ঢাকা, শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আল্লাহ শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

আল-কোরআনে মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল সকল প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর ন্যস্ত। (সূরা হুদ: আয়াত ৬)। এখন বুঝতে হবে, রিজিক কী? কাকে বলে? এ সম্পর্কে কয়েকটি সংজ্ঞা রয়েছে। যথা- (ক) মহান আল্লাহপাক তার সৃষ্টি জীবের প্রয়োজনে যেসকল বস্তুর ব্যবস্থা করেন, তারপর সৃষ্টিজীব তার দ্বারা উপকৃত হয়, তা-ই রিজিক। সুতরাং সকল সৃষ্টিই নিজ নিজ রিজিক গ্রহণ করে থাকে। (শারহুল মাকাসিদ : খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৫)। (খ) আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহপাক তোমাদের জন্য যে সকল বস্তুর ব্যবস্থা করেন, অনন্তর প্রাণী তা গ্রহণ করে জীবন পরিচালনা করে তা-ই রিজিক। আর তা কখনো কিছু সৃষ্টির জন্য হালাল হয় এবং কখনো কিছু সৃষ্টির জন্য হারাম হয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, আপেক্ষিকভাবে যা হারাম, তা-ও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, সৃষ্টি বিশেষের জন্য হালাল করা হয়েছে। (গ) কারো কারো মতে প্রাণী যা ভক্ষণ করে জীবন যাপন করে তাকে রিজিক বলে। তবে এ সংজ্ঞা হতে প্রথমোক্ত সংজ্ঞা উত্তম। কেননা, তৃতীয় সংজ্ঞায় রিজিকের সম্বন্ধ আল্লাহপাকের দিকে করা হয়নি। অথচ রিযিক বোঝাতে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধ থাকা বিশেষ ধর্তব্য। (শারহুল আকাইদ : পৃষ্ঠা ৯৫)।

উল্লেখিত, আলোচনার সারকথা এই যে, আল্লাহপাক নিজেই সৃষ্টিকুলের রিজিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এজন্য তিনি রাব্বুল আলামিন। রিজিকের হালাল ও হারাম হওয়া আপেক্ষিক ব্যাপার। যা এক সৃষ্টির জন্য হালাল, তা অন্য সৃষ্টির জন্য হারাম সাব্যস্ত হতে পারে। প্রত্যেক সচল মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ নিজের রিজিক নিজেই উপার্জন করে। একই সাথে পরিবার-পরিজন ও জনগণের কল্যাণের জন্যও তা থেকে ব্যয় করে। যেভাবে হালাল জিনিস রিজিক হতে পারে, তেমনি হারাম জিনিসও রিজিক হতে পারে। তাই দেখা যায়, মানুষ বিভিন্ন উপায়-উপকরণের দ্বারা যেমন হালাল উপার্জনের প্রতি যতœবান হয়, তেমনি হারাম উপার্জনের জন্য নানাবিধ উপায় বা পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। আর যারা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং আল্লাহপাককে রিযিকদানকারী বলে মানতে চায় না তারা প্রকৃতই কাফির। এই অপরাধের জন্য তারা প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে। এ প্রসঙ্গে কাজী আবু বকর বাকিল্লানি (রহ.) বলেন, কুফর হলো আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীকে অস্বীকার করা। কখনো কখনো অস্বীকৃতি বা জহুদকে অজ্ঞতাও বলা হয়। সুতরাং কুফরের অর্থ দাঁড়ায় অস্বীকার করা এবং অজ্ঞতার আবর্তে নিমজ্জিত থাকা। অবিশ্বাসী কাফির শ্রেণি এরই প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে।

প্রকৃতই আল্লাহপাক ‘রাজ্জাক’ (রিযিকদানকারী)। আল-কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ রিজিক দান করেন এবং তিনি প্রবল পরাক্রান্ত’। (সূরা যারিয়াত : আয়াত ৫৮)। আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি জগতের সকল কিছুকে রিযিক প্রদান করছেন। তিনিই উত্তম রিযিকদাতা। আল-কোরআনে এই বিশেষত্বটি এভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, ‘মারয়াম তনয় ঈসা বলল, হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক। আমাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্জা দান করুন, তা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দ উৎসব এবং তোমার নিকট হতে নিদর্শনস্বরূপ হবে এবং আমাদেরকে রিযিক দান করুন আপনিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকা দানকারী। (সূরা মায়েদা : আয়াত ১১৪)। তোমাদের জন্য রিজিক বা জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। আর তোমরা যাদের জীবিকদাতা নও তাদের জন্যও। (সূরা হিজর : আয়াত ২০)।

সূতরাং উল্লেখিত নাতিদীর্ঘ আলোচনার নিরিখে একথা স্পষ্টতই বলা যায় যে, যে বা যারা সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা, শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা, সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা, মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের এই গুণ ও সিফাতের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে তাদের শেষ ঠিকানা হবে জাহান্নাম। এর কোন ব্যত্যয় হবে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
মশিউর ইসলাম ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১:১০ এএম says : 0
রিজিক এর মালিক কে? মানুষ না অন্য কেউ? কোনো পির-মাশায়েখ কি রিজিকের মালিক? না কি অফিসের বস রিজিকের মালিক? কে আপনাকে আমাকে রিজিকের নিরবচ্ছিন্ন সরবারহ করেন। কখনইকি ভেবে দেখেছেন? আপনি এক বছরে কত টাকা আয় করবেন, কোন খাবার কতটুকু খাবেন— সব কিছুই এক আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। সকল প্রাণীর রিজিকের মালিক তিনি। কারো রিজিক কমানো-বাড়ানো সবই তাঁর এখতিয়ার। মানুষের রিজিক কমাতে মানুষ পারে না। যতটুকু আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, ততটুকুই কেবল মানুষ ভোগ করতে পারে।
Total Reply(0)
মোঃ তোফায়েল হোসেন ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১:১১ এএম says : 0
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ অসংখ্য জায়গায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, কেবল তিনিই রিজিকের মালিক। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছা তার রিজিক বর্ধিত করেন এবং যার জন্যে ইচ্ছা তা সীমিত করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। (সূরাআনকাবুত, আয়াত ৬২)।
Total Reply(0)
নীল আকাশ ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১:১২ এএম says : 0
হঠাত্ করে চাকরি চলে যেতে পারে। ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে। কিছুদিন পর আবার ব্যবসায় ব্যাপক উন্নতি হতে পারে। চাকরিতে হতে পারে প্রমোশন। এই উন্নতি অবনতিও আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।
Total Reply(0)
মিনহাজ উদ্দিন রিমন ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১:১২ এএম says : 0
প্রকৃতিতে কিছু প্রাণী আছে। যারা খাদ্য মজুদ করে না। প্রতিদিনই খাবার সংগ্রহ করে খায়। এই সব প্রাণীর রিজিকের দায়িত্বও আল্লাহর। তিনি এদেরকে না খাইয়ে রাখেন না। এ প্রসঙ্গে সুরা আনকাবুতে বলা হয়েছে— এমন কতো জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য মজুদ রাখে না; আল্লাহই রিজিক দান করেন তাদেরকে ও তোমাদেরকে এবং তিনি সর্বশ্রোতাসর্বজ্ঞ। (সূরা আনকাবুত,আয়াত ৬০)।
Total Reply(0)
বেলাল মাহমুদ ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১:১৩ এএম says : 0
আল্লাহ যদি কারো রিজিক বন্ধ করে দেন, তবে তা চালু করার শক্তি কারো নেই। আল্লাহ বলেন- এমন কে আছে যে তোমাদের রিজিক দান করবে, যদি তিনি রিজিক বন্ধ করে দেন? বস্তুত তারা অবাধ্যতা ও সত্য বিমুখতায় অবিচল রয়েছে। (সুরা মুলক, আয়াত-২১)।
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১:১৩ এএম says : 0
দুনিয়ায় সে যত বড়োই হোক না কেন। তার কাছে নয়। রিজিকের আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে।
Total Reply(0)
Rafiqul Chowdhury ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:৫৩ এএম says : 0
আল্লাহ্‌ একমাত্র রিযিকদাতা ।
Total Reply(0)
Omar ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ৩:২৮ পিএম says : 0
Masha Allah, Great Post, Many Thanks to Inqilab Management. Omar
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন