শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভোগান্তি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩ আগস্ট, ২০২১, ১২:০২ এএম

টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতাদের প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে সময় মতো ট্রাক না আসা এবং চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না থাকার অভিযোগ ক্রেতাদের। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে টিসিবির ট্রাকে পণ্য কিনতে সকাল থেকে ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ পণ্য নিয়ে ট্রাক দুপুর গড়িয়ে গেলে আসে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলা ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ট্রাকে চাহিদা চেয়ে পণ্য কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

খিলগাঁও রেলগেইটের কাছে ফ্লাইওভারের নিচে গতকাল বেলা ১১টায় দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তখনো সেখানে টিসিরি ট্রাক পৌঁছায়নি। লাইনে দাঁড়ানো ষাটোর্ধ আজগর আলী বলেন, সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি পণ্য কেনার আশায়। এখন ১১টার বেশি বাজে, কিন্তু ট্রাকার আসার খবর নেই। কখন আসবে তাও বলা যায় না। ১২ টার পর আসে। তবে ট্রাকে চাহিদার তুলনায় পণ্য অনেক কম থাকে। এ জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে খেকেও অনেকে পণ্য কিনতে পারেনা।

নিত্যপণ্যের অসাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের সংসার চলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখনো অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে। এঅবস্থায় টিসিবির পণ্য কিনতে ছুটছে মানুষ। রাজধানীসহ সারাদেশে টিসিবি তিনটি নিত্যপণ্য সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি অনেকটা সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করছে। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গত ৫ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টিসিবির ওই ট্রাক সেলে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ৫৫ টাকা কেজি দরে চিনি ও মসুর ডাল এবং ১০০ টাকা লিটার দরে সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন।

বাজারে বর্তমানে ১লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। টিসিবির ট্রাকে সে তেল ১০০টাকা লিটার কিনতে পারছে। এতে ৫ লিটার তেলে প্রায় দুইশ’ টাকা সাশ্রয় হয়। ডাল বাজারে মান ভেদে ৮৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা কেজি। টিসিবির ট্রাকে ডাল পাওয়া যায় ৫৫ টাকা কেজি। চিনি বাজারে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। টিসিবির ট্রাকে ৫৫ টাকা কেজি। জন প্রতি টিসিবির ট্রাক থেকে ৫লিটার তেল ২ কেজি ডাল ও ২ কেজি চিনি কিনতে পারেন। এতে অন্তত তিনশ’ টাকা সাশ্রয় হয়। তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা রাস্তায় নামছেন টিসিবির পণ্য কিনতে।

রামপুরা বাজার এলাকায় গতকাল দুপুরেও টিসিবির ট্রাক দেখা যায়নি। তবে সেখানে কম মূল্যে ওএমএসের চাল বিক্রির ট্রাক দেখা গেছে। ওই ট্রাকেও ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। তবে সেখানে সামজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই। দু’জন ক্রেতার মাঝখানে ফাঁকা ছিলনা এক ইঞ্চি জায়গাও। অথচ করোনাভাইরাসের সংক্রম রোধে বিশেষজ্ঞরা প্রত্যেককে অন্তত ১ মিটার দূরত্বে অবস্থান করতে বলেছেন।

ট্রাকে চাল বিক্রেতা আলম বলেন, মানুষ লাইন ধরেছে ঠিকই। কিন্তু কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, দূরত্ব মানছে না। বারবার বললেও আমাদের কথা মূল্যায়ন করছেন না কেউ। আমরা মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুরোধ করতে পারি বল প্রয়োগ করতে পারি না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন