ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মিরাজ শব্দটি কী বলে

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

চলমান দুনিয়ার মানুষ ‘মিরাজ’ শব্দটির সাথে কম বেশি সকলেই পরিচিত। বিশেষ করে বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের হৃদয়ের মণিকোঠায় ‘মিরাজ’ নামটি একটি ইতিহাস, একটি আখ্যান ও একটি আলোর মশাল হয়ে অবিরত আলোর বন্যা প্রবাহিত করে চলেছে। যার নৃত্য-চপল ছন্দ ধারায় অনুরণিত হচ্ছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সা.-এর প্রতি দরুদ ও সালাম ‘আস সালাতু, আস সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ’-এর সুর মূর্ছনা।
আরবী ‘মিরাজ’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে- সিঁড়ি, ঊর্ধ্বগমন আরোহণ। আরবী বর্ণমালা আইন, রা, জীম-ধাতু হতে শব্দটির উৎপত্তি। ‘মিরাজ’ শব্দটি একবচন, বহুবচন হলো ‘মায়ারিজ। আর ইসলামী পরিভাষায় হযরত মুহাম্মাদ সা.-এর মক্কার মাসজিদুল হারাম হতে বায়তুল মাকদিসে (জেরুজালেম) উপনীত হওয়া এবং সেখান হতে সপ্তকাশ ভ্রমণ করে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের গভীর সান্নিধ্যে উপস্থিত হওয়ার ঘটনাকে ‘মিরাজ’ বলে। হাদিস শরীফে এই ঘটনার জন্য ‘ফাউরিজা বি ইলাস সামাইদ দুনইয়া’ অর্থাৎ অতঃপর আমাকে নিয়ে নিকটতম আকাশে উঠলেন শব্দাবলী উল্লিখিত হয়েছে। (সহীহ বুখারী : কিতাবুস সালাত)।
লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আরবী ‘মিরাজ’ শব্দে পাঁচটি বর্ণ রয়েছে। যথা: মীম, আইন, রা, আলিফ ও জীম। এই পাঁচটি বর্ণের মর্ধে চারটি বর্ণ যথা: মীম, আইন, রা এবং জীম একই সমতলে অবস্থিত। কিন্তু আলিফ বর্ণটি উচ্চমানে বা ঊর্ধ্বপানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। এই পাঁচটি বর্ণকে আদ্যাক্ষর ধরে পাঁচটি সত্তা বা ব্যক্তিত্বের সন্ধান করলে মিরাজ শব্দের আসল রূপ বা পূর্ণাঙ্গ চিত্র অতি সহজেই অনুধাবন করা যায়। আসুন, এবার সেদিকে লক্ষ্য করা যাক।
ক. ‘আলিফ বর্ণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন ‘আল্লাহ।’ আল্লাহ শব্দের আদ্যাক্ষর আলিফ। মোটকথা, আল্লাহই হলেন মিরাজ ঘটনার মূল সংগঠক। কেননা আল কোরআনের সূরা ইসরা বা বাণী ইসরাঈলের ‘আসরা’ শব্দটি একথায়ই সাক্ষ্য বহন করে।
খ. ‘জীম’ বর্ণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হযরত জিব্রিলে আমীন ফিরিশতা। যিনি মিরাজ ঘটনার বৃহদংশের সাথে জড়িত ছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালার মর্জি মোতাবেক মিরাজের সুষ্ঠু সম্পাদনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
গ. ‘মীম’ বর্ণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সা.। তার জন্যই আল্লাহপাক মিরাজের এতসব আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সূরা বাণী ইসরাঈলে আল্লাহপাক তাঁকে নাম ধরে ডাকেননি। বরং সম্মান সহকারে ‘বি আবদিহী’ শব্দযোগে সম্বোধন করেছেন। এখানে পরিপূর্ণ আবদিয়াতের সুনির্মল ফুলঝুরির স্বর্ণালী রূপচ্ছটা প্রতিনিয়তই বিকশিত হয়ে চলেছে।
ঘ. ‘আইন’ বর্ণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আইনান অর্থাৎ স্বশরীরে অথবা ‘বি আইনিহি’ জাগ্রতাবস্থায়। মিরাজের ঘটনার অদ্যোপন্ত সাধিত হয়েছিল বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা.-এর স্বশরীরে উপস্থিতিতে এবং জাগ্রত অবস্থায়। এ ব্যাপারে কষ্ট কল্পনার কোনো প্রয়োজন নেই।
ঙ. ‘রা’ বর্ণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন রাসূল বা রাসূলুল্লাহ সা.। যিনি খাতামুন নাবিয়্যিন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যেদুল মুরসালীন। তিনি প্রকৃতই ছিলেন এবং আছেন রিসালাত ও নাবুওতের সর্বোচ্চ শৈল শিখরে অধিষ্ঠিত এবং আল্লাহপাকের মাহবুব হিসেবে বরিত ও সম্মানীত। তার মর্যাদা ও সম্মানের বাস্তব ঘটনাবলীর সমাহারই হলো মিরাজ।
এই আলোচনার নিরিখে মিরাজের ঘটনার সংজ্ঞা বা পরিচিতির ছক এভাবে আঁকা যায় যে, মহান আল্লাহ শানুহু হযরত জিব্রিলে আমীন ফিরিশতাকে হুকুম করলেন, ‘হে জিব্রাঈল, তুমি আমার মাহবুব হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. কে সশরীরে জান্নাতবস্থায় আমার সন্নিধানে আগমন করার যোগার-যন্ত্র করা, যেন আমি তাকে আমার নির্দেশনাবলী প্রত্যক্ষভাবে দর্শন করার সুযোগ দান করে কৃতার্থ হতে পারি।’ সূরা বাণী ইসরাঈলের ১নং আয়াতের অংশ ‘লিনুরিয়াহু মিন আইয়াতিনা’ এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করছে।
উপরোল্লিখিত নাতিদীর্ঘ আলোচনার সার নির্যাসের প্রতি গভীর দৃষ্টিতে তাকালে একথা সহজেই হৃদয়ঙ্গম করা যায় যে ‘মিরাজ’ শব্দটি নিজেই স্বীয় পরিচয়, ব্যাপ্তি, পরিধি ও হাকিকতকে আঁকড়ে ধরে আছে। সুবহানাল্লাহ। এখানে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের কুদরত, জ্ঞানবত্তা ও অসীম মহিমার যে প্রাণবন্ত রূপ ফুটে উঠেছে, তর শেষ কোথায়, তা কেবল তিনিই জানেন। কেননা, তিনিই সকল জ্ঞান সংরক্ষণ করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
বুলবুল আহমেদ ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:৩৮ এএম says : 0
জগৎসমূহের পরিচালক আল্লাহ যেকোনো সময় যেকোনো ঘটনা ঘটাতে পারেন। তার নিজের কথাতেই, তিনি যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন ‘হও’ এবং তা হয়ে যায়। এখন এ ধরনের ঘটনা আমাদের দৃশ্যজগতের প্রাকৃতিক ঘটনাবলির নিয়মে ঘটে থাকে নাকি এমন নিয়মে যা আল্লাহই জানেন, কিন্তু আমরা জানতে পারি না।
Total Reply(0)
তানবীর ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:৪৬ এএম says : 0
আমাদের প্রিয়নবী (সা.)-এর মুজিজাসমূহের মধ্যে পবিত্র মিরাজ অন্যতম। এটি এমনই একটি ঘটনা, যার সঙ্গে রয়েছে ইমানের গভীরতম সম্পর্ক।
Total Reply(0)
কামরুজ্জামান ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:৪৮ এএম says : 0
মিরাজ মানবজাতির জন্য সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, আধ্যাত্মিক- এক কথায় ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গল সাধন করেছে।
Total Reply(0)
মুতীউর রাহমান ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:৪৯ এএম says : 2
শুধু হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনেই নয় গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে মিরাজের ঘটনা একটি বিস্ময়কর ঘটনা। মিরাজের মাধ্যমে হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে এই পার্থিব জীবনে মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে। যে সম্মান এর আগে ও পরে অন্য কাউকেই দেয়া হয়নি। কিয়ামতের ময়দানে শাফায়াতের সুযোগদানের মাধ্যমে তাকে আবার সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করা হবে। কোনো নবী-রাসূল বা নিকটতর ফেরেশতাই যে উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি, মিরাজে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে ছিলেন। আল্লাহতায়ালার দিদার লাভ করেছিলেন।
Total Reply(0)
আফজাল কবীর ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:৫০ এএম says : 1
বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নতি মিরাজের সত্যতাকেই বারবার প্রমাণ করেছে। ভবিষ্যতে আরও করতে থাকবে। মিরাজকে কেন্দ্র করে গবেষণা অব্যাহত রাখলে বিজ্ঞানীরা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবেন নিঃসন্দেহে। তাতে ঈমানদারদের ঈমান-বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে।
Total Reply(0)
সফিক আহমেদ ২০ মার্চ, ২০১৯, ২:৫০ এএম says : 0
মিরাজ সম্পর্কে হুজুর অনেক সুন্দর ব্যাখা দিয়েছেন।
Total Reply(0)
সাইফ ২০ মার্চ, ২০১৯, ৯:৫৭ এএম says : 0
জনাব মুন্সী সাহেব ও ইনকিলাব সংশ্লিষ্ট সকলকে অনেক ধন্যবাদ, এবং আল্লাহ্‌ আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান প্রধান করুন। যেমন জ্ঞ্যান গর্ব বিষয় তেমনি জ্ঞ্যান গর্ব লেখা।
Total Reply(0)
Muhammad Jalal Ahmed ২০ মার্চ, ২০১৯, ৭:০৩ এএম says : 0
জগৎসমূহের পরিচালক আল্লাহ যেকোনো সময় যেকোনো ঘটনা ঘটাতে পারেন। তার নিজের কথাতেই, তিনি যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন ‘হও’ এবং তা হয়ে যায়। এখন এ ধরনের ঘটনা আমাদের দৃশ্যজগতের প্রাকৃতিক ঘটনাবলির নিয়মে ঘটে থাকে নাকি এমন নিয়মে যা আল্লাহই জানেন, কিন্তু আমরা জানতে পারি না।
Total Reply(0)
Muhammad Jalal Ahmed ২০ মার্চ, ২০১৯, ৭:০৪ এএম says : 0
শুধু হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনেই নয় গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে মিরাজের ঘটনা একটি বিস্ময়কর ঘটনা। মিরাজের মাধ্যমে হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে এই পার্থিব জীবনে মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে। যে সম্মান এর আগে ও পরে অন্য কাউকেই দেয়া হয়নি। কিয়ামতের ময়দানে শাফায়াতের সুযোগদানের মাধ্যমে তাকে আবার সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করা হবে। কোনো নবী-রাসূল বা নিকটতর ফেরেশতাই যে উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি, মিরাজে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে ছিলেন। আল্লাহতায়ালার দিদার লাভ করেছিলেন।
Total Reply(0)
DR. Jahangir Miah ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১:৪৫ এএম says : 0
Bismillahir Raḥmānir Raḥīm – All Praise be to Allah. We praise Him, seek His help and ask for His forgiveness. Dear Sisters and Brothers, As Salaam Aleikum wa Rahmatullahi wa Barakatuh. (May Allah's Peace, Mercy and Blessings be upon all of you). In the month of Rajab, Miraj or the Night of Journey carries great significance in Islam. Allah S.T. declared four of the twelve Hijri months are considered sacred: Rajab (7), and the three consecutive months of Dhū al-Qa'dah (11), Dhu al-Ḥijjah (12) and Muḥarram (1) and also called "SHAHAR UL HARAM" Meaning of Miraj. Miraj - The event of Meraj followed Isra. The Israa and Miraj refer to, two parts of a miraculous journey that Prophet Muhammad took in one night from Makka to Jerusalem and then an ascension to the heavens. Meaning of Miraj. Miraj is an Arabic name = “route of ascent”, “place of ascent”, “ladder”, “stairs”. In my Question About Miraj - We know that Human being don't enter Hellfire or Jannah before the day of Judgement. But when Prophet S.A went with Angel Gabriel A.A. to heavens, it is also narrated that he visited Hell and saw people being punished there. How did those people enter Hell before Judgement Day? (According to the account in the Quran, the miraculous Israa, or Night Journey, began when Angel Gabriel visited Muhammad S.A. in Mecca before Muhammad and the Muslims immigrated to Medina). I hope InsaAllah, there is millions of more knowledgeable lovely Ummah of Prophet S.A. batter then I, and can answer beautifully. However, I'll let share my opinion. Allah is All-Powerful and all source of Power and He can do whatever He likes. Now, for a human to go to Heaven before Judgement Day is something that should not be confused. SubhanAllah!!!Nothing absolutely nothing is impossible for our Almighty Allah; Prophet Muhammad S.A. saws went there by the will of Allah, Allah S.T. just says 'Be' and it is, nothing is impossible for Him. One thinks confirmed that, all that happened/happens/will happen is recorded already in the Book of Allah S.T and written even before everything was made, then why wouldn't it be possible for the prophet of Allah S.T to have a glimpse of Jannah and Jahanam. The Isra and Miraj travel is a miracle in itself. Allah S.T showed His Prophet S.A what would happen in the Hereafter, so that he saw it with his own eyes or in his heart. That includes things that the Prophet of Allah saw on the night of the Mi’raaj of things that would happen in Paradise or in Hell. The great Shaykh Imam, Judge and scholar - ‘Al-Qaadi Iyad ibn Musa’ (1083–1149) - said: “It may be understood as meaning that he saw it with his own eyes, as Allah showed it to him and lifted the barrier between him and it, as He showed him al-Masjid al-Aqsa when he described it. Let’s go another Hadith, Messenger of Allah S.T. Saw a dream - As in the hadeeth of Abu Hurayrah R.A. according to which the Prophet S.A. said to Bilaal R.A. at the time of Fajr prayer: “O Bilaal, tell me of the best deed you have done in Islam, for I heard the sound of your sandals in front of me in Paradise.” SubhanAllah. I like to finish with praise to Allah and by His grace. May Allah send blessings and utmost, abundant greetings upon our Master Leader Muhammad S.A. and his Family and his Companions, and praise belongs to Allah the Supreme Judge of “Maliki Yaowi Middin” _ Ameen. Servant of Allah – Your brother and well-wisher in Islam - DR. Jahangir Miah
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন