শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ০৫ ভাদ্র ১৪২৯, ২১ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের অভাবে বন্ধের উপক্রম

মো. জাহিদুল ইসলাম : | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০২২, ১২:০০ এএম

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে টানা দুই বছর শিল্প উৎপাদন মারাত্বকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে গেছে দেশের শিল্প কারখানাগুলো। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে। প্রতিদিনই ৬ ঘন্টা ৭ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিংয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অথচ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন গুনতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিটিএম’র সভাপতি মোহাম¥দ আলী খোকন বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের সমস্যা চরমে উঠেছে। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই বছর করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা আস্তে আস্তে যখন কাটিয়ে উঠছি, তখন আবার নতুন করে এই লোডশেডিংয়ের সমস্যা নতুন সঙ্কটে ফেলছে। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা লোডশেডিং দিচ্ছে। তারপর একটি ম্যাসেজ দিয়েই দায় সারছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। দেশের ইমেজ সঙ্কট হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা থাকায় সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে (২০২১-২২) ৫ হাজার ২০৮ কোটি ৭ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বিরাট এ সাফল্য অর্জনের পর শিল্প উদ্যোক্তারা আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে সব সম্ভাবনাই ম্লান হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১ কোটি ডলার। এমনিতেই দেশে আমদানির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রফতানি বাড়ছে না। অন্যদিকে রফতানিমুখী খাতের উৎপাদন ব্যাহত হলে এই চাপ আরও বাড়বে। অন্যদিকে ডলারের যে ঘাটতি তা আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বিকালের পর বিতরণ কোম্পানিগুলো অনেক এলাকার শপিংমল, দোকানপাট, শিল্প-কলকারখানাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি রাত ৮টার পর শপিংমল দোপানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
শিল্প কারখানার বয়লার ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে থাকে। গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতিতে বিপাকে পড়েছে শিল্প খাত। গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বেশির ভাগ কারখানা ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন কাজ চালাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে।

গাজীপুর তিতাস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের কিছু অংশ মিলিয়ে চারটি অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ শিল্পকারখানায় গ্যাসের সংযোগ আছে। গতকাল গাজীপুরে গ্যাসের চাহিদা ছিল ৬০ কোটি ঘনফুট, তার বিপরীতে গ্যাস পাওয়া গেছে ৩০ কোটি ঘনফুটের মতো।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গাজীপুর আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক শাহজাদা ফরাজি ইনকিলাবকে বলেন, প্রতিদিন শত শত অভিযোগ আসছে, কিন্তু তাদের সেবাই দিতে পারছি না। গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী অর্ধেকের কম গ্যাস পাচ্ছি। ফলে আমরাও অসহায়।

গ্যাসের স্বল্পতার কারণে গাজীপুরের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও নিটিং কারখানাগুলোর সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গ্যাস–সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদামতো তৈরি পোশাক সরবরাহ করতে না পারলে তাঁরা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারেন এবং বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন।

স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিও) কাজী শরীফুল ইসলাম রেজা ইনকিলাবকে বলেন, কারখানা চালু রাখতে ব্যয়বহুল ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে ৭০ শতাংশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। গত পরশু দিন আমার এখানে সাত ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। অন্যদিকে গ্যাসও নেই। বিজিএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদনে সমস্যাতো হবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। টেক্সটাইল ছাড়াও যেখানে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় বা ওয়াশিং প্ল্যান্টে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ লাগে। এমন না যে ৮-১০ ঘণ্টা লাগে। বিদ্যুৎ না থাকলে এ শিল্পগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পেলে আমাদের রফতানির পরিমান আরও অনেক ভালো হবে। আমরা আশাকরি সরকার এ বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবে। এছাড়া আমাদের সামনে কোন বিকল্পও নেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন