ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আমাদের বোধোদয় কবে হবে

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম | আপডেট : ১২:০৭ এএম, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা পত্রিকার পাতায় এসেছে, যা একদিকে যেমন মর্মান্তিক অন্যদিকে তেমনি উদ্বেগজনক। আমাদের তরুণসমাজের অধঃপতন সর্বগ্রাসী ভোগ-প্রবণতা শুধু তাদেরকেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে না; চারপাশের মানুষের জন্যও আতঙ্ক ও অশান্তি তৈরি করছে। তবে একটি চরম সত্য এই যে, এই পরিণতিগুলো অভাবিত নয়। পথিক যে গন্তব্যের দিকে পথচলা শুরু করে সেখানে পৌঁছে গেলে তার অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এ তো তার পথ চলারই অনিবার্য পরিণতি। পাশ্চাত্যের পুঁতিগন্ধময় সংস্কৃতিতে আমাদের গোটা সমাজ দূষিত ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্যের ভোগবাদ আমাদের মুসলিম দেশুগুলোতেও এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছে যে, এখন মুসলমানিত্বের পরিচয় খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। চিন্তা-চেতনা এবং আচরণ-উচ্চারণে পাশ্চাত্যের অনুগামিতাই প্রকট হয়ে উঠেছে। আর সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় এই যে, এই বিষয়গুলো এখন কারো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। এর অনিবার্য পরিণতি এই হয়েছে যে, পরিবার ও সমাজ এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিশু-কিশোররা নৈতিক উন্নতির কোনো উপাদান পায় না। একজন সৎ ও হৃদয়বান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য চরিত্র ও নৈতিকতার যে মজবুত ভীত রচনা করা প্রয়োজন, দুঃখজনভাবে আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থা ও সমাজ-ব্যবস্থায় তার কোনো আয়োজন নেই। সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কোনো আদর্শ শিক্ষার্থীদের সামনে নেই। ফলে তারা ভাষা ও কৌশল রপ্ত করছে, কিন্তু হৃদয়বৃত্তি ও চারিত্রিক পবিত্রতা তাদের মাঝে তৈরি হচ্ছে না। স্নেহ-মমতা, ক্ষমা ও সহনশীলতা এবং ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতার মতো গুণাবলি নিতান্তই সেকেলে ও অপ্রয়োজনীয়। পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় ভোক্তার প্রয়োজনটাই বড়। তাই আমাদের আরোপিত শিক্ষা-ব্যবস্থাও বিশ্ব-নিয়ন্ত্রক শক্তিদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই বাস্তবায়িত হচ্ছে। বস্তুত এই শিক্ষা-ব্যবস্থা একটি বিশাল ভোক্তা শ্রেণীই তৈরি করে যাচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরে ভোগবাদ এতই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, অসংযমের যূপকাষ্ঠে বলি হয়ে যাচ্ছে সকল নীতি ও নৈতিকতা এবং সকল মানবীয় গুণাবলি। অর্থবিত্ত এবং ক্ষমতা ও নারীসঙ্গই এখন সমাজের একটি বিশাল শ্রেণীর আরাধ্য হয়ে উঠেছে।

তবে এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় এই যে, প্রচার-প্রচারণার সকল উপকরণ সর্বোপরি গোটা সমাজ-ব্যবস্থা একযোগে এই ধারাকেই উৎসাহিত করছে। অন্য দিকে নীতি ও নৈতিকতা চর্চার যে ধারাটি ক্ষীণ হলেও স্বকীয় শক্তিতে প্রবহমান তারও উজানে বাঁধ দিয়ে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়ার সকল চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মিডিয়া ও প্রচারমাধ্যমগুলোর সর্বশক্তি নিয়োজিত করা হয়েছে সুনীতি ও সুস্থ জীবন বোধ চর্চার এই ধারাকে নিরুৎসাহিত ও নির্বাপিত করার জন্য। অবজ্ঞা ও অপবাদ এবং মিথ্যারোপ ও মিথ্যাচারের সকল অপকৌশল যেন উৎসর্গ করে দেয়া হয়েছে এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। একজন শিশু এই পরিবেশেই চোখ মেলছে এবং এই বিষাক্ত পরিবেশে তার দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটছে। চারপাশের এই যুগল ধারা থেকে তার হাতে খড়ি হচ্ছে ভোগবাদে এবং হিংস্রতায়। সে হয়ে উঠছে একজন হিংগ্র ও বুদ্ধিমান ভোগবাদী। এরই কিছু দৃষ্টান্ত যখন সংবাদপত্রে শিরোনাম হয় তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই। প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার পিতা-মাতার নিহত হওয়ার ঘটনা, কিংবা ‘বন্ধু’র হাতে বান্ধবী ও তার পিতা-মাতা কিংবা বন্ধুর হাতে বন্ধুর ছুরিকাহত হওয়ার সংবাদ অতি সম্প্রতি পত্রিকায় এলেও এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এ ধরনের ঘটনায় আমরা মর্মাহত হলেও অবাক নই। তবে আমরা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, খুব দ্রুত আমরা তা ভুলে যাবো। পেছনের দীর্ঘ ইতিহাস বলে; আমরা বড় বিস্মৃতিপ্রবণ জনগোষ্ঠী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Emtiaj Ahmed Shoheal ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:০০ এএম says : 0
শুকরিয়া, সুন্দর লেখা। এসব লেখা বেশি করে প্রচার করা দরকার।
Total Reply(0)
মনিরুল ইসলাম ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:০০ এএম says : 0
আমাদের বোধদয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। মানুষ সব ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
Total Reply(0)
নিশা চর ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:০১ এএম says : 0
য়েভাবে চারদিকে সককিছু ক্রমশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বোধদয় হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। মানুষ পশুর চেয়ে বর্বর হয়ে গেছে।
Total Reply(0)
কাজল খান ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:০২ এএম says : 0
মানুষ যেদিন েইসলামের কাছে ফিরে আসবে সেদিন বোধদয় হতে পারে তার আগে নয়।
Total Reply(0)
মেঘদূত পারভেজ ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:০২ এএম says : 0
মানুষের বিবেকে তালা লেগে গেছে, এজন্য কোনো কিছূতেই ওদের বিবেকে নাড়া লাগে না। ভোতা হয়ে গেছে।
Total Reply(0)
তাসলিমা বেগম ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:০৩ এএম says : 0
এই ধরনের পজিটিভ লেখা প্রকাশের জন্য ইনকিলাবকে ধন্যবাদ।
Total Reply(0)
Anwar ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:০৬ এএম says : 0
লেখক ও ইনকিলাবকে ধন্যবাদ।
Total Reply(0)
Anwar ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:৫৫ এএম says : 0
মানুষ যেদিন ইসলামের কাছে ফিরে আসবে সেদিন বোধদয় হতে পারে ,তার আগে নয়।
Total Reply(0)
Tariqul Islam ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:০৪ এএম says : 0
thanks to the writer
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন