ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী জীবন

স্থাপত্য নির্মাণে ইসলাম ও বিজ্ঞানের নির্দেশনা

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০৪ এএম


তিন
অট্টালিকা নির্মাণ বৈধ না হলে রাসূলুল্লাহ স. কখনো নবী-রাসূলগণকে এবং মুসলিমদেরকে অবৈধ ও হারাম একটি জিনিসের সাথে তুলনা করতেন বলে মনে হয় না। ইসলামী শিল্পকলার কিছু কিছু পাঠক মনে করেন, বাড়িঘর ইত্যাদি সুনিপুণভাবে নির্মাণ করা, কারুকার্যময় করা, উচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করা ইসলামী শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ ইসলাম দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতাকে অপছন্দ করে। ইসলাম মুসলিমদেরকে ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে ইবাদত-বন্দেগীতে ব্যস্ত হতে আহবান জানায়। কাজেই ইসলাম প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘরবাড়ি তৈরি এবং তাতে কারুকার্য করতে নিষেধ করে।
ইমাম কুরতুরী রহ. বলেন, উচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ অনেকেই মাকরূহ বলে মনে করেন। এ মত পোষণকারীগণের মধ্যে বিশিষ্ট তাবি’ঈ আল-হাসান আল-বাসরী (২১-১১০ হি.) রহ. অন্যতম। ‘‘ইমাম কুরতুরী, আল-জামি’লি-আহকামিল কুরআন, প্রাগুক্ত, খ. ৭, পৃ. ২৩৯-২৪০।’’ তাঁরা নবী স. এর নিম্নোক্ত হাদীসগুলো দ্বারা দলিল দিয়ে থাকেন।
আল্লাহ কোন বান্দাহকে অপদস্থ করতে চাইলে তখন তার সম্পদ বাড়ি-ঘর, পানি ও মাটিতে ব্যয় করেন। ‘‘ইমাম বায়হাকী, শু’আবুল ঈমান, বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১০ হি., হাদীস নং- ১০৭২০; হাদীসটির সনদ যঈফ (দুর্বল); আল-আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীছিয যঈফাহ ওয়াল মাওযূ’আহ ওয়া আছারুহাস সায়্যি ফিল উম্মাহ, রিয়াদ : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ, তা.বি., হাদীস নং- ২২৯৫।’’
অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. বলেন, যে ব্যক্তি তার প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি নির্মাণ করবে, কিয়ামত দিবসে সে তা তার ঘরের উপর বহন করে নিয়ে আসবে। ‘‘ইমাম তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর, মাওসিল : মাকতাবাতুল উলূমি ওয়াল হিকাম, ১৪০৪ হি./ ১৯৮৩ খ্রি., হাদীস নং- ১০২৮৭; হাদীসটির সনদ খুবই দুর্বল; আল-আলবানী, যঈফুত তারগীব ওয়াল তারহীব, রিয়াদ : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ, তা. বি., হাদীস নং- ১১৭৬।’’ ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, এটা আমারও অভিমত। কারণ রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, মুমিন যে অর্থই ব্যয় করে তার জন্য সে আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান পাবে। তবে বাড়ি-ঘরের নির্মাণের জন্য যা ব্যয় করে বা আল্লাহর নাফরমানী করতে গিয়ে যা ব্যয় করে তার জন্য সে কোন উত্তম প্রতিদান পাবে না। ‘‘ইমাম দারা কুতনী, আস-সুনান, অধ্যায় : আল-বুয়ূ‘, বৈরূত : দারুল মা‘রিফাহ, ১৩৮৬ হি./ ১৯৬৬ খ্রি., হাদীস নং- ১০১; হাদীসটির সনদ যঈফ (দুর্বল); আল-আলবানী, সিলতিলাতুল আহাদীছিয যঈফাহ ওয়াল মাওযূ‘আহ ওয়া আছারুহাস সায়্যি ফিল উম্মাহ, প্রাগুক্ত, হাদীস নং- ৮৯৮।’’
রাসূলুল্লাহ স. আরো বলেছেন, আদম সন্তানের জন্য কেবল এ জিনিসগুলো ছাড়া অন্য কিছু পাওয়ার হক নেই, বসবাসের জন্য একটি বাড়ি, সতর ঢাকার জন্য একটি পোশাক এবং রুটির টুকরা ও পানি। ‘‘ইমাম তিরমিযী, আল-জামি‘, তাহকীক : আহমাদ মুহাম্মদ শাকির ও অন্যান্য, অধ্যায় : আয-যুহদ, পরিচ্ছেদ : আয-য়িহাদাহ ফিদ্দুনয়া, বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছির আরাবী, তা. বি., হাদীস নং- ২৩৪১। হাদীসটির সনদ মুনকার; আল-আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীছিয যঈফাহ ওয়াল মাওযূ‘আহ ওয়া আছারুহাস সায়্যি ফিল উম্মাহ, প্রাগুক্ত, হাদীস নং- ১০৬৩।’’
কাইস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব ইবনুল আরত রা.-এর কাছে তাঁকে অসুখের সময় দেখতে গেলাম। তখন দেখলাম যে, তিনি তাঁর একটি দেয়াল তৈরি করছেন। তখন তিনি বললেন, ‘মুসলিমকে সব কাজের জন্য প্রতিদান দেয়া হবে, কেবল এ মাটিতে যা করে তা ব্যতীত।’ ইতিমধ্যে তার পেটে সাতবার আগুনের ছ্যাঁকা (থেরাপী) দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ স. আমাদেরকে মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতাম। (অপর বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে) তারপর বলেন, আমাদের যেসব বন্ধু মারা গেছেন তাঁদের দুনিয়ার কোন কিছু তাঁদের ক্ষতি করতে পারেনি। আমরা তাঁদের পরে এমন কিছু পেয়েছি যা রাখার জন্য এ মাটি ছাড়া আর কিছু পাই না। ‘‘ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায় : আল-মারযা, পরিচ্ছেদ : তামান্নাল মারীযি বিল-মাওতি, প্রাগুক্ত, হাদীস নং- ৪৬৭।’’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন