ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বিমান কিনব

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ড্রিমলাইনার গাঙচিল উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ককপিটে বসেন -ফোকাস বাংলা


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার গাঙচিল যেন ভালোভাবে ডানা মেলে উড়তে পারে, সবাই যত্ন নেবেন। বিমানের সুনাম বাড়াতে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি বিমানের সুনাম বৃদ্ধি, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং যে বিমানগুলো আমরা এনে দিচ্ছি সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, এটা সবার দায়িত্ব। কারণ এটা নিজের দেশের ও নিজস্ব সম্পদ। সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটা প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখন যায় বিমানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে চিনবে, জানবে, সম্মান করতে পারবে। গতকাল ফিতা কেটে ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষ্যে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর বিমানের ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পাইলট এবং ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি সবাইকে বলবো আন্তরিকতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারা এটি পরিচালনা করবেন। কারণ হচ্ছে আজ দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, দেশের উন্নতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সবাই সুন্দর জীবন পাবেন, সুখীভাবে চলতে পারবেন।

নতুন বিমান কেনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে আমরা বিদেশ থেকে টাকা ধার করতাম। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের (দেশীয়) ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বিমান কিনবো, যেন অন্যের কাছ থেকে আমাদের ধার না নিতে হয়। অর্থাৎ আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। পরবর্তী সময়ে আমরা প্রয়োজন অনুসারে আরও বিমান কিনবো। আমি চাচ্ছি দুটি কার্গো বিমান নেওয়ার জন্য। আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির জন্য কার্গো বিমান আমরা কিনবো। বিমানের রুট বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, বোয়িং থেকে আমাদের নবম প্লেন এলো। আরেকটা এলে ১০টি হবে। কাজেই বোয়িং থেকে আমরা ১০টি বিমান কিনলাম। তবে এখনও আমরা আমেরিকা যেতে পারছি না। আশা করি খুব শিগগির এই সমস্যার সমাধান হবে। যে বিমানগুলো কেনা হয়েছে, এগুলো সরাসরি আমেরিকা যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমরা চেষ্টা করছি লন্ডনে আরও সøট বৃদ্ধি করতে। এছাড়া অন্যান্য দেশেও চেষ্টা করছি। আমাদের যাত্রীসেবা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

অনুষ্ঠানে বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারহাত হাসান জামিল বলেন, বিকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আবুধাবি যাওয়ার মধ্য দিয়ে এ উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে। বিমানের চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার রাজহংস আসবে ১২ সেপ্টেম্বর।

গত ২৫ জুলাই দেশে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’। কোনোরকম যাত্রাবিরতি ছাড়াই সিয়াটল থেকে সরাসরি ঢাকায় এসে অবতরণ করে বিমানটি। এর মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টিতে। ১২ সেপ্টেম্বর ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার রাজহংস যোগ হলে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ১৬। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করে। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ।

চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দু’টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানকে সরবরাহ করে বোয়িং। ১২ সেপ্টেম্বর চুক্তির আওতার সর্বশেষ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমানবহরে যোগ হবে। বিমান বহরে থাকা ১৫টি উড়োজাহজের মধ্যে ৯টি বিমানের নিজস্ব। বাকি উড়োজাহাজগুলো বিভিন্ন মেয়াদে লিজে সংগ্রহ করা। বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজের নামকরণ করা হয়েছে। ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজের নাম রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে। এগুলো হলো পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।

২৭১ আসনের বোয়িং ৭৮৭-৮ গাংচিল ড্রিমলাইনারটিতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস রয়েছে। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ড্রিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ভ্রমণ করতে পারবেন । এছাড়া, প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিক এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে বøকবাস্টার চলচ্চিত্র।

অন্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানি-সাশ্রয়ী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় গড়ে ৬৫০ মাইল বেগে বিরতিহীনভাবে ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Mayen Uddin ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
Biman should order another 15/20 new planes now, from both Airbus and Boeing. It takes long time to get deliveries. Biman can be a very profitable business if it can be run correctly and without much corruptions. Restrictions on all other airlines to pass through and pick up passenger from Dhaka must be removed immediately so that we can develop Dhaka as a flying hub for South east Asia connecting Europe and Asia. It has a huge potential because of our location with respect to Western China and direct route to North East China/Korea and Japan. Singapore is the main hub now, but we have the advantage of cutting up to 2 hours flying time for those regions coming from Europe.
Total Reply(0)
Ataullah Sadi ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
বাংলাদেশ বিমান একটি ভয়াবহ স্থবির, জরাগ্রস্থ, দুর্নীতি তে আপাদমস্তক নিমজ্জিত দেউলিয়া প্রতিষ্ঠান।
Total Reply(0)
Reza Mahmud ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
শুভ কামনা রইল
Total Reply(0)
Ahammad Ulla ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
আমার মনে হয় নতুন ৭৮৭ বিমান শুধু বাংলাদেশে আছে আর কোন দেশের কাছে নেই, মিডিয়ায় যা মাতামাতি করে, বিশ্বে অনেক বড় বড় প্রজেক্ট উদ্ভোধন হয়, মিডিয়ায় এতো শোরগোল দেখা যায় না। এক কথায় তেলবাজ মিডিয়া।।
Total Reply(0)
Saidur Rahman ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
দুবাই প্রবাসীদের দাবি ঢাকা দুবাই রুটে একটি বড় বিমান দেওয়া হোক
Total Reply(0)
Engr Raju Islam ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ১:৩৭ এএম says : 0
দরজা ভেঙ্গে যাবে কবে আবার???আমরা তো অন্য দেশের পুরোনো বিমান গুলো অল্প দামে কিনে নতুন বলে চালিয়ে দেই..
Total Reply(0)
Halim ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৯:৫২ এএম says : 0
thanks a lot to PM sheikh hasina
Total Reply(0)
Mamun ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৯:৫৩ এএম says : 0
Go ahead. We all are with you
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন