ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মিসওয়াকের গুরুত্ব ও উপকারিতা

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী | প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

দাঁত আল্লাহপাকের এক বিশাল অনুগ্রহ এবং মানব দেহের অত্যাবশ্যক অঙ্গ। আর এটাই মুখমন্ডলের সৌন্দর্যের নিশ্চয়তা দানকারী। দাঁত খাদ্যকে গুড়ো করে পাতলা করে দেয়। তারপর এই খাদ্য মুখের লালার সাথে মিশ্রিত হয়ে পেটে চলে যায় এবং অতি সহজে পরিপাক হয়ে উঠে। দাঁত পরিষ্কার না থাকাতে দাঁতে ও দাঁতের মাড়িতে নানানধরনের রোগ দেখা দেয়। তথাপি চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে পাকস্থলী নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্য ভালোভাবে পরিপাক লাভ করতে পারে না।

এমনিভাবে দেহ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, পরে বিভিন্ন ব্যাধির শিকার হতে হয়। এই জন্যই বর্তমান বিশ্বে আমেরিকা ও অন্যান্য উন্নত দেশ দন্ত চিকিৎসার গবেষণায় উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। এসব দেশে রেডিও টেলিভিশনের মত প্রচার মাধ্যমগুলোতে দাঁত যত্মের বিভিন্ন উপায় নিয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। দাঁত ও দাঁতের মাড়ির নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, শল্যচিকিৎসা এবং অন্যান্য খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে থাকে এসব দেশ।

যেমন ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯৫৭ সালের এক রিপোর্ট মতে জানা যায় তাদের দেশে দাঁত ও মাড়ির চিকিৎসার ওপর ৫৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। আর ১৯ আগস্ট ১৯৬০ ইংরেজীতে এক সংবাদে প্রচার করা হয়েছে। আরব দেশসমূহে ছাত্রদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২৮ হাজার ডলারের টুথব্রাশ এবং মাজন বাজেট করা হয়েছে।

কিন্তু বিশ্বনবী সা. মিসওয়াকের শিক্ষার দ্বারা দাঁতের উজ্জ্বলতা রক্ষণের যে সহজ-সরল পথ বাতলে দিয়েছেন, তা বর্তমানেও একই প্রভাব রেখে যাচ্ছে, যেমনটা ইতোপূর্বে রেখেছিল। এক পবিত্র বাণীতে রাসূল সা. বলেন, যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হবে বলে আমি মনে না করতাম, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক তাদের ওপর আবশ্যক করে দিতাম। (সহীহ মুসলিম : ১/১২৮)।

অন্য একটি হাদীসে মিসওয়াকের অনেক উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ: মিসওয়াক করার দ্বারা মুখগহ্বা পরিষ্কার হয়। দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। পাকস্থলী ঠিক থাকে, ফেরেশতারা খুশি হয়, আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হয় এবং আমলনামায় সওয়াব বাড়তে থাকে। (কাঞ্জুল উম্মাহ : ৯/৩১৪)।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে অনেক লোক এখন টুথব্রাশ ব্যবহার করে। অথচ চিকিৎসকদের মতে এগুলো অনেক ক্ষতিকর। একটি ব্রাশ বারবার ব্যবহার করার দ্বারা বিষাক্ত জিবাণু সৃষ্টি হয়। কারণ ব্রাশ ক্ষয় হয় না; কিন্তু মিসওয়াক যতবার ব্যবহার করবে, ততবার ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। এমনকি ব্রাশের পশম শক্ত হওয়ায় বারবার ব্যবহার করায় জিহ্বায় ও মাড়িতে ক্ষত দেখা দেয়া স্বাভাবিক।

এই আশঙ্কাটি মিসওয়াকের মধ্যে নেই, কারণ তার আঁশগুলো নরম ও কোমল হয়। আর মিসওয়াকের পশম অতি কোমল ও পাতলা হওয়ায় এবং ব্রাশের পশম একটু মোটা হওয়ায় মিসওয়াক দ্বারা যত সহজে দাঁতের ময়লা-মরিচা পরিষ্কার করা সম্ভব, ব্রাশের দ্বারা তা সম্ভব নয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
MD ABUL KASHEM ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৯:২৬ এএম says : 0
মিসওয়াক করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। মিসওয়াক করার মাঝে রয়েছে ইহ ও পরকালীন কল্যাণ ও উপকারিতা।
Total Reply(0)
মাহিন আদনান ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৫ এএম says : 0
এক সাহাবি হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, রসুল সাল্ল­­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম যখন ঘরে আসেন সর্বপ্রথম তিনি কী করতেন? হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রসুল সাল্ল­­াল্ল­­াহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে আসতেন, তখন সর্বপ্রথম তিনি মিসওয়াক করতেন।
Total Reply(0)
মোঃ জামান হোসেন জন ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৬ এএম says : 0
হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্ল­াল্ল­াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল­াম যখন রাতে নামাজ পড়ার জন্য উঠতেন, তখন মিসওয়াক করতেন।
Total Reply(0)
জাকির আহাম্মেদ উইসুফ ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৬ এএম says : 0
প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করা কত বড় ফজিলতপূর্ণ কাজ
Total Reply(0)
হাঃমাওঃ শিব্বির আহমদ হাবিবী ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৭ এএম says : 0
অজু ও নামাজের সময়গুলোতে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। যেমন, দাঁত হলদে ও ময়লাযুক্ত হলে। মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হলে। নিদ্রা থেকে ওঠার পর। সফর থেকে আসার পর। কোরআন তিলাওয়াতের প্রাক্কালে। দীর্ঘ সময় চুপ থাকলে। দীর্ঘ সময় কথা বললে। খাবারের পর। দুর্গন্ধযুক্ত খাবার ভক্ষণের পর। বেশি কথাবার্তা বলার পর।
Total Reply(0)
তাইজুল ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৩:৫৭ এএম says : 0
খুবই উপকারী লেখা, ধন্যবাদ ইনকিলাবকে
Total Reply(0)
মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৯:২৬ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদের মেসওয়াকের গুরুত্ব অনুধাবন করে এর উপর আমল গড়ার তাউফিক দান করুন। আমীন
Total Reply(0)
Md Harun al Rashid ২২ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪৭ পিএম says : 0
লেখাটির জন্য জনাব বাবু নগরীর প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রিয় রসুল (সঃ)এর প্রদর্শিত ও পরিপালিত ব্যবস্হা সর্বকালে সকল মাপকাঠিতে উত্তীর্ন বলেই ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন বিধান। মেশওয়াক ব্যবহারে বিশেষ করে মুসমানদের উদ্ভুদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ।কিন্তু ইসলামি আকিদার এমন বহু গুরুত্বপূর্ন বিষয়াবলী আছে যা জনাব বাবু নগরীর মত ইসলামি পন্ডিত ব্যক্তির নিকট আশা করা যায়।Gnostic বিষয়ে কবিয়াল, বয়াতি, তথাকথিত আশেকে রসুল (সঃ) ইত্যাদিরা সাধারন মুসলমাদের পেরেশানি ও বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। এমনকি তথা কথিত মাওলানা নামের বক্তারাও কম যায় না। আশাকরি জনাব বাবু নগরী ভবিষৎতে ঈমান ও আমলের উপর বেশি বেশি লিখবেন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন