ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

বায়তুল্লাহ তাওয়াফ নবীগণের সুন্নাত

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

বাইতুল্লাহ চতুর্দিকে সাতবার চক্কর দেয়াকে ব্যবহারিক ভাষায় তাওয়াফ বলে। তাওয়াফ করা এবং সাত চক্কর প্রদক্ষিণ করা আম্বিয়ায়ে কেরামের তরিকা এবং সুন্নাত। নিম্নে উল্লিখিত বর্ণনাবলীর দ্বারা এর বিস্তারিত অবস্থা জানা যায়। (ক) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, সর্বপ্রথম বাইতুল্লাহর ভিত্তি স্থাপনকারী, এতে নামাজ আদায়কারী এবং এই গৃহের তাওয়াফকারী ছিলেন হজরত আদম আ.। (আজরাকী : আখবারে মক্কা ওয়ামা জ্বাআ ফিহা মিনাল আছার, খন্ড ১, পৃ. ৩৬, ৫০; সয়ূতী : আদদুররুল মানছুর ফিত তাফছিরে বিল মাছুর, খন্ড ১, পৃ. ৩৩) (খ) ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, আমার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে হজরত আদম আ. পৃথিবীতে ইবাদত করার জন্য জান্নাতের মতো পরিবেশ না পেয়ে চিন্তান্বিত হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত (ফেরেশতাদের দ্বারা) তার জন্য বাইতুল হারাম নির্মাণ করেছিলেন এবং তাকে সেখানে গমন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং তিনি মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন। পথে যেখানে তিনি অবস্থান করতেন সেখানে আল্লাহপাক পানির বন্দোবস্ত করে দিতেন। এভাবে তিনি মক্কা পৌঁছে গেলেন এবং সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করলেন এবং বাইতুল্লাহর নিকটে আল্লাহর ইবাদত করলেন এবং সেই গৃহের তাওয়াফে নিমগ্ন হলেন। সুতরাং আল্লাহর ঘর সেখানেই রইল এ পর্যন্ত যে আল্লাহপাক তার রূহ সেখানেই কবজ করলেন। (আজরাকী : আখবারে মক্কা ওয়ামা জ্বাআ ফিহা মিনাল আছার, খন্ড ১, পৃ. ২৯; ইবনে আছাকির : তারিখে দামেস্কিল কবীর, খন্ড ৭, পৃ. ৪২৫; মুকাদ্দাসি : আলবাদউ ওয়াততারীখ খন্ড ৪, পৃ. ৮২।) (গ) হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. হজরত কায়াবুল আহবার রা. এর নিকট বাইতুল্লাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালা ইহাকে হজরত আদম আ.-এর সাথে ইয়াকুত দ্বারা আচ্ছাদিত অবস্থায় নাজিল করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন হে আদম, আমি তোমার সাথে এই ঘর নাজিল করলাম। যেভাবে আমার আরশের চতুর্দিকে তাওয়াফ করা হয়, তদ্রæপ ইহার চতুর্দিকেও তাওয়াফ করা হবে। যেভাবে আমার আরশের চতুর্দিকে নামাজ আদায় করা হয়, সেভাবে এই ঘরের চতুর্দিকেও নামাজ আদায় করা হবে। বাইতুল্লাহর সাথে ফেরেশতাগণও আবতরণ করেছিলেন। যারা এই ঘরের ভিত্তি পাথরের ওপর স্থাপন করেছিলেন। তারপর সেই ভিত্তির ওপর বাইতুল্লাহকে রেখে দেয়া হয়েছিল। মোট কথা হজরত আদম আ. এই গৃহের চতুর্দিকে এভাবেই তাওয়াফ করতেন যেভাবে আরশের চতুর্úাশ্বে তাওয়াফ করা হয় এবং ইহার নিকট এভাবেই নামাজ আদায় করতেন যেভাবে আরশের চতুর্শ্বে নামাজ আদায় করা হয়। (আজরাকী : আখবারে মক্কা ওয়ামা জ্বাআ ফিহা মিনাল আছার, খন্ড ১, পৃ. ৩৯) (ঘ) হজরত আদম আ. ছাড়াও কয়েকজন আম্বিয়ায়ে কেরাম বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করেছিলেন। মশহুর তাবেঈ মুজাহিদ বিন যুবাইর হজ আদায়কারী আম্বিয়ায়ে কেরামের সংখ্যা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ৭৫ জন আম্বিয়ায়ে কেরাম হজ আদায় করেছেন এবং তারা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। (আজরাকী : আখবারে মক্কা ওয়ামা জ্বাআ ফিহা মিনাল আছার, খন্ড ১, পৃ. ৬৭; ফাকেহি : আখবারে মক্কা ফি কাদিমিদ দাহরি ওয়া হাদিছিহি, খন্ড ৪, পৃ. ২৬৮, বর্ণনা সংখ্যা ২৫৯৯) এ কথা স্মরণ রাখা দরকার যে, তাওয়াফের সময় সাত চক্কর লাগানো আম্বিয়ায়ে কেরামের সুন্নাত। যার বিস্তৃত অবস্থা নিম্নলিখিত বর্ণনাগুলোর দ্বারা জানা যায়।

(ঙ) ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আবি সুলায়মান বর্ণনা করেছেন, যখন হজরত আদম আ. পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, তখন তিনি বাইতুল্লাহর চতুর্দিকে সাত চক্কর প্রদক্ষিণ করলেন। (আজরাকী : আখবারে মক্কা ওয়ামা জ্বাআ ফিহা মিনাল আছার, খন্ড ১, পৃ. ৩২০) (ছ) হজরত ইব্রাহিম আ. এবং হজরত ইসমাঈল আ.-এর কাবা শরিফ তাওয়াফ সম্পর্কে ইমাম মোহাম্মদ বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, হজরত ইব্রাহিম আ. যখন কাবাগৃহ নির্মাণ শেষ করলেন, তখন জিব্রাঈল আ. তার নিকট হাজির হলেন এবং আরজ করলেন, এর চতুর্দিকে সাত চক্কর প্রদক্ষিণ করুন। তখন হজরত ইব্রাহিম ও হজরত ইসমাঈল আ. বাইতুল্লাহর চতুর্দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করলেন। (আজরাকী : আখবারে মক্কা ওয়ামা জ্বাআ ফিহা মিনাল আছার, খন্ড ১, পৃ. ৬৫)

সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের পরে রাসুলুল্লাহ সা.-এর আগমন ঘটল। তখন পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরামের সুন্নাত অপরিবর্তিত রেখে তিনিও তাওয়াফের প্রাক্কালে বাইতুল্লাহর চতুর্দিকে সাত চক্কর প্রদক্ষিণ করলেন। (জ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বর্ণনা করছেন, হুযুর নবীয়ে আকরাম সা. মক্কা তাশরিফ আনলেন এবং তিনি বাইতুল্লাহর চতুর্দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করলেন। (সহিহ বুখারী : কিতাবুল হজ, বাবু মানছাল্লা রাকাআতাই তাওয়য়েফ খালফাল মাকামি, খন্ড ২, প. ৫৮৮, বর্ণনা সংখ্যা ১৫ ৪৭; আজরাকী : প্রাগুক্ত, খন্ড ২ পৃ. ৫৯৩, বর্ণনা সংখ্যা ১৫৬৩)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
সফিক আহমেদ ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৪:১৭ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সুন্নাত পালন করার তৌফিক দান করুক।
Total Reply(0)
সফিক আহমেদ ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৪:১৭ এএম says : 0
লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
Total Reply(0)
Billal Hossain ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৯:৫৬ এএম says : 0
সামর্থবান মুসলমানদের জন্য হজ একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত। হজের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অনেককেই বিভ্রান্তির শিকার হতে দেখা যায়। সে কারণে হজের পূর্বে ও হজে থাকাকালীন হজের বিধি-বিধান সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
Total Reply(0)
সফিক আহমেদ ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৯:৫২ এএম says : 0
তাওয়াফের অনেক ফজিলত রয়েছে। সে কারণেই তাওয়াফ যেন সঠিক এবং সহিহ হয়ে সে জন্য তাওয়াফের নিয়ম-কানুন জানা জরুরি।
Total Reply(0)
MD Akash ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৯:৫২ এএম says : 0
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দরভাবে বিশ্বনবির মতাদর্শ অনুযায়ী পবিত্র কাবা শরিফকে সহিহভাবে তাওয়াফ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Total Reply(0)
Naim Uddin ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৯:৫২ এএম says : 0
পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ হজ ও ওমরার জন্য ফরজ কাজ। হজ ও ওমরাকে সঠিক ও পরিপূর্ণ করতে হলে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা আবশ্যক।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন