ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ০৩ রজব ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

সুন্দরের অধ্যাত্ম দেশ

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

একদিন গোলাম খাজা শাহ মোহাম্মাদ আরিফ রেওগারীর কমপ্লেক্স দেখতে। এ দেশের ইভেন্ট আয়োজকরা এতই সময়ানুবর্তী যে, আমরা বিদেশিরা তাদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারি না। ভ্রমণের আমির হযরতজী পীর জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী এবং দুনিয়ার বহু দেশের অন্য অনেক মাশায়েখ এমন টাইট কর্মসূচী ফলো করতে হাঁপিয়ে উঠছিলেন।

চীনের একজন বৃদ্ধ নকশবন্দী পীর একদল তরুণের মতো পরিশ্রমী আর আমাদের বাংলাদেশের প্রফেসর ড. আবদুস সালাম মিয়ার কোনো তুলনা হয় না। নবযুবকের মতো এই বর্ষীয়ান পীরও বার্ধক্যের পরোয়া করেন নি। আমাদের গাড়ি বহর এসে থামল কমপ্লেক্সের সামনের বিশাল পার্কিংয়ে।

তোরণের সামনেই নবনির্মিত হোটেল রেস্তোরা সরাইখানা। উজবেক সরকার হালাল খানা, পানীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাপনায় ইসলামিক ট্যুরিজম প্রজেক্টের আওতায় এসব সাইট ডেভেলপ করছে। মজার ব্যাপার হলো উজবেকরা আইন মেনে চলে। শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়্যাত রাখে।

মালয়েশিয়া, সউদী আরব, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপীয় অন্য কিছু দেশের মতোই পুলিশকে তারা সহযোগিতা করে। অন্য কথায়, আইন ও বিচারকে শ্রদ্ধা করে, ভয় পায়। সহজেই বোঝা যায়, উজবেকরা নতুন সময়ে বেশ উন্নতি করবে।

গাড়ি থেকে নেমে আমাদের সবাই বিশালায়তন ও নয়নজুড়ানো কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলাম। খাজা আরিফ রেওগারীর নাম ইতিহাসে পড়েছি। তরিকার শাজারানামায় পেয়েছি। তবে তার ঠিকানায় আসা হয়নি। এবারই প্রথম তার স্মৃতি বিজড়িত মাটিতে বেড়াতে আসা। অসাধারণ সুন্দর বাগান, পার্ক, সড়ক ও সমাধি সৌধ। অন্যসব বুজুর্গের কমপ্লেক্সের মতো এখানেও বাগানের মাঝে মাঝে কোরআন, হাদিস এবং সংশ্লিষ্ট ইসলামী স্কলারদের বাণী উৎকীর্ণ রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যটন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এসব ফলক পার্ক ও গার্ডেনে খুব সুন্দর করে লাগানো রয়েছে। একটি স্টান্ডের উপর একখানা খোলা কিতাবের মতো ইস্পাতের পাতে আরবি ইংরেজি ও উজবেক ভাষায় লেখা বাণী। চারপাশে কোরআন শরীফের পাতার ডিজাইন। সোনালি কারুকাজ। মাঝে লেখা।

মাজার ভবনে কোরআন, হাদিস ও কিতাবাদি রাখার রিহাল। বসার জন্য কাঠের লম্বা বেঞ্চি। অনেক জায়গায় কার্পেট ও সতরঞ্জি। ওজুর জায়গাগুলো অসাধারণ উন্নত। ব্যাগপত্র রাখার লকার, কোট চাদর ইত্যাদি রাখার হুক হ্যাংগার। ঠান্ডা গরম পানি। বসার আসনে ফোমের কুশন। হাত পা মোছার তোয়ালে। পা মোছার জন্য ভিন্ন তোয়ালে। সাথে সাথে ব্যবহৃত তোয়ালে ধোয়া ও শুকানোর ব্যবস্থা।

দর্শনার্থীদের সেবার জন্য নিযুক্ত কর্মীর পাশাপাশি স্থানীয় তরুণরা এসেও স্বেচ্ছা শ্রমে মুসাফিরদের খেদমত করছে। কী অসাধারণ আদব আখলাক। কত মনোহর তাদের বিনম্র আচরণ ও মায়াভরা সেবা। ইসলামী আখলাক মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। প্রকৃত মানুষ বানায়। সত্যিই আমরা অভিভূত।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Habib Ahsan ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১০:২৯ এএম says : 0
apnara sotti souvaggoban
Total Reply(0)
রিদওয়ান বিবেক ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১:৫৩ এএম says : 0
অনকে সুন্দর একটা ভ্রম কাহিনি।
Total Reply(0)
মশিউর ইসলাম ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১:৫৩ এএম says : 0
আপনার এই সফরকে আল্লাহ তায়ালা কবুল তরুন। আমিন
Total Reply(0)
রিদওয়ান বিবেক ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১:৫৪ এএম says : 0
আপনার ভ্রমণ অনেক সুন্দর হয়েছে।
Total Reply(0)
চাদের আলো ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১:৫৪ এএম says : 0
এখন এসব জায়গাগুলি দেখতে ইচ্ছে করছে।
Total Reply(0)
Batin Ahmed ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১০:২৮ এএম says : 0
Thanks to the writer
Total Reply(0)
Mahbub Rahman ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১০:২৯ এএম says : 0
এই পুরো ভ্রমনের বিষয়গুলো নিয়ে একটা বই বের করুন এই বই মেলায়
Total Reply(0)
নাঈম ১৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:৫৬ এএম says : 0
মনে হলো আর লিখে দিলাম! লেখার কোনো আগা-মাথা নেই। কোথা থেকে কোথায়, কোন দেশে কেন তার কোনো উল্লেখ নেই! খুব চেষ্টা করলে উজবেকিস্তান বলে ধারণা করা যায়; কিন্তু সেটাও ক্লিয়ার না!!
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন