সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

কর্মসূচিতে বাঁধা দিয়ে চলমান আন্দোলনকে দমানো যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার হবিগঞ্জে দলের পূর্বঘোষিত সমাবেশে পুলিশি হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, হবিগঞ্জে যে গুলিবর্ষণ হয়েছে এর মূল কারণটাই ছিলো হবিগঞ্জ যেহেতু বিএনপির একটা শক্তিশালী জায়গা এবং ওইখানে নেতৃবৃন্দ বরাবরই এটা প্রমাণ করেছেন। সেজন্য তারা এই আঘাত করেছে। পুলিশ অতর্কিতে বিনা উস্কানিতে গুলিবর্ষণ করেছে নির্বিচারে। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, এভাবে দমন-পীড়ন, হত্যা, গুম করে কখনোই জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি, অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করা যাবে না। গণতান্ত্রিক সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য যে আন্দোলন করছি সেই আন্দোলনকে কখনই দমন করা যাবে না।

হবিগঞ্জের বিনা উস্কানিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পুলিশি হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনার জন্য জেলার পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী, ওসি মাসুক আলী এবং নাজমুল হাসানকে দায়ী করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি অবিলম্বে তাদের অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল জানান, হবিগঞ্জের সমাবেশে পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষনে বিএনপির তিন‘শ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশংকাজনক। একজনের চোথ নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সারাদেশে বিভাগীয় পর্যায়ে ৬টি জেলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে সমাবেশের কর্মসূচি ছিলো। এর মধ্যে ৪টিতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি করা গেছে। হবিগঞ্জে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে। এসপি মুরাদ আলীর নির্দেশে ওসি নাজমুল হাসান, মাসুক আলী সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শর্টগানে প্রায় ১২‘শ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। যেটা আইনত সারা বিশ্বে শর্টগানের গুলি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুর ইসলাম সেতু, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজীব আহসান রিংগন, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। সাইদুর রহমানের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আবদুল মতিন, শেখ রাসেল, গোলাম বাকী চৌধুরী রাজীব, মানিক মিয়া, তৌ্হদিুর রহমান অনি, বেলাল আহমেদ বাবু, আসিফুল ইসলাম ইমন, মুজাক্কির ইমন, গৌর চন্দ্র দাশ, মোশায়েদ আলমসহ অর্থ শতাধিক নেতাকর্মী। গ্রেফতার করা হয়েছে ছ্ত্রাদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

কর্মসূচি: হবিগঞ্জের গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সিলেট বিভাগের সকল উপজেলা এবং শনিবার সিলেটের সকল জেলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জের সমাবেশে অংশ নেয়া দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবেদিন, মুক্তাদির চৌধুরী ও সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আখতার গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সমাবেশের জনস্রোত ঠেকাতে স্থানীয় পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই সমাবেশ বানচাল করা। যেভাবে পুলিশ সেখানে গুলিবর্ষণ করেছে এর ফলাফল আরো ভয়াবহ হতে পারতো। এখানে লাশের সারি পড়তে পারতো।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন প্রমাণ করে যে, এদেশের মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করছে। সংবাদ সম্মেলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।###

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন