ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মুহাররম ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

দক্ষিণাঞ্চলে মৌশুমের বৃষ্টিপাতে জনজীবন শিক্ত কুয়াশা কাটিয়ে তাপমাত্রা নামল

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:১৭ পিএম

মাত্র ৪৮ঘন্টার ব্যাবধানে শেষ রাতের ঘন কুয়াশা কাটিয়ে বৃষ্টি ঝড়িয়ে তাপমাত্রার পারদ নেমে গেছে দক্ষিনাঞ্চলে। সোমবার রাতের শেষ প্রহর থেকে মেঘের গর্জনের সাথে হালকা বৃষ্টিপাতে শিক্ত হয় দক্ষিনাঞ্চল। সকাল ৬টা পর্যন্ত ২মিলিমিটার এবং ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আরো ৭.৬মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বরিশালে। সাথে প্রায় ২০কিলোমিটার বেগের বাতাসে বরিশাল মহানগরী সহ দক্ষিনাঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকাতেই বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সরবারহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার আগেই সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে খুলনা বরিশাল ও ভেড়ামাড়া থেকে বরিশালমুখি জাতীয় গ্রীড লাইনে গোলযোগের কারনে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। সকালে সোয়া ১১টার পরে গ্রীড সাব-স্টেশন ও ৩৩কেভী সাব-স্টেশগুলোতে স্টেশন লোড পৌছলেও সাড়ে ১১টার পরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সোমবার সকালের ফল্গুনের বর্ষন রবি ফসল সহ বোরো ধানের জন্য যথেষ্ঠ উপকারী বলে মনে করছেন কৃষিবীদগন। এর ফলে গত দিন তিনেকের অসময়ের গুমোট গরম ভাবও কেটে গেছে। তাপমাত্রার পারদ মাত্র ২৪ঘন্টার ব্যাবধানে গতকাল সকাল ৬টায় ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও হৃাস পায় যথেষ্ঠ। রবিবার পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা সংলগ্ন কলাপাড়াতে তাপমাত্রা ছিল দেশের সর্বাধীক ৩৩.২ডিগ্রী সেলসিয়াস। বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৫ ডিগ্রী।
এবার পৌষে সম্প্রতিককালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পরে। গত ২৯ডিসেম্বর বরিশালে এযাবতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬.৫ডিগ্রী সেলসিয়াস। কিন্তু মাঘের শুরুতেই শীত বিদায় নিয়ে বসন্তের আমেজ ছড়িয়ে পরে দক্ষিনাঞ্চলে। তবে মাঘের মাঝে এসে একবার মৃদু শৈত্য প্রবাহে আবার তাপমাত্রার পারদ ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কিছুটা নিচে নামলেও তা স্থায়ী হয়নি। দিন কয়েকের মধ্যেই তাপমাত্রা আবার ১৪ ডিগ্রীর ওপরে উঠে যায়। ফাল্গুনের শুরু থেকে তাপমাত্রা বেড়ে ১৬Ñ১৮ ডিগ্রীতে ওঠানানামা করে। এমনকি গত কয়েকটি দিন শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারী এবং ঘন কুয়াশায় দক্ষিনাঞ্চলের নদ-নদী অববাহিকা সহ বিস্তির্ণ এলাকা ঢেকে থাকলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪Ñ৬ডিগ্রী সেলসিয়াস ওপরে ছিল। গত রবিবার সকালেও বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ডিগ্রী সেলসিয়াস। কিন্তু গতকাল শেষ রাতের বৃষ্টিপাতের প্রভাব সকাল ৬টায় তাপমাত্রা নেমে যায় ১৬ডিগ্রীতে। সকাল ৯টার মধ্যে বৃষ্টিপাত বন্ধ হলেও ১০টায় এরিপোর্ট পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত ঠান্ডার আমেজ ছিল দক্ষিনাঞ্চল যুড়ে। এমনকি গত দিন দশেক যাবত দিনের বেলা কাউকেই শীতের কাপড় পড়তে দেখা না ঘেলেও আজ তা আবার ফিরে এসছে।
দক্ষিনাঞ্চলে এবার সাম্প্রতিককালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সত্বেও আগেভাগে শীত বিদায় নিয়ে শেষ রাত থেকে মাঝারী ও ঘন কুয়াশার সাথে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের যথেষ্ঠ ওপরে থাকায় জনস্বাস্থ্য সহ মওশুমী ফল ও রবি ফসলের ওপর নানা ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিককালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় এবার দক্ষিনাঞ্চলে রেকর্ড সংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে। এদের বেশীরভাগই বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালেই মারা গেছে। কয়েক দফার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরী’র কবলে পড়ে। এমনকি কয়েক দফার মাঝারী থেকে তীব্র শৈত্য প্রবাহের পরে গত কয়েক দিনের শেষ রাতের ঘন কুয়াশায় আম ও লিচু সহ বিভিন্ন মৌশুমী ফলের মুকুল ঝড়ে যাচ্ছে। শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলা সহ বিভিন্ন রবি ফসলের গুনগত মান বিনষ্ট হয়েছে। এমনকি শাক সবজির ওপরও যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব পড়ে।
গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছিল সড়ক, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ। আবহাওয়া বিভাগের মতে, ফেব্র“য়ারী মাসে বরিশাল অঞ্চলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা যথাক্রমে ২৯ ডিগ্রী ও ১৪.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কিন্তু ইতোমধ্যে বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ৩২ ডিগ্রী এবং পটুয়াখালীতে ৩৩ ডিগ্রীর ওপরে উঠে গেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের প্রায় ৬ডিগ্রী সেলসিয়াস ওপরে ২১ডিগ্রীর কাছে পীডে ওঠানামা করছে।
আবহাওয়া বিভাগের মতে,পশ্চিমা লঘুচাপরে বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌশুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আগামী কয়েকটি দিন বরিশাল সহ উপক’লীয় অঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন এরাকায় বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টি সহ শীলা বৃষ্টির সম্ভবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। পাশাপাশি সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি সহ দিনের তাপমাত্রা ২৪ডিগ্রী সেলসিয়াস হৃাস পাবার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন