শুক্রবার , ৯ জুন ২০২৩, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

অভিন্ন অপরাধ বিভিন্ন ব্যবস্থা

পাসপোর্টের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

সাঈদ আহমেদ | প্রকাশের সময় : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

অপরাধ তফসিলভুক্ত। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধের ধারাও অভিন্ন। একই অভিযোগের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)-এর অনুসন্ধান ও তদন্তে বেরিয়ে আসছে ভিন্ন ভিন্ন ফল। অনুসন্ধান ও তদন্তলব্ধ সেই ফলাফলের ভিত্তিতে কাউকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। কারো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হচ্ছে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ। কাউকে আবার অনুসন্ধানের পর মামলা দায়ের, গ্রেফতার, আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ, সাময়িক চাকরিচ্যুত এবং পরে স্থায়ী চাকরিচ্যুত করা পর্যন্ত ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যাকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই ‘ধরছে’ কিংবা ‘ছাড়ছে’ সংস্থাটি। কমিশন পরিবর্তন হয়। বিভিন্ন সেক্টরে সুনামের সঙ্গে চাকরি করে আসা ব্যক্তিদের ৫ বছরের জন্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তাদের। পদ এক থাকলেও ব্যক্তি বদল হওয়ার পাশাপাশি বদলে যায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান সংক্রান্ত দুদকের দৃষ্টিভঙ্গি। বদলে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম। কোনো অনুসন্ধান অনির্দিষ্টকালের জন্য চাপা পড়ে যায়। কোনো কোনো পুরনো অনুসন্ধান পায় সুপারসনিক গতি। অনেকটা ‘পিক অ্যান্ড চ্যুজ’ কখনও বা খেয়াল-খুশির বলি হচ্ছে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের মামলা। সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা অনুসরণ না করায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থানে থাকতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। বলা চলে, শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিপ্রায় বা মর্জি মাফিক চলছে কার্যক্রম।
অফিসিয়াল পাসপোর্ট জালিয়াতি অনুসন্ধান :
অফিসিয়াল পাসপোর্ট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাসপোর্ট অধিদফতরের তৎকালীন এক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জামিন নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে দুদক কার্যালয়ে ডেকে এনে হাতকড়া পরান সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তা। শুধু গ্রেফতারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকেও অনুরোধ জানানো হয় পাসপোর্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার। সেই আলোকে ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ২০১৭ সালের অক্টোবর ওই কর্মকর্তাকে করা হয় স্থায়ী বরখাস্ত। যদিও অফিসিয়াল পাসপোর্ট জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগটি প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাসপোর্টের তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) এসএম নজরুল ইসলাম, পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) মুন্সি মুয়ীদ ইকরাম, প্রশাসনিক শাখার সহকারী পরিচালক মো. নূরুল হুদা এবং প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাদিরা আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। কিন্তু তৎকালীন কমিশন পরিচালক এসএম নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করেনি। গ্রেফতারও করেনি। বরং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সুযোগ করে দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে নামকাওয়াস্তে একটি মামলা করা হয় তাও দেশত্যাগের অনেক পরে। পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম একাধিকবার দেশে এলেও তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়নি।

যদিও দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ভুয়া অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) ভিত্তিতে এসএম নজরুল ইসলাম ৮টি অফিসিয়াল পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করেন। এগুলোর সিরিয়াল যথাক্রমে : ১১২১৫৪২, ২১২১৫৫০, ৭১২৬৬৩১, ৭১২৫৯৯৭, ৬১২৭১২৭, ৪১২২২৫৪, ৮১০৯২৬৪ এবং ২১২৫৮৯৯ নম্বর। জালিয়াতির মাধ্যমে এসব অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যুর ব্যবস্থা করেন পরিচালক নজরুল ইসলাম নিজেই। প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাদিরা আক্তার গ্রহণ করেন একটি ভুয়া অফিসিয়াল পাসপোর্টের আবেদন (ওসি ২১২৫৮৯৯)। প্রতিবেদনে বলা হয়, নাদিরা আক্তার পাসপোর্টের আবেদনপত্র গ্রহণের দায়িত্বে না থেকেও ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে আবেদনপত্র গ্রহণ করে মোহাম্মদ মামুনকে ভুয়া ও জাল এনওসি ব্যবহার করে সাধারণ পাসপোর্টকে অফিসিয়াল পাসপোর্টে রূপান্তর করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। তার এহেন কার্যকলাপ, দুর্নীতি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা, নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ স্বেচ্ছাচারিতা, স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর তথা বাংলাদেশ সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করা, অসদাচরণ, অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নাদিরার গ্রহণকৃত আবেদনের পাসপোর্টটি ডেলিভারির ক্ষেত্রেও হয় অনিয়ম। প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার তৎকালীন সহকারী পরিচালক নূরুল হুদা ডেলিভারি সিøপে স্বাক্ষর দিয়ে নিজেই জাল পাসপোর্টটি গ্রহণ করেন। নূরুল হুদার বিরুদ্ধে দুদক নিছক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ পাঠিয়ে দায়মুক্তি দেয়া হয়। পরে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তাকে ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রাইজপোস্টিং দেয়া হয়। উচ্চমান সহকারী মো. শাহজাহান মিয়া এবং মো. সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সহকারী পরিচালক এস এম শাহজামানের বিরুদ্ধে।

এর আগে দুদকে অনুসন্ধানাধীন অবস্থায় ২০১৮ সালে নাদিরা আক্তারকে পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রদানের তোড়জোর শুরু হয়। দুদক এ সময় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেনি। বরং ‘বিভাগীয়ব্যবস্থা’ নেয়ার সুপারিশ করে [(স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০১.০২.০২২.১৬.৪০১৬/১(২),তারিখ : ০২/১২.২০১৮)] একপ্রকার দায়মুক্তি প্রদান করে। একই আদেশে দায়মুক্তি দেয়া হয় তৎকালীন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. নূরুল হুদাকেও। চাকরিচ্যুতিতো দূরের কথা, তারা এখন চাকরি করছেন বহাল তবিয়তে। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, অফিসিয়াল পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের, গ্রেফতার, কারাভোগ এবং স্থায়ী বরখাস্ত করা হয় শুধুমাত্র মুন্সি মুয়ীদ ইকরামকেই।

ভারতীয় নাগরিককে পাসপোর্ট প্রদান :
ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেয়ার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে পাসপোর্টের অন্তত ১৩ কর্মকর্তাকে। গত ৩ জানুয়ারি এক আদেশে দায়মুক্তি দেয়া হয় সবাইকে। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ভারতীয় নাগরিক হাফেজ আহম্মেদের নামে পাসপোর্ট ইস্যু এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল।

দায়মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শিহাব উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ডা. শারমিন আরা বেগম, পাসপোর্ট অধিদফতরের ডেমোগ্রাফি শাখার উপ-পরিচালক হালিমা খাতুন শম্পা, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. ইসমাইল হোসেন, উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) তারিক সালমান, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আজিজুল ইসলাম, সিস্টেম এনালিস্ট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঞা ও তার স্ত্রী শাফিনাজ আক্তার, মাগুরা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাসরিন পারভীন নূপুর এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের উপ-সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সফিকুল ইসলাম। এছাড়া পাসপোর্টের সহকারী মেইটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার কানিজ ফাতেমা চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান ও সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ রানাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অথচ অভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গতবছর সেপ্টেম্বরে পাসপোর্টের ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় দুদক। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, সহকারী পরিচালক মো. আবজাউল আলম, সাময়িক বরখাস্ত অফিস সহায়ক রঞ্জু লাল সরকার ও হুমায়ুন কবির, রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের তৎকালীন উচ্চমান সহকারী ও আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন, ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর আলমাস উদ্দিন, রেকর্ড কিপার মো. ইব্রাহিম হোসেন, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আব্দুল ওয়াদুদ। মামলাটির প্রধান আসামি ভারতীয় নাগরিক হাফেজ আহমেদ সউদি আরব চলে যাওয়ায় চার্জশিটে তার নাম রাখা হয়নি।

দুই মহাপরিচালকদের দুর্নীতি-ভিন্ন ব্যবস্থা : মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রকল্পের প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। এমআরপি প্রণয়নে ২০১৩ সালে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সঙ্গে ইংল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি ‘ডি-লারু’র চুক্তি হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী প্রতিটি পাসপোর্ট বইয়ে ৫২টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (সায়েন্সল্যাব)-এর ল্যাব টেস্টে ধরা পড়ে ৫২টি নয় ৩২টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে বর্তমান এমআরপি পাসপোর্টের। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ছাড়াই সরবরাহ করা হয় এমআরপি পাসপোর্ট বই। এ ঘটনায় শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে এমআরপির প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন অবস্থায়ই প্রকল্প পরিচালক মাসুদ রেজোয়ানকে বসানো হয় বহির্গমণ ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক পদে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণের প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন তৎকালীন উপ-পরিচালক (বর্তমানে পরিচালক) ফরিদ আহম্মেদ পাটোয়ারি। তিনি মাসুদ রেজোয়ানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার রুজুর সুপারিশ দিয়ে প্রতিবেদন দেন। এর পরপরই তাকে শাস্তিমূলকভাবে প্রেষণে পাঠিয়ে দেয়া হয় নদী কমিশনে। তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মাসুদ রেজোয়ানের দুর্নীতির অনুসন্ধান ধামাচাপা দেন। পক্ষান্তরে মাসুদ রেজোয়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল পাসপোর্টের পূর্ববর্তী মহাপরিচালক, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজি আবদুল মাবুদের। ইকবাল মাহমুদ মাসুদ রেজোয়ানের পক্ষ নেন। মাসুদের, রেজোয়ানের ফাইল ধামাচাপা দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন আব্দুল মাবুদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পাসপোর্টে মাসুদ রেজোয়ানের সমপর্যায়ের (১১শ’ কোটি টাকার দুর্নীতি) কোনো দুর্নীতির রেকর্ডপত্র আব্দুল মাবুদের পাওয়া যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাবুদের সম্পদ অনুসন্ধানের দিকে ধাবিত হয় দুদক। একটি ‘অনুসন্ধান’ দেখিয়ে ২০২১ সালের ১৬ জুন আবদুল মাবুদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ঠুকে দেন ইকবাল মাহমুদ। এতে আসামি করা হয় মাবুদের স্ত্রী নাসিমা খানকেও। উভয়ের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

পাসপোর্ট অধিদফতরের দুর্নীতি প্রশ্নে দুর্নীতিবিরোধী একমাত্র রাষ্ট্রীয়সংস্থার দ্বৈত অবস্থান একটি দৃষ্টান্তমাত্র। এমন উৎকট দ্বৈতনীতির ভুরিভুরি দৃষ্টান্ত রয়েছে, দৃষ্টান্ত বিআইডব্লিইটিএ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্যশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা খাত, সড়ক ও জনপথ, সিভিল এভিয়েশন, পেট্টোবাংলা, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বীমা খাত, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মতো সেবা খাতের দুর্নীতির বিষয়েও।

দুদকের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশ্নে দুদক ব্যক্তি বিশেষে বিভিন্ন ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে। এর মধ্যে রয়েছে নানা মাত্রিক হিসাব-নিকাশও। দুর্নীতির মাত্রা কিংবা পরিমাণগত বিষয় এখানে গৌণ। মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে দুদকের পদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পর্ক, তদবির, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং বহুমাত্রিক স্বার্থ।

অভিন্ন অপরাধে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশ্নে দুদক সচিব ও মুখপাত্র মো. মাহবুব হোসেন বলেন, সচরাচর এমনটি হওয়ার কথা নয়। কারণ, দুর্নীতির প্রশ্নে কমিশন আপসহীন। দুর্নীতি সংঘটিত হলে আইনত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিশেষের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণের কোনো সুযোগ এখানে নেই। অপরাধ তফসিলভুক্ত হলে এবং প্রমাণাদি পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হয় না। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন