগ্রামের ৩৩টি স্থানে ৯ দশমিক ৫৪৯ কিলোমিটার, লালমনিরহাটের ১৭টি স্থানে ৩ দশমিক ১১০,গাইবান্ধার ১৬টি স্থানে ২ দশমিক ৮৩৫, ডালিয়া পয়েন্টের ২৪টি স্থানে ৫ দশমিক ২৫৬, নীলফামারীর ১৩টি স্থানে ১ দশমিক ৬৯০,সৈয়দপুর পয়েন্টে ৪১টি স্থানে ৫দশমিক ৪২০, ঠাকুরগাঁও ৬টি স্থানে ১ দশমিক ৪৩৩, দিনাজপুরে ৬টি স্থানে ১ দশমিক ১৭৫,পঞ্চগড়ের ৭টি স্থানে শূন্য দশমিক ৭৬০ সিরাজগঞ্জের ১৭টি স্থানে ৫ দশমিক ২৮১,বগুড়ার ৬৯টি স্থানে ১৪দশমিক ১১১,পাবনার ২১ টি স্থানে ২দশমিক ৯ ৭০,জয়পুরহাটের ২টি স্থানে শূন্য দশমিক ৪০, রাজশাহীর ১০টি স্থানে শূন্য দশমিক ৬৮০,নাটোরে ৩টি স্থানে শূন্য দশমিক ৭০,নওগাঁর ৫৩টি স্থানে ৫ দশমিক ৯৪১, মাদারীপুরের ২১টি স্থানে ৫ দশমিক ৭৯৭, ফরিদপুরের ১৪টি স্থানে ৩ দশমিক ২০০,রাজবাড়ির ৭টি স্থানে ৯ দশমিক ৫৪০, গোপালগঞ্জের ৪টি স্থানে শুন্য দশমিক ১৪৫,শরীয়তপুর জেলায় ৩১টি স্থানে ৩ দশমিক ২৬১, কুষ্টিয়া জেলায় ১১ টি স্থানে ২ দশমিক ৪২০, ঢাকা-১ জোনের ৭টি স্থানে শূন্য দশমিক ৬৯২ , ঢাকা-২ জোনে ৭টি স্থানে ২দশমিক ৬৫০৯, মানিকগঞ্জ ২০টি স্থানে ১০ দশমিক ১০০ কিলোমিটার।

ময়মনসিংহ ৪৭ টি স্থানে ২দশমিক ৯১৪, টাঙ্গাইল ১১ টি স্থানে ১১দশমিক ৫৫০,কিশোরগঞ্জ ২৫টি স্থানে ৭ দশমিক ০৩২,নেত্রকোনা ২১টি স্থানে ২০দশমিক ২১৫, জামালপুর ১৫টি স্থানে ২ দশমিক ৮২০, সিলেটের ৩৫টি স্থানে ২ দশমিক ৪৮৫, হবিগঞ্জের ৩৭টি স্থানে ৮ দশমিক ৬৩৫, মৌলভীবাজারে ২৮টি স্থানে ৪দশমিক ২১৫, সুনামগঞ্জ-১ জোনে ৩২টি স্থানে ৫ দশমিক ২৫০, সুনামগঞ্জ-২ জোনে ২৩টি স্থানে ২ দশমিক ৮৩৭ কিলোমিটার। এদিকে কুমিল্লার ১৪টি স্থানে ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার, ব্রক্ষণবাড়ীয় ৭টি স্থানে ৪ দশমিক ৫০৫, নোয়াখালীর ৩টি স্থানে ৭ দশমিক ৫০০,লক্ষীপুর ২২টি স্থানে ৪ দশমিক ৭১,ফেনীর ২২টি স্থানে ২ দশমিক ৮৫৩, চাঁদপুর ১২টি স্থানে ৬ দশমিক ১০০, চট্টগ্রাম-২জোন ১টি স্থানে শূন্য দশমিক ৩০০, রাঙ্গামাটির ৮টি স্থানে ১ দশমিক ০৮০, কক্সবাজার জেলায় ১০টি স্থানে ১ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার এবং বান্দবান জেলায় ১টি স্থানে শুন্য দশমিক ০৭০ কিলোমিটার।

প্রধান প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ি বাঁধ ও নদীরতীর ৪৯৫ দশমিক ০২৪ কিলোমিটার বন্যায় বিলিন হয়েছে এখন পর্যন্ত। আরো ক্ষতি হতে পারে সে গুলো বন্যা শেষ না হওয়া করা যাবে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন