ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৭ মাঘ ১৪২৭, ০৭ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

উলিপুর হাটের জমি দখল করে পজেশন বিক্রি

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৩১ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

উলিপুর পৌর হাটের জমি প্রকাশ্যে দখল করে পজেশন বিক্রির মহা-উৎসব চলছে। ফলে দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে পড়ছে হাট, কমছে সরকারি রাজস্ব আয়। কিছু রাজনৈতিক ব্যবসায়ী, ভুইফোর সংগঠন ও ভূমি খেকো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এ দখল প্রক্রিয়ায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ দখলের কারনে ধান ও পাট হাট রাতারাতি উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রধান রাস্তার ওপর বসছে ধান,পাটসহ বিভিন্ন হাট। 

পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর পৌর হাটের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি (চান্দিনা জমি) ২৫৫, ১৬৮ ও ১৬৭ সহ ৩৩টি দাগের প্রায় ১৫ একর জমির ওপর হাট প্রতিষ্ঠিত হলেও দখল হতে হতে বর্তমানে মাত্র ৫.৯৫ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে একসনা লীজ দেয়া হয়েছে ২.৯৫ একর। যা থেকে বছরে রাজস্ব আয় হয় ৭ লাখ টাকা, কিন্তু নীতিমালা মোতাবেক উক্ত লীজ থেকে কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা। এছাড়া লীজ গ্রহীতারা লীজের পরিমানের চেয়ে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশী জমি দখল করেছে এবং লীজ আইন ভঙ্গ করে পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের একটি সূত্র জানায়, এসব জমির লীজমানি (সালামী) ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ শত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা বর্তমান লীজ আইনের লংঘন। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী লীজমানি সালামী নির্ধারণ না হওয়ায় সরকার বছরে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এদিকে বাকি ৩ একর জমিও গত ২ বছরে অবৈধভাবে দখল করে ৮৫টি কাঁচা পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করে লীজের জন্য আবেদন করেছে। উক্ত ৮৫টি অবৈধ ঘরের মধ্যে ৪৫টি ঘর উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে উপজেলা রাজস্ব অফিস। কিন্তু অনুমতি মিলছে না উচ্ছেদও করা যাচ্ছে না। এসব অবৈধভাবে দখলকৃত জমি এক শ্রেনীর ভুমি খেকো ব্যবসায়ী ক্রয় করে তাদের নামে লীজের আবেদন করেছে পৌর ভূমি অফিসে। অভিযোগ উঠেছে অবৈধ দখল প্রক্রিয়ার সাথে ভূমি অফিসের এক শ্রেনীর কর্মকর্তা কর্মচারি সরাসরি জড়িত। ফলে দখলদার সিন্ডিকেট এতটা বেপরোয়া যে খোদ পৌর ভূমি অফিস ও রাজস্ব অফিসের সামনের গেট পর্যন্ত অবৈধ দখলের বিস্তৃতি ঘটেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজস্ব বিভাগের স্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারি হাটের জমি দখল করে নিজ নামে লীজ গ্রহন করেছেন। পৌর ভূমি অফিস সূত্র জানায়, কথিত ষ্টোর কোম্পানীর (১৯৪৭ সালে বিলুপ্ত) নামে ১৬৬ /১৬৭ দাগের লীজকৃত ৩৪ শতক জমি (বানিজ্যিক জমি) জনৈক শেখ আব্দুল আউয়ালের নিকট থেকে ক্রয় করেন প্রকৌশলী মন্জুরুল হক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নামীয় একসনা লীজকৃত ২১ বর্গ মিটার জমির পজেশন ক্রয় করেন ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম ও সাবেক কাউন্সিলর কায়ছার আলীর নামীয় ১৬৮ দাগের ১০ বর্গফুট দোকান ঘরের পজেশন, আব্দুল মজিদ ক্রয় করে তার নামে লীজ পরিবর্তনের আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া সাবেক তহসিলদার আব্দুল হাকিমের পুত্র দুদু পারভেজ ১৬৮ দাগের ৩১ শতক জমি ৮৫০ টাকা সালামীতে লীজ নিয়ে পাকা ইমারত নির্মাণ করেছেন। মৃত এছাহক মোল্লার নামীয় ২৫৫/২৮৩ দাগের ৯ শতক এবং তার পুত্র মনির হোসেন ২৫৫/২৮৩ দাগের ১৮ শতক লীজ নিয়ে লীজ আইন ভঙ্গ করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করায় পৌর ভূমি অফিস লীজ বাতিল করে উচ্ছেদের তালিকাভুক্ত করে সালামী নেয়া বন্ধ রেখেছেন। যার মিস কেস নং ১২/৭০ ভিপি পরিত্যক্ত। সংশ্লিষ্ট অফিস জানায়, নামমাত্র লীজমানি দিয়ে কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি কয়েক বছর ধরে দখলে রেখেছেন তারা। অথচ নতুন লীজ নীতিমালা অনুয়ায়ী এসব জমির লীজমানি (মূল্য) ১৮ হাজার থেকে ৫৪ হাজার টাকা।
এদিকে, কাচারী বাড়ীর খাস খতিয়ান ভুক্ত ২৫৫ দাগের ৭.২৪ একর জমির মধ্যে ১.৭৪ একর জমি রাজস্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুস ছাত্তার বকশি, নজরুল ইসলাম, গনি মিয়া ও মজিদ অডিটরসহ বেশ কয়েকজন অবৈধভাবে দখল করে অবকাঠামো নির্মাণসহ ভোগদখল করে আসছেন। লীজকৃত দোকান ঘর ক্রয়কারি আব্দূল মজিদ জানান, সাবেক কাউন্সিলর কায়ছারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকায় ঘরটি কিনেছেন এবং লীজের নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে পৌর ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, এ সব একসনা লীজ (এক বছরের জন্য) নিয়ে চলছে বছরের পর বছর। কিন্তু লীজমানির রেট পরিবর্তণ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অনুমতি চাওয়া হয়েছে । অনুমতি পেলে কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। খাস জমি সংক্রান্ত ২টি মামলা থাকায় কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন