ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আমানত এবং দিয়ানতদারী

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

পারস্পরিক লেনদেন কর্মকান্ডে যে নৈতিক মূল্যবোধ ও মর্যাদা কেন্দ্রীয় আসনের সাথে সম্পৃক্ত তা হচ্ছে দিয়ানতদারী এবং আমানত। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে এই যে, মানুষ নিজস্ব কায়-কারবার ও ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি সামগ্রিক ক্ষেত্রে ঈমানদার হোক এবং যার নিকট যে পরিমাণ আমানত গচ্ছিত আছে তা দিয়ানতের সাথে অণু-পরমাণু পর্যন্ত প্রত্যর্পণ করবে, এই কর্মকান্ডকে আরবীতে আমানত বলে। মহান আল্লাহপাক নিজের শরীয়ত ভিত্তিক বাধ্যবাধকতাকে যা তিনি মানবজাতির ওপর সোপর্দ করেছেন, তাকেও আমানত শব্দের দ্বারা বিশ্লেষণ করেছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই আমি আমার আমানতকে আকাশসমূহের ওপর এবং যমিনের ওপর এবং পর্বতের ওপর উপস্থাপন করেছিলাম, কিন্তু সেগুলো তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে এবং তাকে ভয় করতে থাকে এবং মানুষ যে আমানতের বোঝা ধারণ করে। নিঃসন্দেহে তারা ছিল জালেম এবং মূর্খ।’

এই আয়াত হতে সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে, আল্লাহর দেয়া এই পরিপূর্ণ শরীয়ত তার প্রদত্ত নেয়ামত বিশেষ। যা আমরা মানুষের ওপর সোপার্দ করা হয়েছে। এ জন্য আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে এই যে, আমরা এই আমানত মোতাবেক স্বীয় মালিক ও অধিপতির পরিপূর্ণ হক হক আদায় করব। এ ক্ষেত্রে এমনটি কখনো হতে পারে না যে, আমরা এই আমানতের খেয়ানত করব।

আল্লাহপাকের ফেরেশতামন্ডলী যারা তার পয়গামসহ আল্লাহর নির্দিষ্ট বান্দাদের ওপর অবতীর্ণ হবেন, তারাও আমানতের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতেন। যাতে করে আল্লাহপাকের নিকট হতে তার বান্দাদের প্রতি যেসব নির্দেশ আসত সেখানে কম-বেশি ছাড়া সেই নির্দেশ বান্দাদের কাছে পৌঁছানো হতো।
এ জন্য আল কোরআনে ফেরেশতাদের আল-আমীন নামে বিভ‚ষিত করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘এই পয়গাম নিয়ে আমানতদার রূপ অবতীর্ণ হয়েছে।’ অন্য এক জায়গায় বলা হচ্ছে, ‘তার কথা মান্য করা যায়, সেখানে আমানতদার অবস্থিত।’

অধিকাংশ পয়গাম্বরের গুণ বর্ণনা প্রসঙ্গেও আল কোরআনে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। পয়গাম্বরগণ নিজ নিজ পরিচয় স্বীয় উম্মতদের কাছে ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য আমানতদার বার্তাবাহক।’ এর মর্ম হচ্ছে এই যে, আল্লাহপাকের নিকট হতে যে পয়গাম আমি লাভ করেছি তা যথাযথভাবে তোমাদের নিকট আমি পৌঁছে দিচ্ছি। এর সাথে আমার তরফ থেকে কোনো কিছুই মিলানো যাচ্ছে না এবং এর কম-বেশিও করা হচ্ছে না।

রাসূলুল্লাহ সা.-কে নবুওয়াত লাভের আগে মক্কার অধিবাসীরা আল-আমীন খেতাবে ভ‚ষিত করেছিলেন। কেননা, তিনি স্বীয় কাজকর্মে দিয়ানতদার ছিলেন। যে ব্যক্তি যা কিছু তার কাছে গচ্ছিত রাখত, তিনি সেই গচ্ছিত আমানত যথাযথই প্রত্যাবর্তন করতেন। আমানতি দ্রব্যে তিনি মোটেও হস্তক্ষেপ করতেন না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (11)
মনিরুল ইসলাম ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৫ এএম says : 0
আরবি ‘আমানত’ শব্দের অর্থ গচ্ছিত রাখা, নিরাপদ রাখা। পরিভাষায়— কারও কাছে কোনো অর্থসম্পদ, বস্তুসামগ্রী গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়। যিনি গচ্ছিত বস্তুকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে সংরক্ষণ করেন, যথাযথভাবে হেফাজত করেন এবং মালিক চাওয়ামাত্রই কোনো টালবাহানা ছাড়া ফেরত প্রদান করেন তাকে আল-আমিন তথা বিশ্বস্ত আমানতদার বলা হয়।
Total Reply(0)
সোয়েব আহমেদ ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৬ এএম says : 0
যে গুণাবলির কারণে মানুষ সমাজে গ্রহযোগ্যতা বা বিশ্বস্ততা অর্জন করতে সক্ষম হয় আমানতদারিতা তার মাঝে অন্যতম।
Total Reply(0)
সাইফ আহমেদ ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৬ এএম says : 0
আমানতের প্রচলন জীবনের সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিটি স্তরে প্রতিটি বিষয়ে আমানত রক্ষা করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Total Reply(0)
মিরাজ আলী ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৬ এএম says : 0
আমানতদার মানুষ বলতে বিশ্বস্ত এবং নির্ভেজাল একজন মানুষের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে আমানতদারিতা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, আর যারা আমানত ও প্রতিশ্র“তি রক্ষা করে, যারা সাক্ষ্যদানে অটল এবং নিজেদের নামাজের ব্যাপারে যত্নবান, তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতে
Total Reply(0)
মোঃ নাজমুল ইসলাম ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৭ এএম says : 0
একজন মুসলমান হিসেবে, শেষ নবির উম্মত হিসেবে আমাদের সবার ওপর একান্ত নৈতিক দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমানতদারিতার চর্চা করা।
Total Reply(0)
মামুন ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৭ এএম says : 0
কোরআন-সুন্নাহর আমলের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত আমানতদার হিসেবে কবুল করুন।
Total Reply(0)
লোকমান ৯ জুলাই, ২০১৯, ১০:১১ এএম says : 0
আমরা জানি, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি আমানত ও অঙ্গীকারের প্রতি যত্নবান ছিলেন আমাদের প্রিয় রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তার পবিত্র জীবনে এমন কোনো ঘটনা নেই যেখানে কেউ বলতে পারবে তিনি আমানতের খেয়ানত বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন। এই রাসূলের অনুসরণেই আমরা আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করতে পারি।
Total Reply(0)
Sarwar kamal ৯ জুলাই, ২০১৯, ১০:৪৮ এএম says : 0
As a nation from top to bottom level leader should bear in mind we have to go under soil and accountable to Allah if this sense grow in our mind our haj and other related prayer to be granted to allah
Total Reply(0)
রিফাত ৯ জুলাই, ২০১৯, ১০:১০ এএম says : 0
ইসলামে আমানত রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'আর যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকারের প্রতি যত্নবান' (সূরা আল মুমিনুন, আয়াত :৮)।
Total Reply(0)
সালমান ৯ জুলাই, ২০১৯, ১০:০৯ এএম says : 0
আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলার তৌফিক দান করুন।
Total Reply(0)
রাসেল ৯ জুলাই, ২০১৯, ১০:০৮ এএম says : 0
মুমিনের কাছে সর্বাপেক্ষা উত্তম সম্পদ হলো আমানতদারিতা। তাই মুমিন আমানতদারিতা রক্ষা করতে সদা সচেষ্ট থাকে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন